RK NEWZ বাংলার ক্রিকেটারের জেল। ধর্ষণ মামলায় মিলল না জামিন। আপাতত জেলে বঙ্গ ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল। জামিনের আবেদন খারিজ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ধর্ষণের মামলায় ১৪ দিনের জেল হেফাজত। বাংলা ও আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা ক্রিকেটার এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার। হুগলির মগরা থানার পুলিশ তাঁকে পেশ করে চুঁচুড়া আদালতে। সেখানে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। হুগলির মগরা থানায় গত ২৩ জুন অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কর্নাটকের এক তরুণী। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে অভিষেকের সাড়ে তিন বছর সম্পর্ক ছিল। তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের পর শুক্রবার তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাইশ গজ থেকে সোজা কারাগারে অভিষেক পোড়েল। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট তাঁকে ফের শুনানির জন্য আদালতে পেশ করা হবে। ফলে ২৩ বছর বয়সি দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারকে আপাতত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে। বড়সড় সমস্যায় দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার।
ডাক্তারি পড়ুয়া তরুণীর অভিযোগ
অভিষেকের বিরুদ্ধে ৬৯, ৩১১, ৩১৮, ৬৬/৭২ আইটি ও বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। প্রথমে অভিষেকের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। এই প্রসঙ্গে হুগলি জেলা মুখ্য আইনজীবী শিবাজী দাস বলেছিলেন, “অভিযোগ খুবই গুরুতর। এক জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ এসেছে যে, তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কিছুকাল সময় কাটিয়েছেন। বিদেশযাত্রাও করেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। প্রকৃত সত্য সকলের সামনে আসবে।” তিনি আরও জানিয়েছিলেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট তিন দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত করে তিন দিন পর আবার অভিষেককে সিজেএম আদালতে পেশ করার সময়ে অভিষেকের দাদা ক্রিকেটার ঈশান পোড়েল চুঁচুড়া আদালতে হাজির হন। অভিষেকের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বিচারাধীন বিষয়, তাই কিছু বলবেন না। অভিষেকের বাবাও এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি। অভিষেকের কয়েক জন বন্ধুও উপস্থিত ছিলেন আদালত চত্বরে। কিন্তু তাঁরাও মুখ খুলতে চাননি।
সেদিন, মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের নির্দেশ, তারকা ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া। সেই অভিযোগেই এবার গ্রেপ্তার হলেন অভিষেক। এদিনই আদালত নির্দেশ দেয়, গ্রেপ্তার করতে হবে অভিষেককে। তাঁর ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারিণীর বেশ কিছু আপত্তিকর ভিডিও তুলেছেন অভিষেক, এমনটাই জানা গিয়েছে। সেসব ছবি বা ভিডিও যেন ফাঁস না হয়, সেটা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ আদালতের। যদিও আগাগোড়া নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়ে এসেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার। তারকা ক্রিকেটার জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এহেন অভিযোগ ভিত্তিহীন। জুন মাসে মায়ের সঙ্গে গিয়ে হুগলির মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই ডাক্তারি পড়ুয়া। জানিয়েছেন, সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। তাঁদের বিয়ে হবে বলেও ঠিক ছিল। কিন্তু বছর দেড়েক আগে অভিষেকের সঙ্গে অভিযোগকারিণীর সম্পর্কে অবনতি ঘটে। সেবারও বিষয়টি থানা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু ওই তরুণী সেসময়ে অভিযোগ দায়ের করেননি। কিন্তু এবার ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস থেকে শুরু করে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের হয় বাংলার তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। বাংলার তারকা ক্রিকেটার অভিষেকের প্রথম থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি, “এখন আমি ভাল খেলছি, তাই এমন নানা কথা উঠে আসছে।”
২৯ এপ্রিল ২০২৬, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি
২৯ এপ্রিল ২০২৬ কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, এ বার আইপিএল-এ বাঙালি মাত্র একজন। তিনি অভিষেক পোড়েল। বাংলা থেকে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, মহম্মদ সামি, শাহবাজ় আহমেদ, অভিষেক পোড়েল চোট পেলেও মুকেশ ও আকাশ চোটের জন্য ছিটকে গিয়েছেন। বাকিদের মধ্যে বাঙালি মাত্র একজন। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ বলেছিলেন, ‘বাংলার ছেলেরা সুযোগ পাচ্ছে না এটা আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখি। সামি, আকাশদের আমি বাংলার ছেলে হিসেবেই দেখি। ওরা যখন কলকাতায় আসে তখন ওদের বর্তমানের মাত্র দশ শতাংশ ছিল, এখানেই ওরা তৈরি হয়েছে। বাঙালি ছেলেরাও পারবে, চাপ নিতে হবে, ভালো খেলতে হবে। আশা করি তারা খেলবে ভারতের হয়ে। পোড়েল যখন খেলে তখন মনে হয় আমিই খেলছি। সময় দিলে হবে, কেউ না কেউ সাফল্য পাবে।’



