Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্নেহধন্য ও মমতারও ঘনিষ্ঠ ‘‌তানসেন’‌ ইন্দ্রপতনে!‌ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন’ দুর্নীতি ও লবিবাজির অভিযোগ

RK NEWZ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে জনতার দরবারে নালিশ করেছিলেন ঋদ্ধি-দোলারা। ইডির জেরার পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরতেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের গোয়েন্দা সেল। পুজোর ই-পাস মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মমতা সরকারের আমলে তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। অভিযোগ, তাঁর আমলে বিপুল অঙ্কের পাস দুর্নীতি হয়েছে। সেই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত বলেই দাবি। মাস কয়েক আগেই ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর গ্রেপ্তারিতে খুশি গায়িকা। মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক সঙ্গীত শিল্পী। তৃণমূল সরকারের আমলে সঙ্গীতজগতেও ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চলত বলে অভিযোগ করেছিলেন ঋদ্ধি, দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৎকালীন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ‘চাকরি বিক্রির মতো মঞ্চ বিক্রি’র অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরা। এবার প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় খুশি জনতার দরবারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো ঋদ্ধি, দোলা-সহ সঙ্গীতশিল্পীরা। সঙ্গীতশিল্পী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বুধবার ফোনে সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, “আমি মনে করি যে যা করবে সে তার ফল এ জীবনেই পেয়ে যাবে। এই গ্রেপ্তারে আমি খুশি।” এদিনও পূর্বতন সরকারের আমল নিয়ে এবং ইন্দ্রনীলের কাজকর্মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিগত সরকারে থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন এবং আরও কিছু মানুষ তাদের ক্ষমতার স্বার্থে এমন কিছু কাজ করেছেন। আমার মনে হয় আমি ২৬ বছর ধরে ‘ইন্ডাস্ট্রি’তে আছি, আমি ‘ইন্টারন্যাশনালি’ কাজ করি। আমার সঙ্গে যদি এই ঘটনা ঘটে, সব জায়গায় ব্যান করা, আমি হল পাব না সরকারের। তাহলে গ্রামগঞ্জ থেকে যে সব ছেলেমেয়েরা কাজ করতে আসবে তারা ‘অ্যাজেন্ডা মেকআপ’ না করতে পারলে তাদের অবস্থা কী হবে।” বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীর কথায়, “আজকে যে রাজ্যের অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এগুলোই তার অন্যতম কারণ। যিনি প্রশাসনে-চেয়ারে থাকবেন তার চারপাশে যে চাটুকারদের দল ঘুরঘুর করবে নিজেদের ধান্দার জন্য। এটা আমাদের আগের মুখ্যমন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল।”

কলকাতায় জন্ম। বেড়ে ওঠা। তিলোত্তমাতেই প্রথম সারির সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক ইনিংসও কম বর্ণময় নয়। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর সেই ইন্দ্রনীল সেনই আজ জেলবন্দি। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পুজো পাস নিয়ে দুর্নীতি মামলায় কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইন্দ্রনীল সেনকে। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন’ দুর্নীতি ও লবিবাজির অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন সঙ্গীত শিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারের খবরে তিনি বললেন, “২০২০ সাল থেকে আমি একা মুখ খুলেছিলাম। কারণ সঙ্গীত জগতে অরাজগতার ভিক্টিম হয়েছিলাম। আমাদের বন্ধুদের অনেকের সঙ্গেই অন্যায় হয়েছে, আবার অনেকের সঙ্গে বেশি সুবিচার হয়েছে। সবাই পিঠ বাঁচিয়ে বাঁচে না, আমি সেভাবে বাঁচতে শিখিনি।” দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস নিয়ে দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বুধবার কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সিজিও কমপ্লেক্সের দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেখান থেকে বেরনোর পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারির পরেই তৃণমূল আমলের দুর্নীতি নিয়ে ফের সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে। ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তারিরর পর নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখানে প্রথম থেকেই তাঁর নিশানায় ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। ইন্দ্রনীল এবং মমতাকে একযোগে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। তদন্ত চলছে। ইডি, পুলিশ সকলেই তদন্ত করছিল। মমতা ব্যানার্জির প্রত্যক্ষ মদতে, একই গাড়িতে ঘুরতেন, একই সঙ্গে গান করতেন। তারপরেই গান করেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার। আইনি প্রক্রিয়া চলবে।” এখানেই না থেমে শুভেন্দু সংযোজন, “মমতা ব্যানার্জি, ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের সব জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।” দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং ইউনেস্কোর নামে কোটি কোটি টাকা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। বউবাজার থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। পরে দায়িত্ব নেয় ইডি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইডি তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আট ঘণ্টা ইডি দপ্তরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ৭ অক্টোবর ফের তাঁকে সাড়ে নয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ১৬ অক্টোবর পুজোর ঠিক আগেই ফের তলব করা হয়েছিল ইন্দ্রনীলকে। কিন্তু তিনি সেই হাজিরা এড়িয়ে যান। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু তাঁর আর্জি খারিজ হয়ে যায়। এরপরে তিনি সু্প্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বুধবার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে বেশ কিছু নথি নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। সেই মতো এদিন হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দুপুরের দিকে সিজিও কমপ্লেক্সে এসে হাজির হয় বিধাননগর এবং কলকাতা পুলিশ। তখন থেকেই জল্পনা তৈরি হয় যে, গ্রেপ্তার হতে পারেন প্রাক্তন মন্ত্রী। বিকেল ৫টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে আসার সময়ই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles