Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মমতাকে দিল্লি যাওয়ার ‘পরামর্শ’ শুভেন্দুর! ‘তোমার দেখা নাই রে…’ শুভেন্দুর কটাক্ষে অভিষেকের পাল্টা

RK NEWZ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে হারিয়ে দেওয়ার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত পুরভোটই ‘পদ্মময়’ হতে চলেছে। একই সঙ্গে অভিষেককে নিশানা করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে এলাকায় আর দেখতেই পাওয়া যায় না। বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “গোটা জেলায় সমস্ত গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও পঞ্চায়েত ভোট করতে দেওয়া হয়নি। ২০১৪ সালের পর এই জেলায় আর কোনও অবাধ নির্বাচনই হয়নি। সাত লক্ষ ভোটে জিতেছে উনি, কিন্তু নির্বাচনের পর গত ছয় মাস তাঁকে কোথায় পাওয়া গেল? তোমার দেখা নাই রে, তোমার দেখা নাই!” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দল যদি সুযোগ দেয় তবে তিনি আগামী দিনেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়ে লড়বেন। শুভেন্দুর উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, “যত ভোটে আমি জিতেছিলাম তত ভোটে আমাকে হারিয়ে দেবেন বলছেন। জ্যোতিষী নাকি!” নির্বাচন কমিশন ও শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে অভিষেক আরও বলেন, “কী ব্যাপার, এখন কি জ্ঞানেশ কুমার (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) ক্ষমতায় আছেন? নাকি কোনও নবীন জ্যোতিষী বসে আছেন? উনি বলছেন যত ভোটে জিতেছি তত ভোটে হারাবেন। অনেক অঙ্ক কষে কি ইতিমধ্যেই ইলেকশন কমিশনের কাছে তালিকা জমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে নাকি?” এই ইস্যুতেই অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “যাওয়ার সময় তো প্রায় এসেই গেছে, আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। আপনি তো পদে থাকুন। দেখি, আপনাদের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বেশি, রাষ্ট্রশক্তির ক্ষমতা বেশি, নাকি গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের ক্ষমতা বেশি – তা মানুষই ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেবে।” দুই নেতার এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালেই সুমিত রায়ের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অভিষেককে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের আপ্তসহায়কের গ্রেফতারির বিষয় তুলে ধরে অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন যে, মিথ্যে মামলার ফাঁদে ফেলে আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে সুমিতকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এই কাজের বিনিময়ে দু-তিনজন পুলিশ অফিসারকে পুরস্কার দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। অভিষেকের এই বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পালটা তোপ দেগে বলেন, “আমার যা মনে হচ্ছে, ওঁর যে পিএ টাকা তুলত, সে জেরায় সব সত্য উগরে দিয়েছে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ তাঁকে পুলিশ হেফাজতে (পিসি) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় সব সত্য সামনে চলে এসেছে। আর সেই ভয় ও প্যানিক থেকেই ওঁর শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমস্যা হয়ে গিয়েছে।”

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছে, আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভাল। শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতেই চলে যেতে বললেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার কথা মমতার। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘‘আপনি রামলীলা ময়দানে যান, পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু হবে না।’’ শনিবার মমতার সঙ্গে দিল্লি যাওয়ার কথা আছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এ দিনের জনসভা থেকে তাঁকেও বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটে দাঁড়ালেই হারানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুভেন্দুর জোড়া কটাক্ষের উত্তরে তাঁকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ আখ্যা দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথের শপথ অনুষ্ঠানে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র রেখে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘ভবানীপুর ছাড়লে যিনি আমার কাছে দু’বার হেরেছেন, তিনি দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। এই বয়সে তাঁর না দাঁড়ানোই ভাল। অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭৫। এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা।’’ শুক্রবার অবশ্য মমতা ভোটে দাঁড়ালে আবার তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতার আর কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাঁর দিল্লিতে থাকাই ভাল। বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠের জনসভায় বলেছেন শুভেন্দু। ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যাবেন কি না, তা তো শুভেন্দু অধিকারীর কথায় হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াইয়ে বিশ্বাস করেন। তিনি লড়াই করছেন।’’ পাল্টা বলছেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সঙ্গে জুড়েছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধপরায়ণ, তা সকলে জানে।’’

শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণতার অভিযোগ অভিষেকও তুলে বলেছিলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ৩০টা কেস করেছে। আরও ৫০টা করুক… ছয়-সাত বছর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে চেষ্টা করেছে। ভাবছেন জেলে রেখে জব্দ করবেন।’’ ইডি, সিবিআই থেকে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ, সবাইকে তাঁর বিরুদ্ধে নামানো হলেও তিনি দমবেন না বলে দাবি করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শুক্রবার তার জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেকের নাম না নিয়ে বলেছেন, ‘‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বড় চোরটা কবে জেলে যাবে? সব কিছুই সময়মতো করতে হয়।’’ এর পরে অভিষেককেও ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে গিয়ে অবশ্য আর কোনও রাখঢাক করেননি। ‘‘অভিষেক, তুমি ভোটে দাঁড়ালেই হারাব। তুমি যত ভোটে জিতেছ, তার থেকে এক ভোট বেশি হলেও হারাব।’’ বলেছেন শুভেন্দু। ২০২৪-এর ভোটে ডায়মন্ড হারবার থেকে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন অভিষেক। ব্যবধান ছিল ৭ লক্ষ ১০ হাজার। ’২৬-এর বিধানসভা ভোটে অবশ্য ছবিটা অনেকটাই পাল্টেছে। অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতগাছিয়া বিধানসভা আসনটি আগেই জিতেছিল বিজেপি। ৪ মে-র পরে ভোট হওয়া ফলতা আসনে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে জাহির করা জাহাঙ্গির খানকে বিপুল ভোটে হারিয়েছে তারা। জেলবন্দি জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে এ দিন ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু। শুভেন্দু যে চ্যালেঞ্জই ছুড়ুন না কেন, দল ‘সুযোগ দিলে’ তিনি যে ফের ডায়মন্ড হারবারেই দাঁড়াতে চান সেটা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক। শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাসের পিছনে জ্ঞানেশ কুমার রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। ‘‘অঙ্ক কষে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে লিস্ট দিয়ে দেওয়া হয়েছে? যে ভাবে অঙ্ক কষে ৩০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।’’ পাল্টা কটাক্ষ অভিষেকের। সঙ্গে সংযোজন, ‘‘আসলে চুরি করে জিতেছেন তো, তাই এখনও শয়নে স্বপনে অভিষেককে দেখছেন।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles