Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‌অস্বস্তিতে সিএবি!‌ বঙ্গ ক্রিকেটে অচলাবস্থা? নির্বাচন বন্ধ করার নির্দেশ!‌ ১০ প্রশ্নে তোলপাড় ময়দান!‌

RK NEWZ ফের চিঠির ঝড়ে অস্বস্তিতে সিএবি। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সোমবার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘৬ জন জেলাশাসক চিঠি পাঠিয়েছেন। নির্বাচন বন্ধ করার কথা লিখেছেন।’ জুলাই মাসে সিএবি-র বিশেষ সাধারণ সভা ও যুগ্মসচিব নির্বাচন আটকে গিয়েছিল চিঠির ঝড়ে। ১৮ জেলাশাসক আর প্রায় দশটি ক্লাব চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছিল, সিএবি-র এসজিএমে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রেও লোঢা আইন মানতে হবে। যার জেরে এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয় যে, যুগ্মসচিব পদে কোনও মনোনয়নই জমা পড়েনি।

ফের চিঠির ধাক্কায় কাবু সিএবি। এবার অনিশ্চয়তা তৈরি হল সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) নিয়ে। ২৪ সেপ্টেম্বরের যে সভায় তিনটি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। সচিব, যুগ্মসচিব ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি শূন্যস্থান। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন ইলেক্টোরাল অফিসার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফের সিএবি-তে চিঠি পাঠালেন ৬ জন জেলাশাসক। ফের একই দাবি নিয়ে। বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিরা যাতে লোঢা সুপারিশ মেনে আসেন। অর্থাৎ, সত্তোরোর্ধ্ব বা রাজ্য ক্রিকেট প্রশাসনে পদাধিকারী হিসাবে ৯ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন, এমন কেউ যেন এজিএমে যোগ না দেন। যা নিয়ে ফের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে সিএবি সদস্যদের মধ্যে।

সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সোমবার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘৬ জন জেলাশাসক চিঠি পাঠিয়েছেন। নির্বাচন বন্ধ করার কথা লিখেছেন। তবে এজিএম আটকাবে না।’ কিন্তু দুই পদাধিকারী ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি শূন্যপদের কী হবে? সৌরভ বললেন, ‘সেগুলি ফাঁকা রেখেই এজিএম হবে। পরে প্রয়োজনে বিশেষ সাধারণ সভা করে নির্বাচন করা যেতে পারে।’ ১০ প্রশ্নের জবাব না আছে শাসক গোষ্ঠীর কারও কাছে, না ছবিটা স্পষ্ট বিরোধীদের কাছে। সব মিলিয়ে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থায় বেনজির অচলাবস্থা?‌

একাধিক প্রশ্নও উঠছে সিএবির বিভিন্ন মহল থেকে।

লোঢা আইন মেনে এজিএমে প্রতিনিধিত্ব করার শর্তে যদি নির্বাচন আটকে যায়, তা হলে ওই একই নিয়মে বার্ষিক সাধারণ সভাই বা হবে কী করে? বিশেষ সাধারণ সভার আগে জেলাশাসক ও কয়েকটি ক্লাব এই চিঠি দেওয়ার পর কেন প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে লোঢা আইন মানা হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হল না? জরুরি সাধারণ সভা করে বলা হল যে, কারও আপত্তি থাকলে আদালতে যেতে পারে! কেন সরকারের সঙ্গে বসে সমাধানসূত্রের খোঁজ করা হল না?

যদি আদালতে যাওয়ার কথাই বলা হল, তা হলে কেন ক্য়াভিয়েট পাঠানো হল সদস্যদের, যেখানে কেউ আইনের দ্বারস্থ হলে সিএবি-কে আগাম জানাতে হবে?

সিএবি সংবিধানে বলা রয়েছে, পদাধিকারীদের নির্বাচন পদ শূন্য হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের পদে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। যুগ্মসচিব ও অ্যাপেক্স সদস্যের ইস্তফার পর শূন্যস্থানের সেই মেয়াদকাল পেরিয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই সুপ্রিম কোর্টের আইনভঙ্গ হয়েছে। নির্বাচন না করা গেলে সেটা আরও অবমাননার পর্যায়ে পৌঁছে যাবে না তো?

২৩ সেপ্টেম্বর সচিব বাবলু কোলের মেয়াদকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। তার ৬০ দিন অর্থাৎ ২৩ নভেম্বরের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে সচিব নির্বাচন করতেই হবে। তা না হলে আদালত অবমাননার জন্য সিএবি প্রশাসনকে কাঠগড়ায় উঠতে হবে না তো?
বলা হচ্ছে, সিএবি-র যুগ্ম-সচিব সিগনেটরি অর্থাৎ সই করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন। কিন্তু সচিব তো সিগনেটরি। নির্ধারিত সময়ে সচিব নির্বাচন না হলে আদালতে মামলা হবে না তো?
বিশেষ সাধারণ সভায় যুগ্মসচিব নির্বাচন ভেস্তে যাওয়ার পর ইলেক্টোরাল অফিসারের পর্যবেক্ষণে শুধু এটাই লেখা হয়েছিল যে, মনোনয়ন জমা না পড়ায় নির্বাচন হয়নি। সেখানে কিন্তু চিঠির ঝড়ের কথা বলা হয়নি। বলা হচ্ছে, আদালতে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইলেক্টোরাল অফিসারের রিপোর্টকেই মান্যতা দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন করতে না পারার জন্য সিএবি-কেই প্রশ্নবাণ সামলাতে হবে। আদালত চাইলে নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটরও বসিয়ে দিতে পারে। তা কি সংস্থার ভাবমূর্তির জন্য ভাল হবে?
নির্বাচন ও এজিএম না হলে বোর্ডের অনুদান আটকে যাবে না তো?

কারও কারও মতে, সরকারের অঙ্গুলিহেলনেই জেলাশাসকেরা চিঠি পাঠাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত খবর, চারজন বিজেপি বিধায়ক এজিএমে আসার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সিএবি নির্বাচনে সরকার তা হলে কী ভূমিকা নেবে? তারা কি সরাসরি পদাধিকারী হিসাবে কাউকে আনতে চাইবে? যদি সেটা চায়ও, নির্বাচন করতে হবে। তাহলে গোটা পদ্ধতিকে পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়াস কেন?

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড স্পোর্টস বিলের আওতায় চলে এলে অনেক শৃঙ্খল ভেঙে যাবে, অনেক বিধিনিষেধ উঠে যাবে। সেক্ষেত্রে সিএবি প্রশাসনিক পদে আসার লড়াইটাও অন্য মাত্রা পেয়ে যাবে। নির্বাচন না হলে শাসক গোষ্ঠী না বিরোধী, কাদের সুবিধা? অসুবিধাই বা কাদের?

যখন CAB-এর বর্তমান প্রশাসনকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, AGM ও নির্বাচন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং সরকারও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে, তখন সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে না দিয়ে কি বর্তমান প্রশাসন ও বিরোধী গোষ্ঠীকে আলোচনার টেবিলে বসানো যায় না?

কেন সংস্থার বৃহত্তর স্বার্থে সমস্ত পক্ষকে নিয়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হবে না?

যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা যে পক্ষেরই হোন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে CAB-এর সংবিধান, প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে কাউকে রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত কারণে হেয় করাও উচিত নয়।

CAB কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
এটি বাংলার ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠান।

আর এখানেই প্রশ্নটা আরও গভীর।

যাঁরা বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন অথবা দীর্ঘদিন প্রশাসনিক পদে থাকার কারণে যাঁদের নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি না করে কি একটি সম্মানজনক ও সাংবিধানিক সমাধান করা সম্ভব নয়?

কেউ যদি বাংলার ক্রিকেটের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব হন, যাঁর পরিচিতি সারা ভারতবর্ষ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলেও রয়েছে, তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানিয়েই তো প্রশাসনিক দায়িত্বের পরিবর্তে মেন্টর, পরামর্শদাতা বা ক্রিকেট-সংক্রান্ত অন্য কোনও সম্মানজনক ভূমিকায় যুক্ত রাখা যেতে পারে।

তাতে ব্যক্তির মর্যাদাও থাকে, অভিজ্ঞতাও কাজে লাগে, আবার সংস্থার নিয়ম ও বয়সসীমার প্রশ্নও সমাধান করা যায়।

কাউকে অপমান করা নয়।
কাউকে সরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি নয়।
আবার নিয়মকেও উপেক্ষা করা নয়।

অভিজ্ঞ মানুষকে সম্মান করা এবং প্রতিষ্ঠানের সংবিধান মেনে চলা, এই দুটো বিষয় পরস্পরের বিরোধী নয়।

কিন্তু আরও একটি প্রশ্ন আছে।

প্রশ্নটা কি শুধু CAB-এর নির্বাচন নিয়ে, নাকি নেতৃত্বের মানসিকতা ও জবাবদিহি নিয়েও?

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে ভারতের অন্যতম স্বনামধন্য ক্রিকেটার। তাঁর ক্রিকেটীয় অবদান এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই।

কিন্তু ক্রিকেটের কিংবদন্তি হওয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে থাকা এক বিষয় নয়।

তাই প্রশ্ন করা যেতেই পারে—

কোথাও কি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করছে?
কোথাও কি এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, আইকনিক ইমেজ অথবা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নগুলি শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব পাবে না?

যদি এমন ধারণা সত্যিই কোথাও তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সেটি CAB-এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

কারণ—

কোনও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা সংস্থার সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।
কোনও কিংবদন্তির পরিচিতি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়।
কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়মের বিকল্প নয়।

আর যদি CAB প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে তার সবচেয়ে ভালো উত্তর হবে স্বচ্ছতা, নথি প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।

তাহলেই সন্দেহ দূর হবে, বিতর্কও কমবে।

আর যদি কোথাও সত্যিই প্রশাসনিক ভুল, স্বার্থের সংঘাত বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে ব্যক্তি যত বড়ই হোন না কেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করবে।

তাই বর্তমান প্রশাসন ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খোঁজা কি এখন সবচেয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নয়?

কারণ শেষ পর্যন্ত—

ব্যক্তি থাকবেন না।
গোষ্ঠীও থাকবে না।

থেকে যাবে CAB।
থেকে যাবে বাংলার ক্রিকেটের ইতিহাস।

তাই ক্রিকেট মহলের প্রশ্ন খুব সরল—

CAB কি কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে চলবে, নাকি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে?

ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান বড়।
ইমেজ নয়, জবাবদিহি বড়।
ক্ষমতা নয়, নিয়ম বড়।
গোষ্ঠী নয়, ঐক্য বড়।

আর সর্বোপরি—বাংলার ক্রিকেট সবার আগে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles