Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হয় ওরা থাকবে, নয় আমরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেয়াদবদের’

RK NEWZ ‘ছাত্র ভোট হবে, সব কলেজে উড়বে গেরুয়া আবির’, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। যাদবপুরে দাঁড়িয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, এ বার হয় ওই ‘বেয়াদবেরা’ থাকবেন, নয় ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। তাঁর কথায়, যাদবপুরের পড়ুয়ারা নিট-কেন্দ্রিক কর্মসূচিতেও ভারতকে নিয়ে কোনও স্লোগান দেয় না। বদলে বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’। তারা সিঁদুর অভিযানের সময় পথে নেমে বলে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। বাম সরকার ৩৪ বছর ধরে তাদের মদত দিয়েছে। তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে নিজের স্বার্থে ‘সমঝোতা’ করেছে। কিন্তু এ বার হিসাব শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এইট-বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হয়েছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যাম্প। সেই কারণে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ফটক। শুক্রবার বিকেলে সেই মঞ্চে উঠেই শুক্রবার বক্তৃতা করেন শুভেন্দু। বুঝিয়ে দেন, কোন উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। সেই উদ্দেশ্যের কথা জানাতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বার বার আঙুল তোলেন পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকারের দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কোনও দিন পাবেন না।’’ শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কমিউনিস্টরাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, সনাতন সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, মুনি-ঋষিদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে।

শুভেন্দুর কথায়, তার পরে তৃণমূল সরকারের আমলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যপাল তথা আচার্যকে অপমান করা হয়েছে। র‌্যাগিং-কাণ্ডের সময়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। শুভেন্দু জানান, সে সময় তাঁর গাড়ির উপরে উঠেও লাফিয়েছিলেন কয়েক জন। তাঁর কথায়, ‘‘জানলার কাচ নামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। বলল, আমরা মাওবাদী। আপনাকে গোব্যাক বলতে এসেছি। ৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত। ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (পড়ুয়ারা) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নোট ভোট টু নরেন্দ্র মোদী। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।’’ তার পরেই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকারের আমলে এ সব চলবে না। তাঁর কথায়, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনের সময় সেখানে যে স্লোগান ওঠেনি, তা যাদবপুরে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন, ওই মিছিলে হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই অভিভাবকেরা ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের পক্ষে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে আমল না দিয়েই পড়ুয়াদের জোরে করে চে গেভারার টি-শার্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘না যেতে চাইলে বলা হয়, রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের যে পরিণতি হয়েছিল, তাদেরও তা-ই হবে। সেই মিছিলে নিট নিয়ে স্লোগান নেই। ভারতকে সমৃদ্ধ করার স্লোগান নেই। মমতা ২৬ হাজার চাকরি চুরি করলেন, সেই নিয়ে স্লোগান নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্লোগান কী? আজাদি। কিসের আজ়াদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজ়াদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজ়াদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজ়াদি? সিআরপিএএফ-কে যখন জঙ্গিরা মারে, বিতান অধিকারীদের যখন হিন্দু বলে পহেলগাঁওয়ে খুন করা হয়, সে দিন এদের মিছিল হয় না। অপারেশন সিঁদুর হলে মিছিল বার করে। বলে, যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। অবিলম্বে পাকিস্তানে ভারতীয় হানা বন্ধ করো! হিসাবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব। এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’’

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদের ভোট না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছিল বিরোধীদের। নতুন সরকার আসার পর সেই অধরা কাজ যাতে বাস্তবায়িত হয়, তার জন্য বারবার দাবি উঠেছে। এনিয়ে ‘আসল’ তৃণমূলের খোদ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, সংঘর্ষের ঘটনার পর রাজ্য সরকারও ছাত্র ভোট নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল। শুক্রবার তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলেন। যাদবপুরে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘‘ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে, কলেজে কলেজ গেরুয়া আবির উড়বে।” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র লক্ষ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বাম ছাত্র সংগঠনকে সংসদের ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দখল নেওয়া। সম্প্রতি ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনার পর বিজেপি, এবিভিপির দাবি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ইন্ধন দেওয়া হয়, তা প্রতিফলিত হয়েছে নন্দলাল বসুর তৈরি নামফলকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়। আসলে এখানে অশান্তির সূত্রপাতই হয়েছিল ভেঙে যাওয়া ছাত্র সংসদের সাধারণ সভা বা জিবি মিটিং ঘিরে। এবিভিপি প্রশ্ন তুলেছিল, যেখানে ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব নেই, সেখানে কেন জিবি মিটিং হচ্ছে? এই নিয়েই সংঘর্ষ থেকে এরপর থেকে নানা স্তরে দ্রুত ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন করানোর দাবি ওঠে। লক্ষ্য একটাই, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে ছাত্র সংসদ দখল।সেই সূত্রেই এদিন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র ভোট নিয়ে মুখ খুললেন। তাঁর কথায়, ‘‘শিগগিরই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে। সব জায়গায় জিতবে এবিভিপি। কলেজে কলেজে উড়বে গেরুয়া আবির। আর কারও কোনও সুযোগই নেই।” ছাত্র রাজনীতিই যে আসল ভিত তৈরি করে, পরবর্তীতে তার হাত ধরে উঠে আসেন রাজনৈতিক নেতারা, তা একাধিকবার সবিস্তারে বলেছেন একসময়ের বাম ছাত্র ও যুবনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তিনি ভালোই বোঝেন।গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকাকালীন যে ছাত্র ভোট হয়নি, তা নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে পড়ুয়া মহলে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সেই ‘বঞ্চনা’ কেটে যাবে বলে আশাবাদী ছাত্রছাত্রীরা। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র তেমন ভিত নেই। এবার ছাত্র ভোট হলে এবিভিপি-র কাছে সেই সুযোগ অনেকটা প্রশস্ত হবে বলে মত পড়ুয়াদের একাংশের।

বক্তৃতার আগে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্‌’ গান যখন গাওয়া হয়, তখন খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে অটুট করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান করি। হাজার হাজার মানুষ ভিজছিলেন। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিয়ে আমিও শামিল হলাম।’’ তিনি এ-ও জানান, ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই তাঁর সরকারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles