RK NEWZ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ বীজপুরের রাস্তায়। কাঁচরাপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হল। ছোড়া হল কাদা-ছেঁড়া চটি। দেওয়া হল ‘চোর-চোর’ স্লোগান। হালিশহরে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে জুতো-কাদা। এখানেই শেষ নয়, উঠেছে চোর স্লোগান। এই ঘটনায় বেজায় বিরক্ত রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বললেন, “এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়।” ঘটনার নিন্দা করলেও গত পনেরো বছরে বাংলার বুকে তৃণমূল কী কী করেছে তা মনে করিয়ে দিতেও ভোলেননি রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বললেন, “কম অত্যাচার করেননি।” বিজেপির অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিতে এসেছেন কাঁচরাপাড়ায়। সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে। অন্য দিকে, মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। মমতা বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা দাবি, বিজেপির কোনও কর্মী এই বিক্ষোভে ছিলেন না।
রবিবার মমতার কাঁচরাপাড়া সফরে সঙ্গী ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কল্যাণ বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’’ বীজপুরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে রাখতে হয় পুলিশকে। তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের তরফে এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রবিবার মমতা কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, মৃতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বিজেপি। ওই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, উপাসনা চৌধুরী। বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তাঁকে লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। যদিও প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই নিহত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। বিক্ষোভের ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন তিনি। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এটা করা যায় না। এটা বাংলার রীতি নয়।” তবে ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই বলেও দাবি করেছেন শমীক। এপ্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত ১৫ বছর ধরে অনেক ভুল করেছেন, নারীদের সম্মান রক্ষা করতে পারেননি বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন। এমনকী অভয়ার মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি সঠিক বিচার দিতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ছোড়া, ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া বা জুতো ছোড়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো রাজনীতি এটাই। শকুন যেমন লাশ খোঁজে, উনিও খোঁজেন পশ্চিমবঙ্গের কোনও মৃত্যু নিয়ে কী ভাবে সংবাদমাধ্যমে থাকা যায়। কারণ, উনি রাজনীতিতে এখন অপ্রাসঙ্গিক। পাড়ার ছেলে এবং বিধায়ক হিসাবে মৃতের পরিবারের পাশে আছি আমি। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি পরিবারের সঙ্গে। যাঁদের বাড়িতে এটা হয়েছে, তাঁরা কিছু বলছেন না। তাঁরা আমাদের উপর ভরসা রেখেছেন। লকআপে মৃত্যু নিয়ে আইনি সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত আমরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি খুঁজতে বেরিয়েছেন।’’ মমতা তাঁর গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘‘যদি কেউ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে পাথর, কাদা বা চপ্পল ছোড়ে,তবে বিজেপি তাদের সমর্থন করে না। এই ঘটনায় কোনও বিজেপি কর্মী জড়িত নন এবং আমরা চাই না যে রাজ্যের প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এমন আচরণ করা হোক। এমনটা হলে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেরই মুখ কালো হবে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই এবং যদি এমনটা ঘটে থাকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অধীনস্থ পুলিশ এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে।’’




