RK NEWZ বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিশ্বজনীন ভূমিকার কথা তুলে ধরে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত স্পষ্ট জানালেন, বৈচিত্রের মধ্যেও যে ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব— তা বিশ্বকে উপলব্ধি করানোই ভারতের আসল ‘ভাগ্য’ বা মূল লক্ষ্য। বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিশ্বজনীন ভূমিকার কথা তুলে ধরে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত স্পষ্ট জানালেন, বৈচিত্রের মধ্যেও যে ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব— তা বিশ্বকে উপলব্ধি করানোই ভারতের আসল ‘ভাগ্য’ বা মূল লক্ষ্য। তবে কেবল মুখে প্রচার করে নয়, নিজেদের আচরণের মাধ্যমে ভারতীয়দের এই বার্তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ, বৈচিত্র এবং ঐক্য, দু’টি বিষয়ই ভারতের ডিএনএ-তে রয়েছে। ২৯ আগস্ট আমেরিকার নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত মেডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ‘অ্যাহেড’ আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ) ফোরাম আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’-এ মূল বক্তা হিসেবে ভাষণ দিচ্ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এর প্রধান। আমেরিকার ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ৮৫০টি শহরের প্রতিনিধি ছাড়াও বিশ্বজুড়ে ২৯টি দেশের প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি আমন্ত্রিতদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ভারত বা বিশ্বের যে কোনও দেশ কেবল ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়; মহাজাগতিক নিয়মে প্রতিটি জাতিরই নির্দিষ্ট কিছু কর্তব্য পালনের থাকে। আমেরিকার ‘বহুমাত্রিকতা’ ও ভারতের ‘ঐক্য’। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী স্মরণ করিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রেরই বিশ্বকে দেওয়ার মতো একটি বার্তা, একটি নির্দিষ্ট মিশন এবং পৌঁছনোর মতো গন্তব্য থাকে। আমেরিকার প্রসঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে যেমন প্রায়ই উঠে আসে ‘বহুমাত্রিকতা’, তেমনই ভারতের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তিই হল ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’। আরএসএস প্রধানের কথায়, “ভারতের ডিএনএ-তেই রয়েছে এই ঐক্য ও বৈচিত্র। আমরা সকলেই এক, আর বৈচিত্র সেই একতাকে আরও অলঙ্কৃত করে তোলে। তাই বৈচিত্রকে কেবল মেনে নেওয়া বা সম্মান জানানোই নয়, তাকে উদযাপিত করতে হবে।”
‘কর্মভূমি’ আমেরিকা ও ‘জন্মভূমি’ ভারত
প্রবাসী ভারতীয়দের দায়িত্বের কথা স্মরণে এনে সঙ্ঘপ্রধান জানান, তাঁদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য তাঁদের ‘কর্মভূমি’ অর্থাৎ আমেরিকার প্রতি। তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকায় বাস করি, এখানেই উপার্জন করি। তাই আমাদের খাঁটি আমেরিকানদের মতো আচরণ করা উচিত। প্রবাসী ভারতীয়দের তাঁদের কর্মভূমির প্রতি অনুগত থাকতে হবে এবং সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
কর্মভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের পর যদি জন্মভূমি ভারতের প্রতি কিছু করার তাগিদ থাকে, তবে তা নিষিদ্ধ নয়। তবে জন্মভূমি মূলত এটাই প্রত্যাশা করে যে, সেখান থেকে পাওয়া মূল্যবোধ নিয়ে মানুষ জীবনযাপন করবে।
‘দেব’ বনাম ‘রাক্ষস’ মানসিকতা
মানবধর্মের মূল শিক্ষা বোঝাতে গিয়ে দু’টি ভিন্ন জীবনযাত্রার মানসিকতার তুলনা টানেন ভাগবত।
‘রাক্ষস’ প্রবৃত্তি: যারা শর্ত চাপিয়ে বলে ‘আমাদের কথা মেনে চললে তবেই তোমাদের রক্ষা করব’, তারা রক্ষাকর্তা নয়, প্রকৃতপক্ষে ‘রাক্ষস’ মানসিকতার পরিচয় দেয়।
‘দেব’ প্রবৃত্তি: অন্যদিকে, কে আমাদের কথা শুনল কি শুনল না, কার মতামত কী বা কে কতটা কাজের, এই ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মানবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের খাতিরে বিশ্বকে টিকিয়ে রাখতে যারা সবাইকে নিয়ে বাঁচে, তারাই ‘দেব’ সমতুল্য।
মনুষ্যজাতির চিন্তাশক্তির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সঠিক চিন্তা মানুষকে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যায়, আর ভুল চিন্তা ঠেলে দেয় পশুজগতের দিকে। বাহ্যিক রূপ আলাদা হলেও মানুষের ভেতরে একই সত্তা বিরাজমান— এই বোধ থেকেই বৈচিত্রের মধ্যেও বিশ্বকে ধরে রাখার মূল গুরুদায়িত্ব মানুষেরই।




