এ বারের কমনওয়েলথ গেমসে ৩৯টি পদক জিতেছে ভারত। তার মধ্যে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ। সবচেয়ে বেশি পদক এসেছে বক্সিংয়ে। দু’বছর আগে অলিম্পিক্সে পদকজয়ীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দল ও গত বছর মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন তিনি। এ বার কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী। ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান কমনওয়েলথে পদকজয়ীরা। ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক্স সংস্থার প্রধান পিটি ঊষা ও অন্য কর্তারা। এ বারের কমনওয়েলথ গেমসে ৩৯টি পদক জিতেছে ভারত। তার মধ্যে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ। সবচেয়ে বেশি পদক এসেছে বক্সিংয়ে।
নিজের বাসভবনে মীরাবাই চানু, অস্মিতা দে, সাক্ষী চৌধরী, নীরজ চোপড়া, লভলিনা বরগোহাঁইদের সঙ্গে দেখা করেন মোদী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যেকের জীবনের লড়াইয়ের গল্প শোনেন। তাঁদের আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা ও উৎসাহ দেন। সকলের সঙ্গে ছবি তোলেন। সেই ছবি নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “জো খেলেগা, উয়ো খিলেগা।” অর্থাৎ, যারা খেলবে, তারাই জীবনে সফল হবে।” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আপ্লুত ক্রীড়াবিদেরা। বক্সিংয়ে সোনাজয়ী সাক্ষী বলেন, “কমনওয়েলথে পদকজয়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা গর্বিত। ওঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। উনি মাটির মানুষ। আমাদের অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। ওঁর সঙ্গে দেখা করতে পেরে খুব খুশি হয়েছি।” গত বারের কমনওয়েলথে ৬১টি পদক জিতেছিল ভারত। এ বার পদক কমলেও তার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। গেমসের বহর এবং খরচ কমানোর জন্য শুটিং, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবল টেনিস, হকি এ বার বাদ দেওয়া হয়েছিল। গত বার এই খেলাগুলিতে বেশ কিছু পদক এসেছিল ভারতের ঝুলিতে। সঙ্গত কারণেই পদকের সংখ্যা কমেছে। এর মধ্যে ব্যর্থতা সেই অর্থে ব্যর্থতা নেই। যদিও এ বার লন বলে পদক আসেনি। গ্লাসগোয় বক্সার এবং অ্যাথলিটেরা ১০টি করে পদক জিতেছেন। ভারোত্তোলকেরা জিতেছেন আটটি। প্যারা অ্যাথলিটেরা দিয়েছেন ছ’টি পদক। গুলবীর সিংহ ১০ হাজার মিটারে রুপো এবং ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। অলিম্পিক্স, এশিয়ান গেমস বা কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের অনুদান বা সাহায্য দেয়। দু’ভাগে টাকা পান খেলোয়াড়েরা। কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহণকারীরাও সরকারি সাহায্য পেয়েছেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলবীর টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম প্রকল্পে গত চার বছরে প্রস্তুতির জন্য পেয়েছেন ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আবার প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শেষ এক বছরে পেয়েছেন ২৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। অর্থাৎ মোট ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী অধিকাংশ খেলোয়াড়ই সরকারি সাহায্য পেয়েছেন। চানু পেয়েছেন সব মিলিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৯ টাকা। জুডোকা অস্মিতা পেয়েছেন সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২০৪ টাকা। নীরজের জন্য কেন্দ্র খরচ করেছে ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ টাকা। লভলিনার প্রস্তুতির জন্য খরচ হয়েছে ৯৫ লাখ টাকার বেশি। কমনওয়েলথ গেমস পদকজয়ীদের মধ্যে সবকম আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন অ্যাথলিট শিল্পা শৈল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এমন কেউ নেই যিনি, সরকারকে পাশে পাননি। ৩৮ জনই নানা ভাবে সাহায্য পেয়েছেন।
কমনওয়েলথ গেমসে পদক জয়ী প্রত্যেক খেলোয়াড়ই কোনও কোনও সরকারি সাহায্য পেয়েছেন তাঁদের প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের খরচ বাবদ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিততে পারেন এমন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের বেছে নেওয়া হয় বিভিন্ন মাপকাঠির ভিত্তিতে। অলিম্পিক্স, এশিয়ার গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য আর্থিক সাহায্য করা হয়। যে ৩৮ জন গ্লাসগোয় পদক জিতেছেন, শুধু তাঁদের প্রস্তুতির জন্য খরচ হয়েছে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কমনওয়েলথ গেমসে সব অংশগ্রহণকারীর প্রস্তুতির জন্য সরকার মোট খরচ করেছিল ৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এসেছে ৩৯টি পদক। অর্থাৎ প্রতিটি পদকের জন্য সরকারের খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শুধু সফলদের প্রস্তুতির খরচ ধরলেও পদক প্রতি খরচ হয়েছে ৩৯ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪৪ টাকা।




