RK NEWZ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রতিবছর বাণিজ্য সম্মেলন হত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, সম্মেলনের নামে কোটি কোটি টাকা শুধু ব্যয় হয়েছে। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের (বিজিবিএস) নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু রাজ্যে শিল্প বলতে কিছুই হয়নি। এখন নিরন্তর কাজ করছে রাজ্য সরকার। প্রতি মাসে কিছু না কিছু নতুন কাজ হবে। রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগের সুরে তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে শিল্পের নামে জালিয়াতি হয়েছে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়া রাজ্যের ১৭ জন বাসিন্দার মধ্যে ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের কল্পনা জানা। রবিবার সকালে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সরকারি সাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই পরিবারের খুদে দুই সদস্যের অভিভাবক হিসেবে তিনি পাশে থাকবেন। আর বাকি দুই মৃত ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই।
কল্পনাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে একাধিক ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এটা বাঙালি হিন্দুদের পুজো। (আমার) একটাই প্রার্থনা পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসুক। যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হোক। পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরে আসুন। অন্নদাতা কৃষকের ভাল হোক।’’ রাজ্যের শিল্প এবং শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ‘ভূমিপূজন’ করে এসেছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এটা কন্টিনিউয়াস (প্রতিনিয়ত) চলবে। প্রত্যেক মাসেই কিছু না কিছু করব আমরা। আমাদের বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলো এগিয়ে আসছে। রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের শিল্পগোষ্ঠী আগ্রহ দেখাচ্ছে।’’ ওই প্রসঙ্গে তৃণমূল আমলে রাজ্যের শিল্প ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রতিবছর বাণিজ্য সম্মেলন হত। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আমাদের এখানে সবাইকে স্বাগত। শুধু ‘ফ্রড’ (প্রতারক) না হলেই হল। আগের সরকারের সময় তো সব ‘ফ্রড’ (প্রতারক) ছিল। বিজিবিএস করে শত শত কোটি টাকা ধ্বংস করেছে। আমরা তো চা-বিস্কুট, চা-শিঙাড়ায় (বৈঠক) শেষ করি। আগের সরকার যা করে গিয়েছে তার বাস্তব রূপায়ণ তো মানুষ দেখেছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচুর কাজ হবে। এ বার যুবক-যুবতীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন আইআইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে। আদানি-সহ বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।





