Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিলুপ্ত জাদুকরী গাছ! ২০০০ বছর আগে ব্যবহৃত হত গর্ভনিরোধক

RK NEWZ সিলফিয়াম এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে এর রসের দাম অনেক সময় রুপোর ওজনের সমান বলে প্রাচীন লেখায় দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই ব্যবহার কতটা কার্যকর বা নিরাপদ ছিল, তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ডে প্রমাণিত নয়। নআজ থেকে হাজার বছর আগে কৃত্রিম গর্ভনিরোধকের আবিষ্কার হয়নি। তবে গর্ভনিরোধকের প্রয়োজনীয়তা সমাজে ছিল বৈকি! সে সময় অন্যান্য যে কোনও শারীরিক সমস্যা সারানোর মতোই এ কাজেও মানুষকে শরণাপন্ন হতে হত নির্দিষ্ট কিছু ভেষজের। আজ থেকে আনুমানিক ২০০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় এই কাজে ব্যবহার করা হত সিলফিয়াম বা সিলফায়ন নামের একটি গাছ। বর্তমান লিবিয়ার সাইরেনাইকা অঞ্চলে এই গাছ পাওয়া যেত বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গাছটির কাণ্ড, মূল বা শিকড় রান্না করে খাওয়া হত। মাছ বা মাংসের সঙ্গে স্যুপও রান্না করা হত তা দিয়ে। সবচাইতে মূল্যবান ছিল গাছটির কাণ্ড থেকে নির্গত রস বা আঠা। সেটিকে শুকিয়ে মশলার মতো ব্যবহার হত রান্নায়। সিলফিয়ামএর রসের দাম প্রায় রুপোর দামের সমান বলে প্রাচীন লেখায় দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই ব্যবহার কতটা কার্যকর বা নিরাপদ ছিল, তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ডে প্রমাণিত নয়। গাছটির আশ্চর্য গুণাবলীর জন্য অনেকেই একে অলৌকিক বলে মনে করত। তবে বাজারে সিলফিয়ামের চাহিদা অস্বাভাবিক রকমের বেড়ে যাওয়ায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের মধ্যেই তা বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে গবেষকদের ধারণা। কালের নিয়মে লোকচর্চার আড়ালে চলে গিয়েছে এই গাছ। সাম্প্রতিককালে গাছটির কথা আরও একবার উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। আবারও কি খোঁজ মিলল হারিয়ে যাওয়া সিলফিয়ামের? ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুত মিসকি তুরস্কের মধ্য আনাতোলিয়া অঞ্চলে, হাসান পর্বতের আশপাশে একটি বিরল উদ্ভিদ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছিলেন। উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘ফেরুলা ড্রুডেয়ানা’। গবেষণার এক পর্যায়ে অনুধাবন করেন যে এর হলুদ ফুল, কাণ্ডের গঠন এবং শিকড় থেকে পাওয়া সুগন্ধি রজনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রাচীন সিলফিয়ামের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়। গবেষক মিসকির মতে, প্রাচীন গ্রিক জনগোষ্ঠীই হয়তো কোনও এক সময় লিবিয়া থেকে এই উদ্ভিদ তুরস্কে নিয়ে এসেছিল। তুরস্কে এর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles