RK NEWZ গোটা রাজ্যেই পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না, আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তবে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, পুজোর সময় রাজ্যের কোথাও ডিজে বাজানো যাবে না। এ বছরের দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদানের ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক লক্ষ টাকা করে অনুদান পাবে তারা, সোমবার এমনটাই জানান তিনি। তবে সেই সঙ্গে বড় পুজোর কমিটিগুলির কাছে তাঁর অনুরোধ, তারা যেন সাহায্য না নেয়। সেই সঙ্গে গোটা রাজ্যেই পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না, আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তবে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, পুজোর সময় রাজ্যের কোথাও ডিজে বাজানো যাবে না। হবে না কার্নিভালও। অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে পানশালাও। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন সরকার কি পুজোয় অনুদান-ব্যবস্থা চালু রাখবে? পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে বসার কথা ঘোষণা হতেই তা নিয়ে জল্পনা বাড়ে। মিলনমেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বারও অনুদান দেওয়া হবে। তবে সেই সঙ্গে একটি অনুরোধও তিনি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আগে এক কর্মসূচিতে বলেছিলাম, যাদের (কমিটি) ছোট বাজেট, তাদের অনুদান দেব। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। যারা সক্ষম (বড় বাজেটের পুজো কমিটি), তাদের বলব, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য না-নিতে। যাঁরা এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে।’’ শুভেন্দু পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী যা করছিলেন, ঠিক নয়। গত বার কত দিয়েছিলাম, এ বার তা হলে এক লাখ। সকালে মাছের বাজারে এ সব করি (আমরা)। ঠিক নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে ২৫ হাজার দিয়ে শুরু হয়েছিল অনুদান (দুর্গাপুজোর) দেওয়া। ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ভোটে লাভ হয়নি। অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে।’’ কী কী সুবিধা দেওয়া হবে পুজো কমিটিগুলিকে, মুখ্যমন্ত্রী তা-ও জানান, । তিনি জানান, সোমবার তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কথা হয়েছে সিইএসসির সঙ্গেও। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে তারা। দমকলের ছাড়পত্র নিতেও কোনও টাকা খরচ করতে হবে না পুজো কমিটিগুলিকে, জানিয়েছেন শুভেন্দু।
তবে এ বারের পুজো নিয়ে কিছু নিয়মনীতিও ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তিনি জানিয়েছেন, অষ্টমীর দিন রাজ্যে সব মদের দোকান বন্ধ থাকবে। পানশালাও বন্ধ থাকবে ওই দিন। পুজোর ক’দিন বাজানো যাবে না ডিজে। আটকানো যাবে না জাতীয় সড়ক। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘মহরমের শোভাযাত্রা ছিল, বলেছি ডিজে বাজাবেন না। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করতে দিইনি। সকলের সহযোগিতা নিয়েই করেছি সেটা। এ বার পুজোয় ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। সহযোগিতা করবেন।’’ প্রতিমা, মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিমা, মণ্ডপে এমন কিছু করবেন না, যাতে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ঐতিহ্যে আঘাত লাগে।’’ মহালয়ার আগে পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। দেবীপক্ষেই শুরু হবে উদ্বোধনের কর্মসূচি। প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়েও কিছু নিয়মনীতি মানতে হবে। শুভেন্দু জানান, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২৫ অক্টোবর। তার আগের দিন, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সব পুজো কমিটিকে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিমার নিরঞ্জন পঞ্জিকা মেনে হয়। নিজের ইচ্ছামতো হয় না। কাটঅফ ডেট রাখব। কারও উপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।’’ তবে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। বিসর্জন ঘাটে ক্রেন ব্যবহার করাও যাবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, এ বার পুজোয় কার্নিভাল হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘যে চাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, সেই কার্নিভাল হচ্ছে না।’’ মহালয়ার দিন ইডেনে হবে একটি কর্মসূচি। সেখানে আমন্ত্রিত থাকছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পর্যটন দফতর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে মহালয়ার দিন কর্মসূচি করছে ইডেন গার্ডেনে। ওখান থেকে আমাদের দুর্গাপূজার সূচনা হবে।’’ তিনি জানান, চার ঘণ্টার কর্মসূচিতে থাকছে ড্রোন এবং আতশবাজির প্রদর্শনী। তাঁর সংযোজন, ‘‘মহালয়ার দিন মায়ের আগমন দেখবেন কলকাতাবাসী।’’
দিঘাতেও পুজো উপলক্ষে অনুষ্ঠান করবে পর্যটন দফতর। মহালয়ার পরে রাজ্যের ছ’টি শহরে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান চলবে। কলকাতার চারটি ঘাটেও সাজসজ্জা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রস্তাব মেনে বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোয় এ বারও চালু থাকবে সরকারি পুরস্কার। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে শারদ সম্মান দেওয়া হবে। শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ, শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব পুজো, শ্রেষ্ঠ জনসমাগম, ভিড় ব্যবস্থাপনা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ ও মৃৎশিল্পী— এ সব বিষয়ে আমাদের পুরস্কার দেওয়া হবে।’’ নিরপেক্ষ ভাবে বিচারকেরা কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু।




