RK NEWZ বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হিসেবে নাম ভাঙিয়ে গত ৬ থেকে ৭ মাস ধরে নানা পথে, চাপ দিয়ে তোলাবাজি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে দ্য ওয়ালের তরফে বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তাঁর সাফ কথা, তিনি আগেই সায়ন্তনকে তাঁর আপ্তসহায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পুলিশের জালে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক সায়ন্তন সান্যাল। লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করল পূর্ব বর্ধমান থানার পুলিশ। উত্তর চব্বিশ পরগনার জ্জগদ্দলের বাড়ি থেকে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হিসেবে নাম ভাঙিয়ে গত ৬ থেকে ৭ মাস ধরে নানা পথে, চাপ দিয়ে তোলাবাজি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে দ্য ওয়ালের তরফে বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তাঁর সাফ কথা, তিনি আগেই সায়ন্তনকে তাঁর আপ্ত সহায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পাপিয়া বলেন, ”আমি আমার আপ্ত সহায়কের পদ থেকে আগেই ওঁকে নিষ্কৃতি দিয়েছি। তারপর তিনি অ্যারেস্ট হয়েছেন কি না বা কী ব্যাপার, তিনি কী করেছেন, আপনি তাঁর বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন।” পিয়ার প্রাক্তন আপ্ত সহায়কের বাড়ি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল থানা এলাকায়। সেখান থেকেই তাঁকে সকালে গ্রেফতার করে পুলিশ। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বিশ্বরূপ সাহা নামের একজন ঠিকাদারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সায়ন্তনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রায়নার স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিশ্বরূপ। অভিযোগ, নানা রকম কাজ করে দেওয়া, সুবিধা করে দেওয়ার নাম করে বিশ্বরূপের কাছ থেকে ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নেন সায়ন্তন। প্রভাবশালীদের বৃত্তে বেশ ঘোরাফেরা ছিল সায়ন্তনের। বিধানসভা ভোটের বেশ কিছু সময় আগে থেকেই পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে সংযোগ ছিল তাঁর। ভোটের পর তাঁকে আপ্ত সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন বিধায়ক।
পাপিয়া অধিকারীকে ‘মাফিয়া’ তকমা, বিতর্ক মঞ্চে বিস্ফোরক অভিযোগ শতরূপ। কলকাতার বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে পরিচিত Calcutta Debating Circle-এর সাম্প্রতিক বিতর্ক সভা এবার শুধুই মতাদর্শের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকল না। ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল আরএসএস, টলিউডের ক্ষমতার রাজনীতি এবং নতুন কনফেডারেশনকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ-প্রত্যাঘাতে। একদিকে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক শতরূপ ঘোষ। দু’জনের বক্তব্যই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।’পরিবর্তন, উচ্ছ্বাস, হতাশা—এর কি আবার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?’ শীর্ষক এই বিতর্কে উপস্থিত ছিলেন শতরূপ ঘোষ, দীপ্সিতা ধর, জাদ মাহমুদ, সুমন চট্টোপাধ্যায়, সজল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, অর্কপ্রভ সরকার ও সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. কুণাল সরকার। বিতর্কের এক পর্যায়ে আরএসএস প্রসঙ্গ টেনে পাপিয়া অধিকারী বলেন, অনেকেই সংগঠনটিকে ঠিকমতো চেনেন না। তাঁর দাবি, আরএসএস বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম, যারা মানুষ গড়ে তোলার কাজ করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের কর্মীরা অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করেন, সত্য কথা বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং বর্তমানে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কাজ করছেন। পাপিয়া অধিকারীর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নামেন শতরূপ ঘোষ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কটাক্ষ করে বলেন, পাপিয়া অধিকারী নাকি তাঁকেই অভিযোগ করেছেন যে তিনি প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দিচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বলেন, যদি আরএসএসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও বলা হয়, তাহলে সেই সংগঠনের নিবন্ধন কোথায়, বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসে, কীভাবে খরচ হয়, সেই প্রশ্নও তোলা উচিত। তাঁর অভিযোগ, এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। এরপর তিনি পাপিয়া অধিকারীর আরেকটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। আরএসএস কর্মীরা স্কুলে গিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছেন, এই দাবির প্রসঙ্গ টেনে শতরূপের কটাক্ষ, যদি সেটাই সত্যি হয়, তাহলে কি তা সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতারই ইঙ্গিত নয়? বিতর্কের সবচেয়ে তীব্র অংশ আসে টলিউডের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে। সেখানেই পাপিয়া অধিকারীকে উদ্দেশ করে শতরূপ ঘোষ বলেন, “পাপিয়া অধিকারী দেড় মাসের মধ্যে মাফিয়া অধিকারী হয়ে গিয়েছেন।” এরপর একের পর এক নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন এখন পাপিয়া অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অরিজিৎ বসু, জয়চন্দ্র চন্দ্র, বাপি মালাকার এবং বিশ্বজিৎ দাসের নাম।
বিশেষ করে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মেকআপ শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুকে ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও টানেন শতরূপ। তাঁর দাবি, অরিজিৎ বসুর মাধ্যমে সোমনাথ কুণ্ডুকে কাজ থেকে বিরত রাখার বা নিষিদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সরকারি বা বিচারিক স্তরে সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই টলিউডে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সোমনাথ কুণ্ডুর কাজকে ঘিরে শিল্পী সংগঠনগুলির মধ্যে মতবিরোধ এবং নতুন নির্দেশিকা নিয়েও প্রকাশ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শতরূপের অভিযোগ এখানেই থেমে থাকেনি। তাঁর দাবি, আগে যে রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে টলিউডের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রিত হত, এখন সেই জায়গা থেকেই নতুন কনফেডারেশনের সদস্যপদ ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ওই কার্যালয়ে মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন-সহ একাধিক শিল্পীকে ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগগুলিরও স্বাধীন সরকারি বা বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে টলিউডে নতুন সংগঠন, অস্থায়ী কমিটি, শুটিং সংক্রান্ত নতুন নিয়ম এবং শিল্পীদের কাজ নিয়ে টানাপড়েন ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মেকআপ শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক সংগঠনের মধ্যে প্রকাশ্য মতভেদও সামনে এসেছে।





