Monday, August 10, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রাক্তনের প্রতি বর্তমানের দায়িত্ববোধ! কড়া শুভেন্দু!‌ ‘যেখানে খুশি যান, পুলিশকে সময়মতো জানাবেন, নিরাপত্তা পাবেন’

RK NEWZ পুলিশি গাফিলতি স্পষ্ট, সাসপেন্ড আইও! হালিশহরে বললেন শুভেন্দু, মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রীকে চাকরি, ১০ লক্ষ টাকা সাহায্যও। মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলকর্মীর পরিবার আর্জি না-জানালেও বাড়িতে থাকা দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যও দেন শুভেন্দু। হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হওয়া তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে নেন শুভেন্দু, যিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক (আইও)-কে সাসপেন্ড করা হচ্ছে আর হালিশহর থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ়’ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্রোটোকল মেনে’ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়াকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী এবং মৃতের পরিবারকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে মৃতের পরিবারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অ্যাটেনডেন্ট’ হিসাবে চাকরি দেওয়া হবে। তৃণমূলকর্মীর পরিবার আর্জি না-জানালেও বাড়িতে থাকা দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যও দেন শুভেন্দু। চাকরির বিষয়ে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মৃতের স্ত্রীকে এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তার পর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে।” তৃণমূল সমর্থক হয়েও সরকারের উপর আস্থা রাখার জন্য মৃতের পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। বলেন, “পরিবারের প্রতি সরকারের তরফে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ কাউকে দেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। বাড়ির লোকের দেখা তো করেনইনি। মৃতের দাদা বলেছিলেন, আমরা বিচার চাই। তাঁরা সরকার এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছেন। এটা আমাদের কাছে বড় পাওনা।” শুভেন্দু জানান, মৃতের স্ত্রী তাঁর কাছে চিঠি দিয়ে স্বামীর উপর শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন। তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। জেনির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচড়াপাড়ায় যান মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’

মমতাকে অনুরোধ শুভেন্দুর। হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে যেভাবে হামলা হয়েছিল, তার নিন্দা হয়েছে সর্বস্তরে। প্রশ্ন উঠেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়েও। সোমবার এ প্রসঙ্গে মমতাকে আশ্বস্ত করলেন শুভেন্দু। জানালেন, কোথাও যাওয়ার আগে সময়মতো পুলিশকে সফরের কথা জানালে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় গাফিলতি চান না বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়ি গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ প্রসঙ্গে প্রাক্তনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘‘আপনি তো গতকাল পুলিশকে না জানিয়ে এসেছিলেন। জনরোষ তৈরি হয়েছিল। আমাদের বিধায়ক তা জানামাত্র পুলিশকে দিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমার অনুরোধ, এবার থেকে আপনি যেখানে যাবেন, সময়মতো পুলিশকে জানাবেন। আপনার যাঁকে খুশি, কলকাতার সিপি বা ডিআইজিকে জানাবেন। ডিজিকে আপনার পছন্দ না হলে অন্য কাউকে বলবেন। আমাদের পুলিশ আপনার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবে।” পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন হালিশহরের তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরিবার অভিযোগ তোলে, পুলিশ হেফাজতে তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। সেই ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনকে নিয়ে সেখানে যান। হালিশহরে ঢুকতেই তাঁরা বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা, পাথর, জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’, ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এনিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া ছিল, “এত চুরি করেছেন, চোর স্লোগান তো শুনতেই হবে। বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু আপনি বলছেন, জোর করে ঢুকব। এসব করবেন না।” সোমবার হালিশহরের ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি নমনীয় মনোভাব পোষণ করে নিজের দায়িত্ববোধ মনে করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘‘নিরাপত্তায় কোথাও কোনও গাফিলতি নেই। আপনাকে ঘিরে যা হয়েছে, তা স্থানীয় পুলিশের সমস্যা। আর আমাদের বিধায়ক খবর পেয়েই পুলিশের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলেছে। পুলিশ তো সবসময় এক জায়গায় থাকে না। তাদেরও একটু সময় দিতে হয়। যাই হোক, আপনাকে আমি পরামর্শ ঠিক দেব না। অনুরোধ করছি, আপনি যেখানে খুশি যাবেন। কিন্তু তার আগে সময়মতো পুলিশকে জানাবেন। পুলিশ প্রয়োজনমতো যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles