Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এনকাউন্টার হোক’! বারুইপুর-গাইঘাটায় জমা-খরচের পর প্রতিক্রিয়া রত্নার

RK NEWZ পরপর এই জোড়া এনকাউন্টারের আবহে জমা-খরচের হিসেব মেলাতে পারছেন না পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি করের নির্যাতিতার মা জানালেন, তাঁর কন্যার অপরাধীদেরও চরম পরিণতি হওয়া উচিত এনকাউন্টারেই। সমাজে দুষ্কৃতীরাজ নির্মূল করে সুশাসন ও নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ট্যাগলাইন তৈরি করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ট্যাগলাইন হল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি যে শুধু কথার কথা নয়, তা একের পর এক পদক্ষেপে স্পষ্ট। রাজ্যে নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসামাত্রই কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতারির পর বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা কিংবা পালানোর চেষ্টা করলেই সোজা এনকাউন্টার। মাস খানেক আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের পরিণতি হয়েছিল এমনটাই। আর মঙ্গলবার ভোরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখল গাইঘাটা। পরপর এই জোড়া এনকাউন্টারের আবহে জমা-খরচের হিসেব মেলাতে পারছেন না পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি করের নির্যাতিতার মা জানালেন, তাঁর কন্যার অপরাধীদেরও চরম পরিণতি হওয়া উচিত এনকাউন্টারেই। ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক। সেই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় মামলাটি পুনরায় চালু করা হয় এবং বর্তমানে সিবিআই ঘটনার পুনর্তদন্ত করছে। মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজনীতিতে পা রেখে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক হয়েছেন প্রয়াত চিকিৎসকের মা। এ দিন গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এনকাউন্টারের পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার দ্রুত বিচারের পথ সুগম করছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধীদের বাঁচিয়ে রাখার কোনও যুক্তি নেই। এনকাউন্টারই এদের জন্য সঠিক শাস্তি। আমি চাই আমার মেয়ের অপরাধীদেরও ঠিক এই পরিণতিই হোক। এভাবে কঠোর পদক্ষেপ করলে তবেই অপরাধীরা ভয় পাবে।” এর আগে বারুইপুরের এনকাউন্টার নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি রত্না। উল্টে নিহত নাবালিকার সামাজিক ও পারিবারিক পটভূমির সঙ্গে নিজের মেয়ের তুলনা টেনে সেই সময় বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু গাইঘাটার ঘটনায় তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী অবস্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গাইঘাটায় পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হয়েছে কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য যাওয়া হয়। অকুস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষে ফেরার সময়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করেন অভিযুক্ত। গাড়িতে করে যখন অভিযুক্তকে নিয়ে ফেরা হচ্ছিল, তখন বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে তিনি প্রস্রাব করার জন্য গাড়ি থামাতে অনুরোধ করেন। তার পরেই তিনি কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের ওই সূত্রের বক্তব্য, পর পর তিন রাউন্ড গুলি চালান অভিযুক্ত। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে পুলিশের গাড়িতে। পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। সে সময় এক পুলিশকর্মী জখম হন। এক জন রাস্তার ধারের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তার পরে আত্মরক্ষার জন্য চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে অভিযুক্তের গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জখম পুলিশকর্মীরও প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, বৈদ্যবাড়িতে রাস্তার উপরে ওই অংশটি ব্যারিকেড করে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে একটি জুতোও পড়ে থাকতে দেখা যায়। যদিও সেটি কার জুতো, তা স্পষ্ট নয়। মৃত অভিযুক্তের বাড়ির দিকে এবং মৃত কিশোরীর বাড়ির দিকেও আপাতত বাইরের লোকেদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। ‘এনকাউন্টার’-এর পক্ষে এত জনসমর্থন কেন? যদি ‘ভুয়ো’ হয় তবু! প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে বারুইপুর, তাৎক্ষণিক বিচারে উদ্বেগ কতটা সোমবার রাতের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তোষপ্রকাশ করছেন গাইঘাটার এলাকাবাসীদের একাংশ। খুশি নিহত কিশোরীর পরিবারও। কিশোরীর বাবা বলছেন, “আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভাল করেছে। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।” বাড়ির মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ‘শাস্তি’! প্রেমিক, তাঁর বাবা এবং বন্ধুকে নগ্ন করে হাঁটানো হল বেহালার রাস্তায়, হল ভিডিয়োও স্থানীয় এক মহিলার কথায়, “এনকাউন্টার হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। ওর মতো মানুষ পুলিশকে আক্রমণ করে। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ওই মেয়েটাকে আক্রমণ করেছে। ওর যা হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। ওর যা হয়েছে ভাল হয়েছে। যাতে এটা দেখে মানুষ শিক্ষা নেয়। পুলিশের কাজে আমি খুব খুশি।” অপর এক প্রৌঢ় এলাকাবাসীও বলছেন, “এত বড় ঘটনা ঘটানোর পরেও তার (অভিযুক্তের) কোনও ভয় নেই। হেলদোল নেই। সে প্রশাসনের বন্দুক কেড়ে নিয়ে প্রশাসনকেও মারতে চেয়েছিল!” গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন সেখানে। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলে। শেষে রবিবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই ওই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles