RK NEWZ সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের ঘটনা চিরপরিচিত। আগাগোড়াই সরকারি হাসপাতালে সক্রিয় দালাল চক্র। শহরের একাধিক সরকারি হাসপাতালে দলাল চক্রের অভিযোগ। এসএসকেএম, মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল, চিত্তরঞ্জন ন্যাশানাল মেডিক্যল থেকে শুরু করে সর্বত্র। রোখা যাচ্ছে না কিছুতেই। বিভিন্ন হাসপাতালে লালবাজারের গুন্ডা দমন শাখার অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশি অভিযানে মেডিক্যাল কলেজে পাকড়াও হয়েছিলেন ২ অ্যাম্বুল্যান্স চালক। এসএসকেএম থেকে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকজন দালালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নিজেকে এসএসকেএম হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে রোগীর পরিজনদের ‘সাহায্য’ করার নামে প্রতারণার অভিযোগ। হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্রের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে সালমা বিবি নামে এক মহিলার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। মেডিক্যাল কলেজের পরে এসএসকেএম হাসপাতাল অভিযান চালায় গুন্ডা দমন শাখা। দালালির অভিযোগে ৩ জনকে আটক করা হয়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সাগর দত্ত হাসপাতালে দালালরাজ নিয়ে সরব হয়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, সাগর দত্ত হাসপাতালে আইসিসিইউ-র জন্য ৬০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ওই একই হাসপাতালে রক্তের জন্য ১৭০০ টাকা দর বলেও অভিযোগ। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রমেন হালদার নামে এক রোগীকে ভর্তি করার জন্য ওই টাকা দাবি করে দালালরা। এসএসকেএম, এনআরএস-সহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অভিযানে চালানো হয়। ঘটনায় গত বছর জুন মাসে গ্রেফতার করা হয় ২ জনকে। ধৃতদের নাম গৌতম সরকার ও বিলাস সিংহ।

টাকার বিনিময়ে সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ বরাবরই আসছে। গত ২৮ আগস্ট কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে ছবিতা রায়(৫৫)নামে এক মূমুর্ষু রোগীকে ভর্তি করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা রোগীর পরিজনদের। সূত্রের খবর আইসিইউ বেড ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেন্টিলেশনে পড়ে থাকতে হল। রোগীর পরিজনেদের উপর অকথ্য দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গার্গী ব্যানার্জ্জীর বিরুদ্ধে। এমনকি সেই হসপিটালে থাকা এক দালাল রোগীর পরিজনের হাত থেকে কাগজ নিয়ে এই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গার্গী ব্যানার্জ্জীর ঘরে দুবার ঢুকতেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ। এই দালালই মূমূর্ষু রোগীকে আইসিইউ বেড পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রোগীর পরিজনেদের। এই রোগী কেন ভর্তি হচ্ছে না, তা জানার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গার্গী ব্যানার্জ্জীকে ফোন করেন বিজেপি হেল্থ সেলের অরিন্দম পাত্র। তাতেও অগ্নিশর্মা গার্গী বলেন, কেন বিজেপির লোক ফোন করছেন? রোগীর পরিজনেদের অভিযোগ শেষমেস ২০ হাজারের দালালি না দিতে পারার কারণেই মূমূর্ষু রোগী ভর্তি হতে পারলেন না কলকাতা মেডিক্যাল হাসপাতালে। সেই রোগী অবশেষে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হলেন ডক্টর গৌরাঙ্গ সাহা, অরিন্দম পাত্র এবং পঙ্কজ দে-র প্রচেষ্টায় ।

এবার কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ঘটনায় আসা যাক। এখানেও ঘুঘুর বাসা। এই সরকারী হাসপাতালের সুপার অর্ঘ্য মৈত্র ও এক সহকারী অভিষেক দের নামে অসংখ্য অভিযোগের পাহাড়। দীর্ঘ বছরের পর পছর ধরে দুর্নীতি, সিন্ডিকেটবাজী করে চলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার অর্ঘ্য মৈত্রর হাওড়াতে একটি নার্সিং হোমও রয়েছে বলে জানা গেছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিতাড়িত রোগী ন্যাশনাল মেডিক্যালে ভর্তি করা নিয়েও হরেক হেনস্থা রোগীর পরিজনেদের। অর্ঘ্য মৈত্রর ‘ঘনিষ্ঠ’ সহকারী অভিষেক দে। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ছে সরকারী হাসপাতালগুলোয়। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়। কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিল্ডিংয়ের ছাদে ভোদাফোন টাওয়ারের দেখভাল ও টাকার আদানপ্রদানে অর্ঘ্য মৈত্রর ‘ঘনিষ্ঠ’ সহকারী অভিষেক দে বলে অভিযোগ। ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতাকের ২ নন্বর গেট বছরের পর বছর ধরে বন্ধ অর্থাৎ তালা ঝোলানো অবস্থায় রয়েছে কেন? তার কোনও সদুত্তর নেই সুপারের কাছে। শোনা যায় রোগীর পরিজনেদের বিশ্রামাগারের নেওয়া হয় মাথাপিছু ২৫ টাকা। এছাড়া হাসপাতালের ভিতরে সুলভ শৌচাগার থেকে শুরু করে ক্যান্টিন ইত্যাদি সবকিছুরই কন্টাক্ট নেওয়া হোতা শেখ গোলামও অর্ঘ্য মৈত্রর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে অভিযোগ রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে নাকি দুর্নীতির পাহাড়ে বসে নিজের নার্সিং হোমে ব্লাড সাপ্লাই থেকে শুরু করে রোগী পাঠানো, চিকিৎসা ওষুধজাত দ্রব্য-সরঞ্জাম পাচারের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এই কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার অর্ঘ্য মৈত্রর বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি এসএসকেএম-এ পুলিশের জালে মহিলা দালাল! রোগীর পরিজনদের ‘সাহায্য’ করার নামে প্রতারণা! অথচ হাসপাতাল থেকে দালালচক্র নির্মূল করতে তৎপর রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকজন দালালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। নিজেকে এসএসকেএম হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে রোগীর পরিজনদের ‘সাহায্য’ করার নামে প্রতারণার অভিযোগ। হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্রের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে সালমা বিবি নামে এক মহিলার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। ওই মহিলা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালের ভিতরে টহলদারি করছিলেন হাসপাতালের আউটপোস্টের এক পুলিশ আধিকারিক। তখনই পুলিশের কাছে খবর আসে, সালমা বিবি(৪০)নামে এক মহিলা নিজেকে হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও আউটডোরে তাঁর অবাধ যাতায়াত রয়েছে বলেও দাবি। সন্দেহ হওয়ায় ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশকর্মীরা। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়ে। পুলিশের দাবি, ওই চ্যাট থেকেই এসএসকেএমে সক্রিয় একটি দালালচক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ইঙ্গিত মেলে। ওই মহিলাকে প্রায়শই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কর্তাদের ঘরের কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। রোগীর আত্মীয়দের কাছে তিনি নিজেকে হাসপাতালের কর্মী বলেই পরিচয় দিতেন। অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ২ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই টাকা দালালচক্রের সঙ্গে লেনদেনের অংশ। নিজেকে হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা এবং অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সালমার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনায় দালালচক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজেও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।




