RK NEWZ মানুষের হয়রানির অপর নাম টোটো। টোটালি ইললিগ্যাল। টোটোর কোনও রেজিস্ট্রেশনের সিস্টেম নেই। অথচ শহরতলি জুড়ে টোটোর অবৈধ রমরমা। হাওড়া জেলায় যথেচ্ছ টোটো চলাচল ও নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা তীব্র যানজট ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রধান রাস্তাগুলিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো দাঁড়িয়ে থাকা এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার ফলে বড় শহরে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে উঠেছে। টোটো আর নয়, এ বার ই-রিকশা। তবে ই-রিকশাও চলবে না যথেচ্ছ। নির্দিষ্ট রুটে সীমিত পারমিট দিয়েই চালানো হবে তা। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রতি বিধানসভায় ১০০টি অটো এবং ১০০টি টাটা ম্যাজিকের পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শনিবার বারাকপুরে এমনই ঘোষণা করলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। মন্ত্রীর কথায়, “টোটো তো টোটালি ইললিগ্যাল। টোটোর কোনও রেজিস্ট্রেশনের সিস্টেম নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের আইন অনুযায়ী ই-রিকশা চালু হবে। ই-রিকশা চালু হলে টোটো রিপ্লেসমেন্ট হবে।” মন্ত্রীর দাবি, টোটো রেজিস্ট্রেশনের অধিকার পুরসভাগুলির ছিল না। তৃণমূল সরকারের আমলে পুরসভাগুলি টোটো রেজিস্ট্রেশন করলেও তা আইনসঙ্গত নয় বলেই অভিযোগ তাঁর। টোটো মালিকদের ই-রিকশায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আসল টোটো মালিক এবং নির্মাতাদের ডেকে ই-রিকশায় রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির গাড়ি চলে এমন প্রধান রাস্তায় টোটোর নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অর্জুনের কথায়, “আজকে মানুষের থেকে বেশি টোটো হয়ে গেছে। তাই ই-রিকশার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রুটে সীমিত পারমিট থাকবে।” মন্ত্রীর দাবি, টোটো রেজিস্ট্রেশনের অধিকার পুরসভাগুলির ছিল না। তৃণমূল সরকারের আমলে পুরসভাগুলি টোটো রেজিস্ট্রেশন করলেও তা আইনসঙ্গত নয় বলেই অভিযোগ তাঁর। টোটো মালিকদের ই-রিকশায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আসল টোটো মালিক এবং নির্মাতাদের ডেকে ই-রিকশায় রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির গাড়ি চলে এমন প্রধান রাস্তায় টোটোর নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অর্জুনের কথায়, “আজকে মানুষের থেকে বেশি টোটো হয়ে গেছে। তাই ই-রিকশার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রুটে সীমিত পারমিট থাকবে।”
টোটো যন্ত্রণা হাওড়ায়। সড়ক ও ব্যস্ত বাজারে টোটোর ভিড়ে পথচলতি মানুষ ও অন্যান্য যানবাহন আটকে থাকে। চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও হঠাৎ মোড় ঘোরানোর প্রবণতায় প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। নির্দিষ্ট রুট বা সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই প্রচুর টোটো রাস্তায় নামছে। ট্রাফিক পুলিশ ও হাওড়া পৌরনিগম বা প্রশাসনকে নিয়মিত টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নির্দিষ্ট এলাকায় কোন টোটো চলবে, তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। বেআইনি টোটো বাজেয়াপ্ত করা এবং চালকদের জন্য ট্রাফিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা দরকার। এক টোটোচালক বলেন, ‘‘রুটি-রুজির টানে অনেকেই টোটো চালাচ্ছেন। বহু চালক আছেন, যাঁদের গাড়ি কেনার ক্ষমতা নেই। এক শ্রেণির টোটোমালিক তাঁদের হাতে নিজের টোটো তুলে দিচ্ছেন। টোটোকে শৃঙ্খলায় বাঁধতে সব জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। এর পরেই টোটো ছাড়াও বেআইনি অটো এবং-মোটরভ্যানের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু করেছে জেলা আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর। চলছে ধরপাকড়। হুগলি, হাওড়া— দুই জেলাতেই টোটো-সমস্যার সার্বিক যন্ত্রণার উপশম হয়নি। ব্যতিক্রম হাওড়া। ওই নির্দেশিকার আগেই হুগলির ওই শহরে টোটোর দৌরাত্ম্য রুখতে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সুফলও মিলছে।
অতিমারির পরে বেআইনি যানের সংখ্যা বেড়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কট একটা কারণ। তবে, অনেকেই আছেন, যাঁরা বেশি সংখ্যক টোটো কিনে ভাড়া খাটাচ্ছেন। সেই সব টোটো চিহ্নিত করা হচ্ছে। হাওড়া সিটি পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের এক কর্তা জানান, নির্দেশিকা অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। শিল্পাঞ্চলের অলিগলি থেকে রাজ্য সড়কে টোটোর অবাধ বিচরণ অব্যাহত। টোটোর চাপে কদমতলা, টিকায়াপাড়া, নটবরপাল রোড দাসনগর, জিটি রোডের নাভিশ্বাস উঠছে! কোথাও টোটো উঠে পড়ে জাতীয় সড়কেও। তার উপর শয়ে-শয়ে টোটোর নিয়ন্ত্রণহীন চলাফেরায় দুর্ঘটনা লেগেই আছে। স্কুল যাওয়ার পথে নাকাল হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। ব্যাটারি বাঁচাতে বহু টোটো আলো জ্বালায় না। ফলে, সন্ধের পরে কার্যত ভ্যাবাচ্যাকা খেতে হয় পথচারী বা অন্য গাড়িচালককে। হাওড়া ময়দানে ও কালিবাবুর বাজার টোটোর চাপে অতিষ্ঠ। স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাতেও অবাধে চলছে টোটো। যানজট হচ্ছে। প্রচুর সাধারন নাগরিক নাজেহাল টোটোর জ্বালায়। হাওড়ায় সাধারন মানুষের দাবি, অবৈধ টোটোকে একেবারে নিষিদ্ধ করা হোক পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক লাইসেন্স দেওয়া হোক।




