RK NEWZ সিজেপির শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়াও সৌরভ এবং আশুতোষের বিরুদ্ধে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে জেল হেফাজতে পাঠালেন ম্যাজিস্ট্রেট। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ দুই জনকে মার্গ মন্দির থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়েছিল। আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর সৌরভদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্য দিকে, ধৃত অজিঙ্ক শিন্দেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শান্তিভঙ্গ না-করার শর্তে বন্ডে সই করার পরই অজিঙ্কেকে মুক্তি দেওয়া হয়।সিজেপির আইনজীবী অভিষ্ট হেলা জানিয়েছেন, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দিল্লি পুলিশ যুক্তি দিয়েছে, আশুতোষ এবং সৌরভ না কি ফোন করে যন্তর মন্তরে লোক জড়ো করেছিলেন। তার পরেই বেআইনি ভাবে যন্তর মন্তে ঢুকে পড়েন সকলে। সৌরভদের মুক্তি দিলে আবার তাঁরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারেন, সেই যুক্তিও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রাখে দিল্লি পুলিশ। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে রেখে আন্দোলন শুরু করেছে সিজেপি। ফের তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রকেরই অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। তবে কেন্দ্রের সেই নির্দেশিকা না-মেনেই মঙ্গলবার সকালে গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিলেন সিজেপির তিন শীর্ষনেতা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন সিজেপি সমর্থকও। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তাঁরা। সকলকে আটক করে পুলিশ। রাতের দিকে জানা যায়, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ক-সহ ১৪ জনকে ওই ঘটনায় আটক করা হয়েছে। তবে বুধবার ভোরে সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানান, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্কেকে গ্রেফতার করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও পরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই গ্রেফতারি (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট)। সিজেপির তিন শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়াও সৌরভ এবং আশুতোষের বিরুদ্ধে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। বুধবার মার্গ মন্দির থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে সৌরভ এবং আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই। দিপকে-রাঙ্কা-সৌরভদেরদের ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। আদালত থেকে এক বছর ‘শান্তি বজায় রাখার’ শর্তে জামিন পেয়েছিলেন সৌরভেরা। তার দু’দিন পর তাঁরা আবার ‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন। গত বার সৌরভ, আশুতোষেরা জামিন পেলেও এ বার তাঁদের জেলে যেতে হচ্ছে।




