RK NEWZ ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’, ‘তোলাবাজি বরদাস্ত নয়’। বাংলায় নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার এই ৩ মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী থেকে রাজ্য সভাপতির মুখে বারবার শোনা গিয়েছে এই হুঁশিয়ারি। তারপরেও বেপরোয়া প্রতারকরা! এবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল। এক রিয়েল এস্টেট সংস্থা থেকে শমীক ভট্টাচার্যের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগ। বিধাননগর সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের হতেই গ্রেপ্তার অভিযুক্ত। একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য নিজেই তাঁর নাম করে তোলাবাজির ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমার নাম করে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি থেকে তোলাবাজি করা হচ্ছে। টাকা আদায় করার জন্য আমার নাম করে ফোন করা হয়েছে। আমার সই নাম-পদবী দিয়ে চিঠি গেছে কোম্পানির কাছে। জানি না কীভাবে করল, বিধাননগর সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছিল। জানতে পারলাম জলপাইগুড়ি থেকে কেউ বা কারা এই এই তোলাবাজির জন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি থেকে তোলাবাজির ছক কষেছিল। পুলিশ তদন্তে নেমে হাওড়ার সালকিয়া থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।” দিন কয়েক আগেই দলের মধ্যে তোলাবাজি-সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত, দল বিরোধী অনৈতিক কাজ যারা করছে তাদের খুঁজে বের করতে পার্টির তরফে জেলা পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি সামলাতে দলের জেলা সভাপতি ও সেই জেলার বিধায়কদের বড় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে রাজ্য পার্টির তরফে। অনেকক্ষেত্রেই জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিধায়ক, এই তিনজনের একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় থাকছে না বলে খবর এসেছে রাজ্য পার্টির কাছে। সেই সমন্বয় রেখে দলকে বিশুদ্ধ করতে হবে বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। দলীয় কর্মীদেপ মধ্যে তোলোবাজি ঠেকাতে যখন মরিয়া নেতৃত্বরা, তখন তাঁদের নাম করে সিঁধ কাটছে একদল ‘অসাধু’?
হালিশহরে মমতার হেনস্তার ঘটনাকে অভয়ার মৃত্যুদিনের সঙ্গে জুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত চুরি করেছেন চোর তো শুনতেই হবে।” এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি জড়িত নয় বলেও জানান তিনি। হালিশহরের ঘটনাকে ‘প্রবল জনরোষ’ বলে ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি এই ঘটনাকে অভয়ার মৃত্যুদিনের সঙ্গে জুড়লেন, ৯ আগস্ট, অভয়ার মৃত্যুদিনে মমতা কেন তাঁর বাড়িতে গেলেন না সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনি তো আজ অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন! গলায় গামছা নিয়ে রত্না দেবনাথের কাছে ক্ষমা চাইতে পারতেন। বলতে পারতেন যে, ভুল করেছি, ক্ষমা করুন। আমার বিশ্বাস, তিনি ক্ষমা করে দিতেন।” মমতাকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “অভয়াকে যেদিন মেরেছিলেন, প্রমাণ লোপাট করতে গিয়েছিলেন, ১০ লাখ টাকা দিয়ে কিনতে গিয়েছিলেন সেদিন আপনার গাড়িতে কাদা মাখাবে না তো কি ফুল ছুড়বে?” শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এলাকায় তোলাবাজি-মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেই জানান তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে দেখাও করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী। হালিশহর থানার পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ। পরিবারের আরও অভিযোগ, সকালে হালিশহর থানার পুলিশ কল্যাণী হাসপাতালে বিরজুর দেহ রেখে চলে যায়। ওই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। যদিও প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই নিহত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। বিক্ষোভের ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশকে না জানিয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করতে রবিবার হালিশহরে গিয়েছিলেন মমতা। তিনি জানান, মৃতের বাড়ির লোক মমতাকে ডাকেননি। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হন তা চান না। তাঁরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। মমতা জোর করে ঢুকতে চাইছিলেন। বাড়ির লোক প্রশাসন ও পুলিশের উপর সন্তুষ্ঠ। মমতা তাঁদের বিচার দিতে পারবেন না। পুলিশ প্রশাসনই দেবে। মমতার উদ্দেশে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু আপনি বলছেন, জোর করে ঢুকব। এসব করবেন না। আপনার কাছ থেকে সাহায্য, হস্তক্ষেপ চাইলে করুন। এখন উন্নয়নের সময়। কোথাও গিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।”



