Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘জিরো টলারেন্স’! কঠোর শমীক তৃণমূল জমানার ‘ব্যাধি’ যাতে দলের মধ্যে সংক্রামক না হয়ে পড়ে

‌‘দুর্নীতির দায় দল কখনওই নেবে না’। দুর্নীতি ও তোলাবাজিতে ‘জিরো টলারেন্স’! দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় বারবার কড়া বার্তা দিয়ে চলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু কে কার কথা শোনে। একের পর এক অনুপ্রবেশ। সারিবদ্ধভাবে দলে ঢুকে পড়ছে ‘‌দলবদলুর’‌ দল। ফাঁপরে পড়ছেন দলের নিচুস্তরের কর্মীরা। যাঁরা দলের জন্য লড়াই করেছেন। দলকে নির্ভেজাল ভাবে ভালোবেসেছেন। বুথ স্তরের এক কর্মীর গলায় হতাশার সুর — ‘‌কিছু বলার নেই। কিছুদিন আগেও যারা ক্ষমতায় এলে বাড়ি থেকে বেরোতে দেবে না বলেছিল, তারাই আজ মঞ্চে বিধায়কের সঙ্গে উত্তরীয় আদানপ্রদান করছে। বিধায়ক বলছেন, আমি বিধায়ক, আমি সবার, আমার সঙ্গে সবাই ছবি তুলতেই পারে। আবার একদা সিপিএম, পরে তৃণমূল, আজ বিজেপির গেরুয়া উত্তরীয় শিল্পপতি বলছেন, যে দল আসবে আমি তারই। আমাকে তো ব্যাবসা করে খেতে হবে। না হয় একটু মোটা টাকা ডোনেশন যাবে। অগনিত এফআইআর, পলাতক তৃণমূল নেতা নাকি ফিরছেন পঞ্চাশ লাখের রফায়, বলে কানাঘুঁষো। আবার সিন্ডিকেটবাজিতে অভ্যস্থ বোমার আঘাতে প্রতিবন্ধী দাগী আসামীও গলায় উত্তরীয় জড়িয়ে জেলা শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে থিচ মেরী ফটো খিচ। তাহলে আর বদল হল কোথায়, বলুন?‌ আমরাই অসহায়। শুধু চোখ আছে দেখে যাচ্ছি। মুখ বন্ধ করে আছি। কিছু বলার নেই। এ কেমন পরিবর্তন?‌’‌ হতাশায় এরকম প্রশ্ন করে বসছেন একের পর এক বুথকর্মী। অথচ শমীকের আহ্বান, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দলের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখি।’ দীর্ঘ বার্তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সবপ্রান্তের বিজেপি নেতা, জনপ্রতিনিধি থেকে কার্যকর্তা, কর্মীদের কাছে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, তৃণমূল জমানার ‘ব্যাধি’ যাতে দলের মধ্যে সংক্রামক না হয়ে পড়ে, তার জন্য গোড়া থেকে কঠোর বিজেপি রাজ্য সভাপতি নিজে। কিন্তু তাঁর হাজার বার্তাতেও কাজ হয়নি। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এবার কার্যত মরিয়া হয়ে শমীকের লিখিতস বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হল।‌

দলীয় পতাকার আড়ালে কিছু অসৎ লোক অপকর্ম চালাচ্ছে – তা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়ে শমীক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাতারাতি দলে যোগ দেওয়া কিছু নবীন নেতাকর্মীই মূলত এই ধরণের অনিয়মে লিপ্ত। তাঁদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরেও বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় দলের অন্দরেই ক্ষোভের পারদ চড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের ‘ভাবমূর্তি রক্ষা’য় ফের দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’ । রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, চিঠির শুরুতেই কিছু নেতাকর্মীর অনৈতিক ও ‘অনভিপ্রেত’ কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শমীক সাফ জানান, দলীয় আদর্শ ও নীতি লঙ্ঘন করে কোনও ব্যক্তি অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়লে দল কোনোভাবেই তার দায়ভার গ্রহণ করবে না। পরিস্থিতির খুব বদল না হওয়ায় ফের দলীয় কর্মীদের সংযত ও সতর্ক করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। বর্তমান শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রাজ্যে তোলাবাজি ও অনিয়ম রুখতে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানালেও, বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এর আগেও গত ১ আগস্ট শমীক ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “শুধরে যান, নয়তো বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস!” চিঠির ধাঁচে লেখা শমীক ভট্টাচার্যের স্বচ্ছতার বার্তা জেলা সংগঠনের সর্বস্তরে। ‘জরুরি সতর্কবার্তা’র শুরুতেই সম্বোধন করা হয়েছে – ‘প্রিয় রাজ্য, জেলা, অঞ্চল, মণ্ডল এবং বুথ স্তরের সমস্ত বিজেপি কার্যকর্তা ও কর্মী ভাই-বোন’দের। বলা হয়েছে, সততা, স্বচ্ছতা ও আদর্শই বিজেপির মূল চালিকাশক্তি। ভারতীয় জনতা পার্টিরর সুদীর্ঘ আদর্শ আরও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে শমীক লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির জিরো টলারেন্স নীতি এবং দেশসেবার সংকল্পই বিজেপির কাজের মূল ভিত্তি। অতি সম্প্রতি চিঠি ও বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কিছু অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের তথ্য আমার নজরে এসেছে। বুথ স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত – যে কোনও সদস্যের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য। দলের নীতির বাইরে গিয়ে কোনও ব্যক্তি যদি কোনও অনৈতিক বা দুর্নীতির কাজের সঙ্গে যুক্ত হন, দল তার দায়ভার কখনওই নেবে না।’

মূলত তিনটি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথমত কঠোর পদক্ষেপ। দুর্নীতির প্রমাণ মিললেই যে কোনও দলীয় পদাধিকারী বা নেতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয়ত ভাবমূর্তি ও ত্যাগের মর্যাদা। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না এবং পুরনো কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগের কথা মাথায় রেখে সতর্কভাবে চলতে হবে। তৃতীয়ত স্বচ্ছতা ও জনসেবা। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রেখে সবাইকে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই একসঙ্গে ২২ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করে বিজেপি। বিভিন্ন এলাকা থেকে, বিশেষ করে কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলি থেকে তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করছিল। অবশেষে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিজেপি। সূত্রের খবর, তোলাবাজির অভিযোগ ওঠার পর বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি প্রায় আড়াইশোরও বেশি কর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তাঁদের কাছে জবাব তলব করা হয়। পরে সেই জবাব খতিয়ে দেখে দেখা যায়, প্রায় ৮০ জন কর্মীর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত। সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া শোকজ নোটিস প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

রাজ্যে বিজেপি সরকারের বয়স সবে একশো দিন পেরিয়েছে। তার মধ্যেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে খুনোখুনির ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বারবারই দলকে নানা অভিযোগ থেকে কলুষমুক্ত করতে কঠোর থেকে কঠোরতর বার্তা দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তাতেও বিশেষ কাজ হয়নি। এবার চিঠির ধাঁচে লেখা শমীকের সতর্কবার্তা ভাইরাল বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। জেলায় জেলায় গ্রুপ মারফত সেই বার্তা দলের সর্বস্তরের নেতা, কার্যকর্তা, কর্মীদের কাছে। দলের সকল স্তরের কর্মী ও নেতৃত্বকে কঠোরভাবে নির্দেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles