RK NEWZ নিচুতলায় দলে যে বেনোজল ঢুকে যাচ্ছে, তা নিয়ে দিন দুই আগেই উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন খোদ শমীক ভট্টাচার্য। দলের তৃণমূলীকরণ-নিচুতলায় তোলাবাজি নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন তিনি। বিজেপি নেতাদের একাংশের মধ্যেও যে তৃণমূলের সংস্কৃতি ঢুকে পড়তে পারে, সে আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নেতৃত্বের মধ্যে। সম্ভবত সেকারণেই এদিন বনসল- শুভেন্দু এবং শমীকের বৈঠকের মূল এজেন্ডাই ছিল দলের সংগঠন। শোনা যাচ্ছে দলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সর্বস্তরে বদল করতে পারে গেরুয়া শিবির। তাছাড়া তৃণমূল নেতাদের ছোঁয়াচ এড়িয়ে চলার ব্যাপারেও বার্তা দেওয়া হতে পারে। এর বাইরে দল ও সরকারের সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে রাজ্য বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই মুখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের বৈঠকে। সূত্রের খবর, কোনওভাবেই দল ও সরকারের মধ্যে যাতে দূরত্ব না তৈরি হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চায় গেরুয়া শিবির। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বলেছেন, “সরকার আর পার্টির মধ্যে সমন্বয়ের কোনও অভাব নেই। দল এবং সরকার যার যতটা প্রয়োজন সে তার মতো সমন্বয় করে চলছে।” রাজ্যে ক্ষমতায় আসার দু’মাসের মধ্যে আত্মসমালোচনার পথে বিজেপি। দলের সংগঠনের যাতে কোনওভাবেই তৃণমূলীকরণ না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপের পথে গেরুয়া শিবির। যার নীল নকশা মঙ্গলবার তৈরি হয়ে গেল রাজধানীর বুকে। সূত্রের খবর, দিল্লির এক জরুরি বৈঠকেই ঠিক হয়ে গিয়েছে, আগামী দিনে দলের সংগঠনের বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। দিল্লিতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে দলের সংগঠনের একেবার তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত কী কী ঝাঁকুনি প্রয়োজন, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দল এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, রাজ্য সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেটা নিয়েও আলোচনা করেছেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।
দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। ওই বৈঠকের পরই জল্পনা, মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতেই কি নির্ধারিত হয়ে যাবে আগামী দিনের বঙ্গ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি? এদিন সকাল থেকে একের পর এক বৈঠক, আলোচনা অন্তত সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। এদিন সকালেই এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির তথা এনসিপিআই সাংসদরা। একেবারে মোদি-শাহর সঙ্গে প্রথম সারিতে বসেছিলেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের দুই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ওই বিক্ষোভে গরহাজির ছিলেন এনসিপিআইয়ের ৩ সংখ্যালঘু সাংসদ। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আলাদা করে ওই এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দিল্লির বাড়িতে জরুরি বৈঠকে বসে পড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। এই সুনীল বনসলের হাত ধরেই তৃণমূলের ওই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসাবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেন। তৃণমূল ছেড়ে সদলবলে এনসিপিআইতে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাও তাঁর বাড়িতে বসেই নেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে রাজ্য বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির বৈঠকে এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে সেটা প্রত্যাশিত। তাছাড়া এনসিপিআই নিজেদের আলাদা দল বলে ঘোষণা করলেও লোকসভার স্পিকার এখনও তাঁদের এনসিপিআই স্বীকৃতি দেননি। বরং তৃণমূলের আলাদা গোষ্ঠী হিসাবে বসার জায়গা বদলে দিয়েছেন শুধু। শোনা যাচ্ছে, নামগোত্রহীন এনসিপিআইতে ২০ জন সাংসদকে একসঙ্গে শামিল করানোটা কতটা আইনসম্মত হবে, তা নিয়ে স্পিকার নিজেও সন্দিহান। তাই এই বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীদের সোজা বিজেপিতে যোগদান করানো যায় কিনা সেটা নিয়েও একটা আলোচনা চলছে। শমীক-শুভেন্দু-বনসল বৈঠক সেদিক থেকে এনসিপিআই সাংসদদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির ওই মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক যে শুধু এনসিপিআই নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বস্তুত গোটা রাজ্যে দলের নিচুতলার সংগঠনে একটা ঝাঁকুনি দিতে পারে বিজেপি। নিচুতলায় দলে যে বেনোজল ঢুকে যাচ্ছে, তা নিয়ে দিন দুই আগেই উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন খোদ শমীক ভট্টাচার্য। দলের তৃণমূলীকরণ-নিচুতলায় তোলাবাজি নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে দলের সংগঠন নিয়েও আলোচনা হতে পারে ওই হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে। আবার সামনেই পুরভোট, তাতে কাদের প্রার্থী করা হবে, কাদের ছাঁটাই করা হবে, সেসব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



