RK NEWZ পুরুষদের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ১৬ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ১৫- এই দুই পর্যায়ে প্লেয়ারদের বয়স পরীক্ষার নিয়মাবলীতে পরিবর্তন করে ফেলল ভারতীয় বোর্ড (BCCI)। এত দিন প্লেয়ারদের বয়স পরীক্ষায় আধার কার্ডকে বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে ধরা হত। কিন্তু এবার থেকে অনূর্ধ্ব ১৬ (পুরুষ) ও অনূর্ধ্ব ১৫ (মহিলা) ক্রিকেটারদের বয়স যাচাইয়ে প্রধান নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে ভারতীয় পাসপোর্টকে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসেছিল অ্যাপেক্স কাউন্সিল। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেই বৈঠকে। পরে তাতে সিলমোহরও (র্যাটিফায়েড) পড়ে যায়। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর হাতে যে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের যে সিদ্ধান্ত-নামা এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৬ (পুরুষদের ক্ষেত্রে) ও অনূর্ধ্ব ১৫ পর্যায়ে (মহিলাদের ক্ষেত্রে) বয়স পরীক্ষার নথি পরিবর্তন ঘটেছে। এত দিন অনূর্ধ্ব পর্যায়ের ক্রিকেটারদের বয়স পরীক্ষায় আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে বিচার্য হত। কিন্তু বোর্ড এবার অন্তত দুই ক্ষেত্রে আধারকে আর বাধ্যতামূলক পর্যায়ে রাখছে না। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সিলমোহর-প্রাপ্ত সেই সিদ্ধান্তে যা লেখা রয়েছে, তা নিচে তুলে দেওয়া হল:
অনূর্ধ্ব ১৬ (পুরুষ) এবং অনূর্ধ্ব ১৫ (মহিলা) ক্রিকেটারদের বয়স পরীক্ষার ক্ষেত্রে যে সমস্ত পরিবর্তন প্রস্তাব এসেছে, তা বিচার অ্যাপেক্স কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আধার কার্ডকে আর বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে ধরা হবে না। আর সেটা করা হচ্ছে ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইন’ এবং আধার আইনকে মাথায় রেখে। পাসপোর্টকে প্রধান নথি হিসেবে ধরা হবে। যা আদতে হবে ‘প্রাইমারি আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট’।
শুধু তাই নয়, একজন ক্রিকেটারকে বোর্ড অধীনস্থ কোনও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় স্থানীয় প্লেয়ার হিসেবে খেলতে গেলে (সমস্ত বয়সভিত্তিক এবং সিনিয়র পর্যায়), কোন কোন শর্তপূরণ করতে হবে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে। আধার কার্ডের উল্লেখ সেখানে করা রয়েছে একটাই জায়গায়-বাসস্থানের নথি হিসেবে। অর্থাৎ, কেউ যদি বাসস্থানের নথি হিসেবে আধার দেখিয়ে নিজেকে স্থানীয় প্লেয়ার হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চায়। তবে সেক্ষেত্রেও সর্বপ্রথম দু’টো নথি, পাসপোর্ট কিংবা ভোটার কার্ড।
এবার শর্তবলীতে আসা যাক। যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনও রাজ্যের স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে চায়, তাঁর সামনে দু’টো রাস্তা। তাঁকে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার আওতাভুক্ত এলাকায় জন্মগ্রহণ করতে হবে। কিংবা ১.৯.২০২৫ থেকে সেই রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার আওতাভুক্ত এলাকায়, পড়াশোনা/স্বীকৃত ভাবে চাকরি/স্বীকৃত ভাবে বসবাস করতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত নথি প্রয়োজন:
১) পড়াশোনার নথি পেশ করলে: ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-‘২৭ স্কুল কিংবা কলেজের মার্কশিট জমা দিতে হবে। যেখানে প্রিন্সিপালের সই থাকবে। সঙ্গে দিতে হবে সেই স্কুল বা কলেজ থেকে প্রিন্সিপালের সই করা সার্টিফিকেট। যেখানে অ্যাডমিশন নম্বর, অ্যাডমিশনের তারিখ, স্কুল বা কলেজের রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখ, সব সঠিক ভাবে লেখা থাকবে।
২) চাকরির নথি পেশ করলে: সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে গত বারো মাসের স্যালারি স্লিপ জমা দিতে হবে। সঙ্গে এমপ্লয়ার সার্টিফিকেট। পাশাপাশি লাগবে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট। সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে।
৩) বাসস্থানের নথি পেশ করলে: রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার আওতাভুক্ত জায়গা থেকে ১.৯.২০২৫ কিংবা তার আগে ইস্যু করা পাসপোর্ট কিংবা ভোটার কার্ড জমা করা যাবে। তবে আধার কার্ডকেও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।




