RK NEWZ মঞ্চে গেলেনই না ভারতের চ্যাম্পিয়ান মেয়েরা। হরমনপ্রীতেরা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিলেনই না। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ জেতার পর পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নেননি সূর্যকুমার যাদবেরা। একই কাজ করলেন হরমনপ্রীত কৌরেরাও। ম্যাচের শুরু থেকে গ্যালারিতে দেখা যায়নি নকভিকে। দেখে মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান ফাইনালে না ওঠায় হয়তো আসেননি তিনি। কিন্তু খেলার শেষ দিকে দেখা যায়, গ্যালারিতে দেবজিৎ শইকীয়া, রাজীব শুক্লের ঠিক পিছনেই বসে নকভি। তখনই নাটকের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। খেলা শেষ হওয়ার ৪৫ মিনিট পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। গত বছর ১ ঘণ্টার বেশি দেরিতে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। এবার হয়তো ভারত কী করবে, তা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। নকভিও হয়তো জানতেন, ভারত পুরস্কার নিতে আসবে না। তাই মঞ্চে এশিয়া কাপের ট্রফিই ছিল না। গত বারের ট্রফি এখনও পাননি সূর্যেরা। হরমনপ্রীতেরাও হয়তো ট্রফি পাবেন না। পুরস্কার অনুষ্ঠানের শুরুতে আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের মেডেল দেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে রানার্সের চেক তুলে দেন নকভি। তার পরেই সঞ্চালক পারভেজ় মাহরুফ জানিয়ে দেন, এখানেই অনুষ্ঠান শেষ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মঞ্চের আশপাশে দেখাও যায়নি। গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও তার পর অপারেশন সিঁদুর-এর পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান দু’দলের সম্পর্ক তলানিতে। সেপ্টেম্বর মাসে এশিয়া কাপ থেকেই করমর্দন বিতর্ক শুরু। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। পরে পুরস্কারও নেননি সূর্যেরা। সেই জল অনেক দূর গড়িয়েছিল। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বার বার বলার পরেও ট্রফি এ দেশে পাঠাননি নকভি। এবারও সেই একই দৃশ্য দেখা গেল।
ভারতীয় ‘সিংহীবাহিনী’র দাপট। ক্রিকেটবিশ্বে চমক দেখালেন ভারতের মেয়েরা। চামারি আতাপাত্তুর দলকে ফাইনালে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টম বার এশিয়া কাপ ঘরে তুলল হরমনপ্রীত কৌরের ভারত। প্রথমে ব্যাট করে স্মৃতি মন্ধানা এবং শেফালি বর্মার হাফসেঞ্চুরির দৌলতে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ ১১১ রানে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হরমনপ্রীত। স্লো উইকেটে এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সাহসী। চামুণ্ডি প্রবোদার বলে চামারি আতাপাত্তুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ বলে ৬৮ রানে আউট হন শেফালি। ১২৯ রানের দুরন্ত ওপেনিং জুটি। তিন নম্বরে নেমে স্মৃতির রান আউটের কারণ হরমনপ্রীত। সরাসরি ফিল্ডারের কাছে বল যাচ্ছে দেখেও রান নিতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ক্রিজ ছাড়েন স্মৃতি। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫৯ রান করে ফিরতে হল স্মৃতিকে। চার নম্বরে নেমে রিচা ঘোষ কয়েকটি বড় শট খেললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আতাপাত্তুর বলে ১৭ রানে ফিরলেন। ১৪ রান করেন হরমনপ্রীত, ৫ রান করে রান আউট দীপ্তি শর্মা। শেষ পর্যন্ত ১৮৩ রানেই থামতে হয় ভারতকে। দুবাইয়ের এই মাঠে ১৫০ রানও যে সহজে তাড়া করা যায় না, তা দেখা গিয়েছিল আগের ম্যাচগুলিতে। সেখানে ১৮৪ রানের লক্ষ্য যে পাহাড়সম, শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। চতুর্থ বলেই ইমিশা দুলানিকে ফিরিয়ে দেন ক্রান্তি গৌড়। আতাপাত্তু অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন। শ্রীলঙ্কাকে পরপর দু’টি বড় ধাক্কা দেন দীপ্তি শর্মা। ২০ রানে বিশমি গুণরত্নে এবং ৩৬ রানে আতাপাত্তুকে ফেরান। ভারতের হয়ে শ্রী চরণী নেন চার উইকেট। দীপ্তির ঝুলিতে তিনটি। শেফালি, ক্রান্তি এবং প্রেমা রাওয়াত নেন একটি করে।




