Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবই!‌ কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান তুললে মুখ সেলাই করে দেওয়া হবে : মুখ্যমন্ত্রী

RK NEWZ কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। যাদবপুর নিয়ে অনেকেই দেখেছি সমাজমাধ্যমে কাঁদছেন। তাঁরা শুনে রাখুন, এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে। যাঁরা ২৬ জানুয়ারি বা ১৫ অগস্ট পালন করেন না, সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁদের পক্ষ নিয়ে যতই ‘আহা-উহু’ করুক, সরকার নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না। এই সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে এসেছে। রাষ্ট্রবাদ, সনাতন সংস্কৃতি, বন্দে মাতরম্, তেরঙ্গা, রবীন্দ্রনাথ-নেতাজি-বঙ্কিমচন্দ্র কিংবা কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর ও তারকেশ্বর ধামের আস্থার সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা হবে না। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া দল দিল্লি থেকে ডোরিনা ক্রসিং হয়ে যাদবপুরের অন্দরে ঢুকে যতই মড়া কান্না কাঁদুক না কেন, রাজনৈতিক জল আর বেশি দূর গড়াবে না।’’

ক্যাম্পাসে ছাত্রসংঘর্ষ, তার পর বহিরাগত তাণ্ডবের অভিযোগে উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার দুপুরে উপাচার্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন থানায়। গঠিত হল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বিকেলে বেরোল প্রতিবাদ মিছিল। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং দীপক বর্মন। বুধবার সন্ধে থেকে গভীর রাত, বৃহস্পতিবারের দিনভর উত্তেজনা পেরিয়ে শুক্রবারও যাদবপুর ঘটনাবহুল। ই-মেল করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ রাত প্রায় ১২টা ৩৭ মিনিটে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বা বহিরাগত বেআইনি ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। কলা-বিজ্ঞান ভবনের সংযোগ রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ভবন অরবিন্দ ভবনের গাড়িবারান্দায় পতাকা, পোস্টার ও অন্যান্য সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত সামগ্রী গেটের ভিতর দিয়ে ভবনের মধ্যে ছুড়ে দেয়। অভিযুক্তেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। ১ নম্বর গেটে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেয় এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের হুমকি দেয়। ছাত্রদের হস্টেলের দরজা জোর করে ভাঙার চেষ্টা করে।
২০ আগস্ট ২০২৬ দুপুর প্রায় ২টা থেকে ফের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কিছু ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত করে। জোর করে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, ভয় দেখানো, ছাত্রদের হস্টেলে জোর করে ঢোকার চেষ্টা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দোষীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল জানান, শুক্রবারই গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি সেখানে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকার, বাবা সাহেব অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-র অধিকর্তা সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন একদল বহিরাগত। তাঁদের হাতে ছিল এবিভিপি-র পতাকা। কিন্তু মূল ফটক বন্ধ থাকায় তা টপকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। অভিযোগ সে সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের উপর পা দিয়ে ওঠার চেষ্টা হয়। ফলে এমব্লেমের ভিতর থেকে ভেঙে পড়ে বৃত্তাকার ধাতব অংশ। অভিযোগ, সেই বৃত্তাকার ধাতব অংশ ছুড়ে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ভিতরে। ওই প্রতীকের মেরামতি করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিকেলে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার তা পুনঃস্থাপিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগত তাণ্ডবের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা। সঙ্গে ছিলেন এসএফআই, ডিএসও-সহ অন্য বামপন্থী দলগুলির সদস্য বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিল যায় দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকা পর্যন্ত। তার পর সে মিছিল ফিরে আসে ক্যাম্পাসে। বিকেলে যখন যাদবপুরে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে মিছিল চলছে, সে সময় পাল্টা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এবিভিপি-র কর্মী সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যেরা যাদবপুরের প্রতীক ভেঙেছে। এবিভিপি-র কলকাতা মহানাগরীর সম্পাদক স্বাধীন হালদার বলেন, ‘‘বামেরা চক্রান্ত করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভেঙেছে। তারই বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ সমাবেশ।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles