RK NEWZ ফরাসি ওপেন জিতেছেন আলেকজান্ডার জ্বেরেব। চলতি বছরেই। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন। বছরের শেষটা করলেন ইউএস ওপেন জিতে। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ জ্বেরেবের। ফরাসি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনও জিতলেন। প্রতিযোগিতায় নামতে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চোট সারিয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েন কার্লোস আলকারাজ়। প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান নোভাক জোকোভিচ। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন জ্বেরেব। ফাইনালে আমেরিকার বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে ৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২ হারালেন জার্মান তারকা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুধু শেলটন নন, ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগের বিরুদ্ধে খেলতে হল জ্বেরেবকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে শেলটনকে সমর্থন করে গেলেন দর্শকেরা। তাতে লাভ হল না। ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিক টিয়েমের কাছে শেষ তিন সেটে হেরে ম্যাচ হারতে হয়েছিল জ্বেরেবকে। এবার আর সেটা হতে দিলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান তারকা হিসাবে এই ট্রফি তুললেন জ্বেরেব। মাত্র চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জ্বেরেব। খেলার মাঝে দেখা যাচ্ছিল, বার বার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন। কখনও চকোলেট খাচ্ছেন। কখনও কোনও পানীয়। এত বছর ধরে এই রোগ সামলে পেশাদার টেনিসে সফল হওয়ার কৃতিত্ব নিজের মাকে দিয়েছেন। খেলা শেষে শেলটনের প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেছেন জ্বেরেব। পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন।
খেলা শেষে জ্বেরেব বলেন, “চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।” প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানের সম্পর্কে জ্বেরেব বলেন, “ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া।” এ কথা শুনে ট্রিনিটি হেসে ফেলেন।




