RK NEWZ অরূপ বিশ্বাসকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন শতদ্রু দত্ত। মেসি-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন শতদ্রু দত্ত। কলকাতা হাই কোর্ট অরূপ বিশ্বাসকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যাচ্ছেন মেসির ‘গোট ট্যুর’-এর উদ্যোক্তা শতদ্রু। শতদ্রু বললেন, “হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি। আগামী সপ্তাহেই আবেদন করব। আমি পিছিয়ে আসছি না। হালও ছাড়ছি না। শেষ দেখে ছাড়ব।”কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চের রক্ষাকবচ দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শতদ্রু। তাঁর আবেদন ছিল, অরূপের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ অরূপের রক্ষাকবচের নির্দেশ বহাল রাখে। কলকাতা হাই কোর্টের সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। মেসি-কাণ্ডে অরূপকে আগেই ১৭ অগস্ট পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। মঙ্গলবার তার মেয়াদবৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তদন্ত চললেও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। তাঁর যুবভারতীর সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। শতদ্রুকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর থানার পুলিশ। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল অরূপকে। অরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন শতদ্রু। সেই মামলার সূত্র ধরে অরূপকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে কয়েক বার ডেকে পাঠায় বিধাননগর পুলিশ। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়েছিলেন বার বার। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত প্রথমে তাঁকে ২ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিল। রক্ষাকবচ পাওয়ার পরেই হাজিরা দিয়েছিলেন।
গত বছর কেরলের তৎকালীন বাম সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুররহিম ঘোষণা করেন, নভেম্বরে কেরলের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনকে ১২৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মেসি আসছেন বলে প্রচার করা শুরু করে দেয় কেরলের বাম সরকার। এমনিতেই কেরলে প্রচুর ফুটবলভক্ত, মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আলাদা পাগলামো আছে। ভোটের ঠিক আগে আগে মেসিকে আনতে পারলে সেটার প্রভাব ভোটেও পড়বে বলে আশাবাদী ছিল কেরল সরকার। কিন্তু বিধি বাম। শেষপর্যন্ত মেসি আসেননি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচ আয়োজিত হয়নি। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেন, “আমরা স্পনসর জোগাড় করে ফেলেছিলাম। ২৫০ কোটি টাকা তুলেছিলাম। সেই টাকা থেকে আর্জেন্টিনা দলকে ১২৬ কোটি টাকা দেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু তারপর আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এমনটা হতে পারে, আমি ভাবতেও পারছি না।” বস্তুত তিনি দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ফেডারেশন টাকা নিয়েও খেলতে আসেনি। কিন্তু কংগ্রেস সেসময় পুরো বিষয়টিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। পরে রাজ্যে সরকার বদলের পর ওই পুরো ঘটনা নিয়ে ক্রীড়া বিভাগের বিশেষ সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। ওই তদন্তকারী দল মঙ্গলবার সে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ওই তদন্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মেসির ভারতে আসার ব্যাপারটা পুরোটাই ভুয়ো। আর্জেন্টিনার ফেডারেশনের সঙ্গে কোনও চুক্তি কেরল সরকারের হয়েছিল এমন কোনও প্রমাণ নেই। আর্জেন্টিনা ফেডারেশনকে ১২৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল এমন কোনও প্রমাণও নেই। এমনকী স্পনসর বেছে নেওয়ার জন্য কোনও টেন্ডারও ডাকা হয়নি। নিজেদের পছন্দের একটি সংস্থাকে স্পনসর হিসাবে বেছেছিল তৎকালীন বাম সরকার। গোটা বিষয়টিতে আর্থিক লেনদেন বা বেনিয়ম হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ভিজিল্যান্সকে দায়িত্ব দিয়েছে ভি ডি সতীশনের সরকার। এখানেই শেষ নয়, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের সুপারিশও করতে চলেছে কংগ্রেস সরকার। মেসি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গেল বামেদেরও! কেরলে মেসি-সহ গোটা আর্জেন্টিনা দলকে এনে প্রীতি ম্যাচ খেলানোর যে ঘোষণা গত বছর করা হয়েছিল, সেটার পুরোটাই নাকি ভুয়ো। আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা বা মেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগই করেনি কেরলের তৎকালীন সরকার। স্রেফ চমক দিতে মেসি আসবেন বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয়। অন্তত তেমনটাই দাবি বর্তমান কংগ্রেস সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিটির।




