১৬ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের জন্য জাপান রওনা হচ্ছে ভারতীয় টেবল টেনিস দল। কিন্তু তার আগে দল নির্বাচন নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে মণিকা বাত্রা এবং অঙ্কুর ভট্টাচার্যের মতো প্যাডলারদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে দলের স্ট্রেন্থ আন্ড কন্ডিশনিং কোচ জনসন দেবরাজের বাদ পড়া। শোনা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত কোচ হিসেবে দলে থাকা সৌম্যদীপ রায়কে জায়গা দিতে গিয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে ছাড়া গেমসে যেতে হচ্ছে দলকে। সূত্রের খবর, ১০ জুন প্রাথমিকভাবে জাতীয় টেবল টেনিস ফেডারেশন থেকে সাপোর্ট স্টাফদের তালিকা পাঠানো হয় সাই-এর কাছে। সেখানে বিদেশি পরামর্শদাতা ম্যাসিমো কস্ট্যানটিনি, চার কোচ সৌরভ চক্রবর্তী, সোমনাথ ঘোষ, মমতা প্রভু ও শচীন শেট্টি, ফিজিও শ্বেতা সোনোন, ম্যাসিওর অমরজিৎ সিংয়ের সঙ্গে নাম ছিল স্ট্রেস্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ জনসনের। সেখানে সৌম্যদীপের নাম ছিল না। স্কোয়াডে থাকা তিন প্যাডলার-সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়, পায়াস জৈন ও সিন্ড্রেলা দাস তাঁর অ্যাকাডেমিতে খেলেন। এই তিন প্যাডলার টিম ইভেন্টে থাকলেও সিঙ্গলসে খেলবেন না। সুতীর্থ ও সিন্ড্রেলা মহিলাদের ডবলসে এবং পায়াস মিক্সড ডবলসে খেলবেন। সেই সুবাদে ব্যক্তিগত কোচ হিসেবে এশিয়াডে যাওয়ার জন্য জুলাই মাসে ফেডারেশনকে চিঠি লেখেন সৌম্যদীপ। আগস্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় সাই ও আইওএ-র মধ্যে। সেসময় আইওএ থেকে ফেডারেশনকে জানানো হয়, একমাত্র অনুমোদিত তালিকায় নাম থাকলে দলের সঙ্গে যাওয়া যাবে। এরপর ফেডারেশনের তরফে বাকিদের সঙ্গে সৌম্যদীপকেও যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাইয়ের তরফে গেমসের জন্য সাপোর্ট স্টাফের তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়, তাতে কোচ হিসেবে নাম রয়েছে সৌম্যদীপের। কিন্তু বাদ পড়েছেন জনসন। সেখানেই প্রশ্ন। গত দেড়-দু’বছর ধরে স্ট্রেস্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে জাতীয় দলের সঙ্গে রয়েছেন জনসন। এই প্রাক্তন অ্যাথলিট দলের প্রত্যেক প্যাডলারকেই ভালোভাবে চেনেন। কাকে, কীভাবে প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করতে হবে, তাও অজানা নয় তাঁর। ফলে জনসনের বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে দলেই। গেমসের স্কোয়াডে থাকা এক সদস্যের কথায়, “লম্বা প্রতিযোগিতায় শারীরিকভাবে ফিট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কাজে স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচের ভূমিকা প্রচুর। কারণ তিনিই ম্যাচের আগে তৈরি করেন প্যাডলারদের। স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ না থাকলে প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ হবে। তার প্রভাবে খেলায় দেখা যাবে। আর এশিয়ান গেমসের মতো প্রতিযোগিতায় সেটা মোটেই দলের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আর যিনি পরিবর্তে যাচ্ছেন, তিনি তো প্লেয়িং এরিয়াতেও যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। তবে কেন পাঠানো হচ্ছে?” সৌম্যদীপ অবশ্য জানিয়েছেন, অ্যাকাডেমির প্যাডলারদের পাশে থাকার জন্যই দলের সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। দলের বাকিদের সাহায্য করতেও তিনি তৈরি।



