RK NEWZ প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি ও পরিচালনার কাজে পরামর্শ দিতে গঠন করা হচ্ছে রাজ্য উপদেষ্টা কমিটি। তাতে থাকছেন পিসি সরকার পরিবারের সদস্য-সহ বিশিষ্ট জাদুকর ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। জাদুসম্রাট পি সি সরকার কলকাতারই মানুষ। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও জাদুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ম্যাজিকের চল ক্রমশ অস্তগামী। সেই জাদুশিল্পকে পুনরায় জনপ্রিয় করতে, জাদুশিল্পের মানচিত্রে কলকাতাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিতে উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য সরকার। শহরে গড়ে উঠতে চলেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল অফ ম্যাজিক, ইলিউশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’। জাদু শেখানো থেকে গবেষণা, প্রদর্শনী থেকে শিল্পের সংরক্ষণ সব কিছুরই ব্যবস্থা থাকবে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি ও পরিচালনার কাজে পরামর্শ দিতে গঠন করা হচ্ছে রাজ্য উপদেষ্টা কমিটি। তাতে থাকছেন পিসি সরকার পরিবারের সদস্য-সহ বিশিষ্ট জাদুকর ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। নবান্ন সূত্রে খবর, জাদু শেখানো, গবেষণা ও প্রদর্শনী এক ছাদের তলায় হবে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে থাকবে জাদুশিল্পের অ্যাকাডেমি, প্রদর্শনীর জন্য থিয়েটার হল, সংগ্রহশালা, আর্কাইভ এবং গবেষণাগার। তৈরি করা হবে জাদুর সরঞ্জাম ও পোশাক তৈরির কর্মশালাও। শিল্পীদের থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। নবান্নের এক আধিকারিকের কথায়, অতীতে যেখানে জাদুশিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল, পাড়ায় পাড়ায় ম্যাজিক শো হত, বর্তমানে তা হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। বর্তমান প্রজন্ম মোবাইলে আটকে। তাই হারিয়ে যেতে বসা শিল্পকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে এবং এটাকে কর্মসংস্থান তৈরি করতেই এই ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জমি চিহ্নিত করা, ক্যাম্পাসের নকশা তৈরি, প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ এবং শিক্ষক নিয়োগের কাজ হবে। প্রকল্পের খরচ মেটাতে রাজ্য সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, বিভিন্ন সংস্থার অনুদান, স্পনসরশিপ এবং অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির আয়ের উপরেও নির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধীনে একটি স্বশাসিত সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে। জানা গিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে কমিটি তৈরি হচ্ছে, সেই উপদেষ্টা কমিটিতে পি সি সরকার পরিবারের প্রতিনিধি হিসাবে থাকছেন জয়শ্রী সরকার ও মানেকা সরকার। এ ছাড়া জাদুকর তন্ময় অধিকারী, শৈলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, পঙ্কজ সরকার, শ্যামল কুমার এবং অনিন্দ্য কিশোরের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্য ও সংস্কৃতি, পর্যটন, উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরের প্রতিনিধিদেরও কমিটিতে রাখা হবে। পাশাপাশি নাট্যজগতের ব্যক্তিত্ব, সংগ্রহশালা সংরক্ষণের বিশেষজ্ঞ, ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামসের প্রতিনিধিদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতাকে বিশ্বের দরবারে ‘ম্যাজিক সিটি’ হিসাবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী জাদুশিল্প সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করা যাবে বলে আশা।




