RK NEWZ ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উমা কাষভি। বয়সে সে বৈভবের থেকেও ছোট। কিন্তু বৈভবের মতোই ক্রিকেটমহলের নজর কেড়েছে উমার ক্রিকেট। এবার মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে দল পেল সে। ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে হইচই ফেলে দিয়েছে এই অলরাউন্ডার। তবে ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পথটা মসৃণ ছিল না তার। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই অনেকটা সংগ্রাম করে ফেলেছে উমা। বছরদুয়েক আগে হইচই ফেলে দিয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে নাম লিখিয়ে ফেলেছিল আইপিএলে। ১ কোটিরও বেশি টাকায় তাকে কিনেছিল রাজস্থান রয়্যালস। বাকিটা ইতিহাস। আজ ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরছে বৈভবের নাম। এবার কি ভারতের আরেক কিশোরীর পালা? বুধবার মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের সেই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে। ২০১১ সালে ভারত বিশ্বকাপ জেতার ঠিক একসপ্তাহ পরে জন্ম কর্নাটকের কাষভি কাণ্ডিকুপ্পার। তার মা বিজিতা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী। তবে উমার ক্রিকেটার হওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগ করেছেন তার কাকা বিজয়। নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, বিয়েও করেননি। উমার ক্রিকেটের রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে পার্ট টাইম কাজ করেন বিজয়। আট বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন উমাকে। উমার বয়স যখন আট বছর, তখন থেকেই ভাইঝির মধ্যে ক্রিকেটের প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন বিজয়। সেসময়ে ছেলেদের বিরুদ্ধেই উমার খেলা শুরু। ভোর পাঁচটায় উঠে দৌড়, শরীরচর্চা দিয়ে শুরু হত উমার দিন। তারপর দিনভর স্কুল। বিকেলে ফের দু’ঘণ্টা শরীরচর্চা, তারপর ঘণ্টাদেড়েক ক্রিকেটের অনুশীলন-এই ছিল উমার রোজকার রুটিন। আর পুরো সময়টায় তাকে পরিচালনা করতেন বিজয়। একটা সময়ের পর কর্পোরেট ম্যাচ খেলতে শুরু করে উমা। কিন্তু সেখানেও অধিকাংশ সময়টা কেটে যেত ফিল্ডিং করেই। ছোট বলে তাকে ব্যাটিং বা বোলিংয়ের সুযোগ সেভাবে দেওয়া হত না। তবে ক্রিকেট থেকে ধৈর্য্য হারায়নি উমা। ধীরে ধীরে ডাক আসতে থাকে কর্নাটকের বয়সভিত্তিক দলে। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজ্যের ক্রিকেটমহলে যথেষ্ট পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে উমা। বৈভবের মতোই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত উমাও। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিন বোলিংও করে। বয়স মাত্র ১৫ হলেও ফিল্ডিংয়ে দারুণ ক্ষিপ্র সে। কয়েকমাস আগে অনূর্ধ্ব ১৫ কিশোরীদের টুর্নামেন্টে পাঁচশোর বেশি রান করার পর সকলের নজর কেড়ে নেয় উমা। ওই টুর্নামেন্টে তিনটি সেঞ্চুরি এবং একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিল। ইতিমধ্যেই ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ টি-২০ বিশ্বকাপও জিতে ফেলেছে। কর্নাটকের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যেই ১৩ হাজারের বেশি রান করে ফেলেছে উমা। অনূর্ধ্ব ১৫ দলকে জাতীয় স্তরের ক্রিকেটে নেতৃত্বও দিয়েছে। এবার কনিষ্ঠতম হিসাবে মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে দল পেল সে। ১০ লক্ষ টাকায় তাকে কিনে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট তার যাত্রা শুরু। জেমাইমা রডরিগেজ, শেফালি ভার্মার মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে থাকবে উমা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নামার আগেই নিলাম দেখতে বসেছিল ১৫-র কিশোরী। দল পেতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। আবেগে ভেসে গিয়ে সে জানায়, “আমার পরিবার, টিম সকলেই রয়েছে। সকলে সত্যি খুব খুশি। আনন্দে খুব চেঁচিয়েছি। কাকা তো কেঁদে ফেলেছেন আনন্দে।” তবে ডব্লিউপিএলের পাশাপাশি আগামী বছর অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতাকে পাখির চোখ করছে ইতিহাস লেখা উমা।




