RK NEWZ রাজনৈতিক সমীকরণ কী? সরকারের ঘোষণা মতোই পুজোর পরেই হাওড়া ও কলকাতা পুরসভার ভোট নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করল প্রশাসন। পাশাপাশি কোমর বেঁধে ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলিও। এই মুহূর্তে ভোট হলে কোন রাজনৈতিক দল এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয়বস্তুর শীর্ষে রয়েছে হাওড়া পুরোভোট। হাওড়া পুরসভার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস করা হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। ৫০টি ওয়ার্ড কে ভেঙে ৬৮ টি ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে সর্বদলীয় মতামতের মাধ্যমে। ৬৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২ টি সাধারণ মহিলা ও ১ টি SC মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে বামেদের হাত থেকে হাওড়া পুরবোর্ড নির্বাচনের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৩ সালের হাওড়া পুরসভার ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ টি আসন, বামদের দুটি আসন, কংগ্রেস ৩ টি আসন ও বিজেপি দুটি আসনে জয়ী হয়। পরবর্তীকালে নির্বাচিত তৃণমূল পুরোবোর্ড ও তৎকালীন রাজ্যসরকার ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়ার সঙ্গে সংযুক্তিকরণ করার পর ৫০ থেকে বেড়ে ৬৬ টি ওয়ার্ডে পরিণত করে। বালির ১৬ ওয়ার্ডই তৃণমূলের দখলে যাওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের তিন কাউন্সিলর দল বদল করে তৃণমূলে যোগ দেয়। সেক্ষত্রে তৃণমূলের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২টি। ২০২১ সালে বালিকে আলাদা করে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে হাওড়া পুরসভার আসন সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় ৫০টি। এবার বালিকে বাদ দিয়ে আসন সংখ্যা হয়েছে ৬৮টি। এই মুহূর্তে ভোট হলে বিজেপির পাল্লা ভারী হলেও বাম ও কংগ্রেস যে ভালো ফল করতে চলছে তা নিয়ে আশাবাদী রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙ্গনই এর জন্য দায়ী। ইতিমধ্যেই হাওড়া শহর তৃণমূলের মূল কাণ্ডারী মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায় ঋত তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। পাশাপাশি ভোটে ভরাডুবির পরে রাজীব ব্যানার্জী কে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিলেও কোনোরকম রাজানৈতিক কর্মসূচি তো দূরের কথা দলীয় বৈঠকও করতে পারেননি তিনি। অন্য দিকে ঋত তৃণমূলও কোনও জেলা কমিটি তৈরি করতে পারেনি। ফলে দুটি গোষ্ঠীর পক্ষে একক ভাবে ৬৮ টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়া কার্যত গল্পের গরু গাছে ওঠার মত।




