RK NEWZ ভারতীয় দলে এখনও পর্যন্ত টিকে রইলেন রোহিত শর্মা। বুধবার দীর্ঘ টালবাহানার পর ঘোষিত হল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের ওয়ানডে এবং টি-২০ দল। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঘরের মাঠে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ। সেই স্কোয়াডে রোহিত এবং বিরাট কোহলি দু’জনকেই রাখা হয়েছে। চমকপ্রদ নাম আকিব নবি। টেস্টের পর এবার ওয়ানডে’তেও ভারতীয় দলে জায়গা করে নিলেন তিনি। অন্যদিকে, কোনও স্কোয়াডেই রাখা হয়নি ঋষভ পন্থকে।
গত ইংল্যান্ড সিরিজের সময় শোনা গিয়েছিল, রোহিতকে নাকি এক জাতীয় নির্বাচক জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভারতীয় দল এবার থেকে সামনে তাকাতে চায়। তাই হিটম্যান যেন অবসর ঘোষণা করে দেন। লর্ডসে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সমালোচকদের চুপ করিয়েছিলেন রোহিত। কিন্তু বুধবার নির্বাচনী বৈঠকের আগেও ফের প্রশ্ন ওঠে। লর্ডসে সেঞ্চুরি করা রোহিতকে বাদ দেওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারেননি নির্বাচকরা। আপাতত তিনটে ওয়ানডে তিনি পাবেন, নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার জন্য। শ্রেয়স আইয়ারের অনুপস্থিতিতে সহঅধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কে এল রাহুলকে।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের চোট প্রবণতা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও চোটের কারণে নেই হার্দিক পাণ্ডিয়া। তবে তাঁর পরিবর্ত হিসাবে ডাকা হয়েছে আকিব নবিকে। এছাড়াও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, গুর্নুর ব্রার, মহম্মদ সিরাজরা ভারতের পেস আক্রমণ সামলাবেন। মনে করা হচ্ছিল, এই সিরিজে মহম্মদ শামিকে একটা সুযোগ দেওয়া হতে পারে, ফেয়ারওয়েল হিসাবে। তবে সেটাও হল না। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে উইকেটকিপার হিসাবে সুযোগ দেওয়া হল ঈশান কিষানকে। ধরে নেওয়া যেতে পারে, বিশ্বকাপের ব্লু প্রিন্ট থেকে বাদ পড়লেন পন্থ।
একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে ইরানি ট্রফির দলও। সেখানে বাংলা থেকে সুদীপ ঘরামি, মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপ সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু শামি ব্রাত্যই থেকে গেলেন। অর্থাৎ আগামী দিনে ভারতীয় দলের দরজা থেকে আরও দূরে চলে গেলেন তারকা পেসার। ইরানি ট্রফিতে অধিনায়ক হয়েছেন পন্থ। এশিয়ান গেমসের দল থেকে সরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে নামানো হবে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল
শুভমান গিল (অধিনায়ক), কে এল রাহুল (সহ অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, ধ্রুব জুরেল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, গুর্নুর ব্রার, মহম্মদ সিরাজ, আকিব নবি, যশস্বী জয়সওয়াল, নমন ধীর
দলে থেকেও প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়া। বারবার স্কোয়াডে থেকেও মাঠে নামার সুযোগ না মেলা। কুলদীপ যাদবের সাম্প্রতিক সময়টা এমনই। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দলে ছিলেন, কিন্তু দু’টি টেস্টের কোনওটিতেই খেলেননি। এশিয়া কাপ, এশিয়ান গেমসের দলেও জায়গা হয়নি। আফগানিস্তান সিরিজ থেকেও বাদ পড়েছেন। ওয়ানডে দলেও একই চিত্র। জাতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে গিয়ে নিজেকে ‘প্রমাণ’ করলেন কুলদীপ।
ইয়র্কশায়ারের হয়ে এসেক্সের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই তাঁর প্রথম ১০ উইকেট। এরপর ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার স্টিভ হার্মিসনের পডকাস্টে ভারতীয় স্পিনার স্বীকার করেছেন, দলে সুযোগ না পেলে তাঁরও মন খারাপ হয়। কুলদীপের কথায়, “দলের পরিকল্পনা কিংবা ভারসাম্যের কারণে অনেক সময় কাউকে বাইরে থাকতে হয়। সেই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সহজ নয়। খারাপ তো লাগেই। আপনি যখন বুঝতে পারেন যে প্রথম একাদশে নেই এবং ম্যাচে নামার সুযোগও হচ্ছে না, তখন স্বাভাবিক ভাবেই খারাপ লাগে।” সেই হতাশাকে বেশি দিন আঁকড়ে রাখতে চান না কুলদীপ। বরং পরের সুযোগের অপেক্ষায় নিজেকে তৈরি রাখছেন। তিনি বলেছেন, “দলে থাকলে প্রত্যেক ক্রিকেটারই খেলতে চাইবে। কিন্তু সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত দলের পরিকল্পনাই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরও আশা করেছিলাম কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারব। কিন্তু সুযোগ আসেনি। সেটা মেনে নিয়েছি। আশা করছি, পরের বার হয়তো সুযোগ পাব।” কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাগিদে কাউন্টিতে আসেননি কুলদীপ। তাঁর লক্ষ্য নিজেকে আরও প্রস্তুত রাখা এবং কঠিন পরিবেশে নিজের দক্ষতা পরীক্ষা করা। বাঁহাতি চায়নাম্যানের মন্তব্য, “ইংল্যান্ডের উইকেটে স্পিনারদের জন্য সব সময় খুব বেশি সাহায্য থাকে না। সেই কারণেই এখানে কাউন্টি খেলতে চেয়েছি। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে পরীক্ষা করতে চাই। এমন পরিবেশে ভালো বোলিং করতে পারলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। সেই আত্মবিশ্বাস অর্জন করতেই এখানে এসেছি।”




