RK NEWZ কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুর্নবিন্যাস চায় রাজ্য সরকার। সেই পর্যায়ে হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ হবে বিধানসভায়। বিশেষ অধিবেশনে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল পেশ হল। পুরনো সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও পেশ হয় বিধানসভায়। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “জনসংখ্যার তারতম্যের কারণেই ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হলে নাগরিকরা সঠিকভাবে পরিষেবা পাবেন। মানুষের ভোটে হারবেন বলে, এতদিন ভোটই করতে দেয়নি তৃণমূল। পুরসভার আর্থিক বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা হাওড়া বঞ্চিত। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, সংশোধনী বিল ২০২৬ নামে একটি বিল তৈরি হয়।” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাইয়ের অভিযোগ, “গত সরকারের আমলে নাগরিকদের নিয়ে ছিনিমিন খেলা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দুষে সুর চড়ান তিনি। বিধায়কের কথায়, “নাগরিক পরিষেবার বদলে প্রতারণা হয়েছে মানুষের সঙ্গে। বালি পুরসভাকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো করে রাখা হয়েছে। হাওড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলনিকাশির অব্যবস্থা। তা হাল ফেরাতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া পুরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ৪ হাজার ৭০২ কোটি বরাদ্দ করেছেন।” পূর্বতন সরকারকে বিঁধে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি দাবি, “তৃণমূল নেতাদের করজোড়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হাওড়া, বালির মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এতদিন।” সংশোধনী বিলের প্রয়োজনীতা উল্লেখ করে কৌস্তভ বলেন, “এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন ছিল। হাওড়ায় ৫০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে এমন অনেক ওয়ার্ড আছে, যেখানে কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোটার সংখ্যা। বর্তমানে পুনর্বিন্যাসের ফলে ওয়ার্ড পিছু ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার থাকবেন। যার ফলে পরিষেবা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ২০১৮ সাল থেকে নির্বাচন হয়নি, প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। মানুষের স্বার্থে আমি এই বিলকে স্বাগত জানাচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ২০০টি ওয়ার্ড করার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। কিন্তু সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ড পিছু সর্বত্র ১৬ হাজার ভোটার রাখতে গিয়ে সীমানার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিল সমস্যা দেখা দেয়। বস্তুত সেই কারণে ঘোষণা মেনে ৩১ জুলাই নয়া ওয়ার্ডের তালিকা প্রকাশ না করে কলকাতা পুরসভা পাঁচদিন পরে ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠায়। ওয়ার্ড বাড়লেও কলকাতায় ১৬টি বরো থাকছে বলেও সূত্রের খবর। নবগঠিত ওয়ার্ডের এই তালিকা ধরে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সর্বদল বৈঠক এবং ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মহিলা ও তফসিলি সংরক্ষণ চিহ্নিত করবে। পুজোর আগেই এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে গত ৮ বছর ধরে ভোট না হওয়া হাওড়া কর্পোরেশনের ৫০টি ওয়ার্ড ভেঙে সীমানা পুনর্বিন্যাস শেষে ৬৮টি করার কাজও শুরু হয়েছিল কলকাতার সঙ্গে। সেই নতুন ওয়ার্ডগুলির মানচিত্রও সম্পূর্ণ করা হয়েছে। নানা জটিলতার কারণে বিগত তৃণমূল সরকার পুরভোট না করায় হাওড়ায় পুরপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক পরিষেবায় স্বাভাবিক করা যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। বিধানসভার বিশেষ বর্ষাকালীন অধিবেশনে রাজ্যের পুর দপ্তরের তরফে কলকাতা ও হাওড়ার এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংশোধনী বিল পাস হলে হাওড়ার নাগরিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে পুর-পরিষেবা।




