Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অর্ধনগ্ন করে কেন হাঁটানো হল অভিযুক্তদের? অসন্তুষ্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সিপি-র রিপোর্ট তলব

RK NEWZ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সরশুনার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বৃহস্পতিবার সিপি-কে নোটিস ধরিয়েছে। চাওয়া হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট। বেহালার সরশুনায় প্রেমিক, তাঁর বন্ধু এবং বাবাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছিল নাবালিকা কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করে তাঁদেরও অর্ধনগ্ন করে রাস্তায় হাঁটায়। কোমরে দড়ি পরিয়ে খালি পায়ে তিন অভিযুক্তকে হাঁটানোর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে তারা কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে সিপি-কে। সিপি-কে নোটিস ধরিয়েছে এনএইচআরসি। জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সরশুনার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলি সঠিক কি না, যদি সঠিক হয়, তবে কোন আইনে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণ করা হল, জানতে চেয়েছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, পুলিশ যদি সত্যিই এই কাজ করে থাকে, তবে তা মানবাধিকারের ঘোরতর বিরোধী। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সন্ধ্যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ বছরের এক তরুণ তাঁর ১৯ বছরের বন্ধুকে নিয়ে সরশুনায় নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কথা বলার সময় কিশোরীকে তিনি চুম্বন করেন। তা দেখতে পান ওই কিশোরীর মামার এক বন্ধু। তিনি বাড়িতে খবর দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিশোরীর বাড়ির লোকজন এসে দুই তরুণকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে তাঁদের হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। কিশোরীর বাবা এর পর ফোন করে ডেকে নেন প্রেমিক তরুণের বাবাকেও। অভিযোগ, তিন জনকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করা হয়। তার পর বাড়ির সামনের রাস্তায় ওই অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটানো হয়। সরশুনা থানার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছিল। কিশোরীর বাবা, মামা এবং তাঁদের এক বন্ধুকে পরের দিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের পরনে ছিল কেবল হাফ প্যান্ট। কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ তাঁদের প্রায় ১০০ মিটার হাঁটিয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণে অসন্তুষ্ট মানবাধিকার কমিশন। সিপি-র কাছে সেই কারণেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে ।

‘মা-বোনেদের সুরক্ষায় পুলিশকে খোলা হাত’! এনকাউন্টার নিয়ে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য শুভেন্দুর

রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই অপরাধ দমনে তৎপর সরকার। আনা হয়েছে গুণ্ডা দমন আইন। পালাবদলের পর কার্যত ‘যোগীরাজ্যের মডেলে’ পশ্চিমবঙ্গেও অপরাধীদের খত করতে শুরু হয়েছে এনকাউন্টার। বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের এনকাউন্টার দিয়ে সূত্রপাত, এবার একই দিনে গাইঘাটা-সামশেরগঞ্জেও চলল বন্দুকের শাসন। এ প্রসঙ্গে বিরোধীশিবিরে একাধিক বিতর্ক থাকলেও, অপরাধীদের উৎখাত করতে এনকাউন্টার-কায়দায় আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। রায়গঞ্জের সভা থেকে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। রাজ্যে নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ যে বরদাস্ত হবে না, রায়গঞ্জের সভা থেকে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে পুলিশের এনকাউন্টারের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনদের সুরক্ষা পুলিশকে ‘খোলা হাত’ দেওয়া হয়েছে। এ দিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “যা করার করব। নিশ্চিন্তে থাকুন। পুলিশকে খোলা হাত দিয়ে এসেছি। কেউ যদি ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো কাজ করে, তাহলে যা দরকার পুলিশ তাই করবে। যারা মা-বোন ও মেয়েদের অসম্মান করবে, তাদের কী পরিণতি হচ্ছে তা সবাই দেখতে পাচ্ছে। সামাজদার কা তো ইশারাই কাফি হ্যায়। পুলিশমন্ত্রী তো এর থেকে বেশি কিছু বলব না। আপনারা সজাগ থাকবেন।” , মঙ্গলবার ভোররারে ও দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা ও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পরপর দুটি পুলিশের এনতকাউন্টার দেখেছে রাজ্য। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ হেফাজত থেকে ধৃতদের ঘটনার পুনর্নির্মানের জন্য অকুস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ, অভিযুক্তদের গুলির পাল্টা পুলিশের গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়। প্রথম ক্ষেত্রে পুলিশের গুলিতে নিহত গাইঘাটায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সামশেরগঞ্জে ব্যবসায়ী সুজিত মণ্ডলের খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সামাউল শেখের এনকাউন্টার হয়। তিন মাস আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles