Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘বাংলা থেকে কোনও সম্মান পাইনি’! অপেক্ষায় এশিয়াডে ইতিহাস তৈরি করা বঙ্গ তিরন্দাজ

RK NEWZ এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার রিকার্ভ তিরন্দাজির কোনও ইভেন্টে সোনা জয়ী ভারত। সেই দলের সদস্য় অঙ্কিতা ভকত। ওকাজাকির চুয়ো সোগো পার্ক মাল্টিপারপাস স্কোয়ার। কুমকুম মোহদের তিরটা দশের বৃত্তে পৌঁছতেই উৎসবে মেতে উঠলেন সেই পার্কে হাজির গুটিকয়েক ভারতীয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার রিকার্ভ তিরন্দাজির কোনও ইভেন্টে সোনা জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার উৎকণ্ঠা ছিলই ওই ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে। কুমকুমের লক্ষ্যভেদ সফল হতেই সোনালি সাফল্য উপভোগে গা ভাসালেন তাঁরা।

রিকার্ভ তিরন্দাজির মহিলা টিম ইভেন্টে সোনা জিতল ভারত। তা-ও আবার দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে, যারা এখনও পর্যন্ত অলিম্পিকে এই ইভেন্টে সবকটা সংস্করণে চ্যাম্পিয়ন। আর ইতিহাসে নাম তোলা দলে কুমকুম এবং কীর্তি শর্মার সঙ্গী ছিলেন বাংলার মেয়ে অঙ্কিতা ভকতও। তবে দলের সোনা জয়ের দিনেও ব্যক্তিগত ইভেন্টের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা রয়েছে তাঁর। জাপান থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে অঙ্কিতা বলছিলেন, “রিকার্ভের কোনও ইভেন্টে এটাই ভারতের প্রথম সোনা। এর আগে কোনও মহিলা দল ফাইনালেও উঠতে পারেনি। ফলে এমন একটা পদক জিততে পেরে গর্ব অনুভব করছি। তবে একইসঙ্গে রিকার্ভের ব্যক্তিগত ইভেন্টে মূলপর্বে সুযোগ না পেয়ে খারাপ লাগছে।” কয়েক মাস আগে সাংহাই বিশ্বকাপে এই কোরিয়া দলকে হারিয়েই সোনা জিতেছেন অঙ্কিতারা। সেই অভিজ্ঞতাই সাহসী করেছিল টিম ইন্ডিয়াকে। “কোরিয়ার মহিলা দল অসাধারণ হলেও অপরাজেয় নয়। আমরা বিশ্বকাপে এই দলটাকেই হারিয়ে সোনা জিতেছি। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার আত্মবিশ্বাস ছিল”, বলছিলেন দমদম সিঁথির মোড়ের এই বাসিন্দা। এদিন রিকার্ভ তিরন্দাজিতে জোড়া রুপোও পেয়েছে ভারত। আপাতত আগামী অলিম্পিকের ছাড়পত্র পাওয়াই লক্ষ্য বঙ্গ-কন্যার।

গত এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জজয়ী দলেও ছিলেন অঙ্কিতা। তবে এবার দলের অন্য দুই সদস্য কীর্তি এবং কুমকুমের জাতীয় দলে এটাই প্রথম বছর। ফলে অনুজ সতীর্থদের ‘গাইড’ করার দায়িত্বও ছিল অঙ্কিতার। যিনি শোনালেন, “ওরা দু’জন নতুন হওয়ায় অভিজ্ঞতা তেমন ছিল না। ফলে আমাকে অনুসরণ করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। কিন্তু ওদের আমি যা বলেছি, ওরা শুনেছে। সেটা আমাদের লড়াইটা সহজ করেছে। আবার দলে নতুন হওয়ায় অতীতের বোঝা টানতে হয়নি ওদের। যার ফলে খোলা মনে লড়তে পেরেছে।” এশিয়াড শুরুর আগে জাপানের কুরোব সিটিতে ক্যাম্প করেছিল তিরন্দাজি দল। যার ফলে মূল প্রতিযোগিতায় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হয়েছিল বলেই মনে করছেন তিনি।

তবে এশিয়াডের প্রস্তুতির সময়ে সমস্যায় পড়েছিলেন অঙ্কিতা। নতুন পাসপোর্ট পেতে দু’মাস সময় লেগে যায় তাঁর। বলছিলেন, “এপ্রিল থেকে পরপর বিশ্বকাপ ছিল। তাই আমি জানুয়ারি মাসে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করি। কিন্তু জন্ম শংসাপত্রের সমস্যার জন্য দু’মাস ধরে সেটা আটকে ছিল। পুরনিগমে বার বার বলেও কাজ হয়নি। শেষ নিজের পরিচয় দিয়ে, ফেডারেশনের চিঠি দেখিয়ে কাজটা হয়। ২৬ মার্চ বাকি দল মেক্সিকো যায় বিশ্বকাপের জন্য। আমি পাসপোর্ট পাই ২৫ মার্চ। চারদিন পর একা মেক্সিকো যাই।” আবার একটা আক্ষেপও রয়েছে তাঁর। “আমি বাংলার মেয়ে। এতদিন এত পদক জিতেছি। কিন্তু নিজের রাজ্য থেকে কোনও সম্মান, কোনও সাহায্য পাইনি।” সম্মান পেলে ফের বাংলায় ফিরতে চান অঙ্কিতা। আপাতত সেই ডাকের অপেক্ষায় এশিয়াডে ইতিহাস তৈরি করা এই বঙ্গ তিরন্দাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles