RK NEWZ পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে বিপুল উৎপাদন, বণ্টনের পাশাপাশি নতুন করে বিনিয়োগে আশার আলো আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। পালাবদলের পর বঙ্গে শিল্প খরা কাটাতে উদ্যোগী শুভেন্দুর সরকার। একের পর বিনিয়োগের বন্যা। শিল্প কারখানার সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক। বঙ্গে শিল্পের নতুন জোয়ারে এবার সামিল হলদিয়াও। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র গড়তে চলেছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড। আজই এই কারখানার উদ্বোধন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইরান যুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ সময়ে হরমুজ প্রণালী আটকে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। তাতে কমবেশি সমস্যার মুখে পড়ে সব কটি দেশ। সেই সংকট কাটেনি এখনও। আর এই অভাবের মাঝেই পথ দেখাচ্ছে ভারত! পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে বিপুল উৎপাদন, বণ্টনের পাশাপাশি নতুন করে বিনিয়োগে আশার আলো আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আরও ৬০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এখানে। ‘অ্যাডপার্মা’ এই বিনিয়োগ করছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হলদিয়া গিয়ে উদ্বোধনে উৎপাদনের গতি আরও বেড়ে যাবে বলে আশা হলদিয়া কর্তৃপক্ষের। তাতে মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ আরও শক্তিশালী হবে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের মূল উপকরণ ফেনল, অ্যাসিটোন। কারখানাগুলিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক তৈরি হয় এখানে। তবে উৎপাদনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখানকার ইন্টিগ্রেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যাটফর্ম। অর্থাৎ একজায়গার মধ্যে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং ও বণ্টন, সব কাজই হয়। সেটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা। যার সুফল শুধু রাজ্যে নয়, পেয়েছে গোটা দেশের শিল্পাঞ্চল। উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টরি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এবার আরও বেশি সুবিধা মিলবে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে। নতুন তৈরি কারখানায় মূলত অ্যাসিটোন উৎপাদন হবে। নতুন প্রকল্পের আওতায় ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানা আরও সম্প্রসারিত হবে। ৩৪৫ কেটিপিএ বা কিলোটন পার অ্যানাম ফেনল ও ২১৫ কেটিপিএ অ্যাসিটোন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এই প্রকল্প মূলত রাজ্যের মধ্যে সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। উচ্চগুণমান সম্পন্ন রাসায়নিক দ্রব্য কমাবে পরনির্ভরশীলতা। তাদের লক্ষ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, পেন্টিং-সহ একাধিক ক্ষেত্রে রাসায়নিক সরবরাহ করা। হলদিয়া কর্তৃপক্ষের আশা, রাসায়নিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের উৎপাদন ক্ষমতা এবং সরবরাহের ছবিটা স্পষ্ট করা, পূর্ব ভারতের রাসায়নিক বৈচিত্র্য আরও বাড়িয়ে তোলা ও সর্বোপরি রাসায়নিক ক্ষেত্রে অন্য দেশের প্রতি ভারতের নির্ভরতা কমানো। আর এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে তার হাত ধরে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের আশপাশে বহু অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে। সবমিলিয়ে, বদলের বাংলায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছেন সকলে।




