RK NEWZ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বহু মানুষ। দেশজুড়ে চলছে অগণিত আন্দোলন। কিন্তু বিক্ষিপ্ত সেসব আন্দোলনে প্রচারের আলো না থাকায় সেগুলি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। বা সরকার-সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। এবার এই সব আন্দোলনকারীদের এক ছাতার তলায় আনতে চান বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। গান্ধী জয়ন্তীর পরই ‘সত্যাগ্রহ’ নামের একটি ওয়েবসাইট চালু করলেন বিরোধী দলনেতা। এই ‘সত্যাগ্রহ’ নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন দাবিতে নানা সংগঠন ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের খবর থাকবে। সেই সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যদি কোনও আন্দোলনের তথ্য দিতে বা আন্দোলনে সাহায্য চাইতে চান তাঁরাও নিজেদের মতো করে তথ্য দিতে পারবেন। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা এই সব আন্দোলনকারীদের এক মঞ্চে আনতে চান। প্রয়োজনে নিজে আন্দোলনকারীদের দাবি সংসদে ও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে চান। তাঁর মূল উদ্দেশ্য, আন্দোলনের মাধ্যমেই গোটা দেশের বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একসূত্রে বাঁধা। ওই ওয়েবসাইট চালু করার সময় একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, “দেশে সত্যকে পিষে ফেলা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে অবদমিত স্বর তুলে ধরা আমার কর্তব্য।” ওই সত্যাগ্রহ জল-জমি-জঙ্গল, নারী অধিকার, দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির পাওনা আদায় কিংবা শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন রকম গণদাবিকে এক ছাতার তলায় আনতে চান রাহুল। রাহুলের বক্তব্য, প্রত্যেকের আন্দোলনের নিজস্ব প্রেক্ষিত রয়েছে, প্রত্যেকের দাবির বৈধতা রয়েছে। কিন্তু আলাদা আলাদা লড়লে কারও লড়াই শক্তিশালী হবে না। তাই সব আন্দোলনকে সংগঠিত করতে হবে। রাহুল যে সত্যাগ্রহ ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন, সেটার মূল বক্তব্য, ‘সংঘর্ষ জোড়ো-ভারত জোড়ো’। রাহুল বলছেন, “বাপু শিখিয়েছেন, সত্যই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কিন্তু আরও বড় অস্ত্র হল সত্যের পাশে একসঙ্গে দাঁড়ানো।” বিরোধী দলনেতা বলছেন, মাত্র দু’মিনিট সময় খরচ করে যদি আপনারা আন্দোলনের তথ্য শেয়ার করেন, তাহলে আন্দোলন শক্তিশালী হবে। কংগ্রেস সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের অসন্তোষকে একটি প্লাটফর্মে এনে রাহুল সরকারকে যেমন চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন, তেমন সব বিরোধী স্বরকে একত্রিত করারও চেষ্টা করছেন।




