Tuesday, August 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কেঁদে আকূল আদিত্যর দিদিমা!‌ নাতি আদিত্য খোদ জঙ্গি হামিমের ‘দোস্ত’

RK NEWZ ‘খারাপ কাজ করতেই পারে না’, নাতি জঙ্গি হামিমের ‘দোস্ত’ শুনে কেঁদে আকূল আদিত্যর দিদিমা। জঙ্গি হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতাকে জেরা করে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে আদিত্য সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের একটি পাঁচতলা বাড়ি। ওই বাড়ির তিনতলার বাসিন্দা আদিত্য। নিজে হাতে ছোট থেকে মানুষ করেছেন নাতিকে। সেই আদিত্যই নাকি জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সহযোগী। বেঙ্গল এসটিএফ নাতিকে গ্রেপ্তারের পরেও কঠোর বাস্তব মানতে পারছেন না আদিত্য সিংয়ের নাতি। কেঁদে আকূল আদিত্যর দিদিমা মীরা সিং। কলকাতার এক কলেজের বি কমের পড়ুয়া আদিত্য। ধৃত আদিত্যের দিদিমা মীরা সিংয়ের দাবি, তাঁর নাতি কোনও খারাপ কাজ করতে পারে না। কেন তাকে পুলিশ জঙ্গি বলে ধরল তা তিনি বুঝতে পারছেন না। মীরা আরও জানান, শনিবার রাতে ১৫-২০ জন পুলিশের দল তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। রাত ১২টার সময় আদিত্যকে গ্রেপ্তার করে। ঘরে তল্লাশি চালিয়ে তার মোবাইল, ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করে। আদিত্যর এক প্রতিবেশী বলেন, “অত্যন্ত ভদ্র পরিবার। গত ৩৫ থেকে ৪০ বছর ওই ফ্ল্যাটে আছে। ছেলেটি ভালো নয়, কোনওদিন বুঝতে পারিনি আমরা। তবে পাড়ায় খুব একটা ও মিশত না।” জঙ্গি সন্দেহে আদিত্যর গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালে হাওড়া থানার পুলিশ আদিত্যর বাড়িতে যায়। পরিবারের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর একটি গেমিং অ্যাপের সূত্রে আলাপ। খুব কম সময়ের মধ্য়ে বন্ধুত্ব গভীর হয়ে ওঠে। সেই সুযোগে জঙ্গি হামিম আদিত্যর মগজধোলাই করে বলেই সূত্রের খবর। মগজধোলাইয়ের পর তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয় হামিম। পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালানোর কাজ দেওয়া হয়। মন্ত্রী ও মন্ত্রীপুত্র সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সে হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতাকে পাচার করত বলেই খবর। হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করে আদিত্যর খোঁজ পাওয়া যায়। তাকে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ধমানের জিম থেকে জঙ্গি হামিম গ্রেপ্তার হয়। তার বান্ধবী অর্পিতাকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে পাকড়াও করে এসটিএফ।

মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের তথ্য সরবরাহ! বেঙ্গল এসটিএফের জালে আরও এক জঙ্গি আদিত্য সিং ওরফে রাজ ওরফে রাজু। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদিত্যকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, জঙ্গি কার্যকলাপে হামিমকে সহযোগিতা করত সে। মন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলে সম্পর্কিত তথ্যপাচার নাকি করত আদিত্য। জানা গিয়েছে, ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর একটি গেমিং অ্যাপের সূত্রে আলাপ। খুব কম সময়ের মধ্য়ে বন্ধুত্ব গভীর হয়ে ওঠে। সেই সুযোগে জঙ্গি হামিম আদিত্যর মগজধোলাই করে বলেই সূত্রের খবর। মগজধোলাইয়ের পর তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয় হামিম। পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালানোর কাজ দেওয়া হয়। মন্ত্রী ও মন্ত্রীপুত্র সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সে হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতাকে পাচার করত বলেই খবর। হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করে আদিত্যর খোঁজ পাওয়া যায়। তাকে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিত্য বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাকে জেরা করবেন তদন্তকারীরা। জঙ্গি হামিম ঠিক কতদূর শিকড় ছড়িয়েছে, তার উৎসের খোঁজে এসটিএফ। হামিম মণ্ডল হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর ধরে হাওড়ার পিলখানায় একটি ভাড়াবাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকত হামিম। আর আলাম মিস্ত্রি লেনে একটি গলির ভিতরে কারখানা রয়েছে তাদের। একটি সাততলা বাড়ির একেবারে নিচতলায় হামিমের কারখানাটি রয়েছে। হামিম ও তার বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল দু’টি ঘর ভাড়া নিয়ে কারখানাটি চালায়। জানা গিয়েছে, ওই কারখানাটিতে জামার টিপ তৈরির কাজ হয়। মাঝে বেশ কয়েকদিন নিউটাউনে ভাড়াবাড়িতে ছিল সে। সেখান থেকে বর্ধমানে যায়। অভিজাত আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার সেখানকার জিম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। এসটিএফের দাবি, হামিম ও অর্পিতা শেহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্য। তাদের সঙ্গে পাকযোগ স্পষ্ট। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলে জঙ্গি টার্গেটে ছিল। মন্ত্রীপুত্রকে হানিট্র্যাপে ফাঁসিয়ে অপহরণের ছক ছিল জঙ্গিদের। আসন্ন স্বাধীনতা দিবসে নাকি নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে তার আগে এসটিএফের জালে বান্ধবী ও সহযোগী-সহ জঙ্গি।

পাকিস্তানের নির্দেশে পুলিশের উপর সরাসরি অস্ত্র নিয়ে হামলার ছক কষছিল জঙ্গি হামিম মণ্ডল। স্বাধীনতা দিবসের সময় ওই হামলা চালানোর ছক কষা হয়েছিল কি না, সেই তথ‌্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের অন্তত ৬ জন মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকেদের হানিট্র্যাপে ফেলার ছক কষে পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি জঙ্গিরা। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ধৃত জঙ্গি নেতা হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, হামিম মণ্ডল শেহজাদ ভাট্টি গ‌্যাংয়ের হয়ে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থান বা টিটিএইচের সদস‌্যও ছিল। এই বছরের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে পাঞ্জাবে পুলিশ আধিকারিকদের হত‌্যা করে টিটিএএইচ। এবার কলকাতা বা এই রাজ্যে একই ধাঁচে পুলিশকর্তা বা আধিকারিকের উপর হামলা চালিয়ে তাঁদের খুনের ছক কষা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। কয়েকজন পুলিশকর্তা বা আধিকারিককে টার্গেট করতে শুরু করেছিল তারা। নিজেদের প্রচার থেকে শুরু করে হামলা বা নাশকতার জন‌্য পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা খরচ করে পাক চর সংস্থা আইএসআই। শেহজাদ ভাট্টি ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীদের দিয়েই এই নাশকতা বা হামলার ছক কষা হয়। দেখা গিয়েছে, শুধু কয়েকটি দেশবিরোধী পোস্টার লাগাতে জঙ্গিরা একেকজনের পিছনে খরচ করেছে পাঁচ হাজার টাকা করে। আবার হামলার জন‌্য তিন লাখ টাকা করেও খরচ করেছে তারা। পুলিশের উপর হামলার নির্দেশ ও কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করা হবে, সেই ব‌্যাপারে সোশ‌্যাল মিডিয়ার হ‌্যান্ডেলে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল পাকিস্তান থেকে। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, মুখ‌্যমন্ত্রীর উপরও অস্ত্র নিয়ে হামলার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। কী পদ্ধতিতে ও কোন রুটে হামলা চালানো যেতে পারে, তার একটি খসড়াও তৈরি করে জঙ্গিরা। সোশ‌্যাল মিডিয়ায় সেই প্রাথমিক খসড়া এই রাজ‌্য থেকে পাঠানো হয় পাকিস্তানে হামিমদের হ‌্যান্ডলারদের কাছে। তারাও সেই খসড়া দেখে মন্তব‌্য করে সম্ভাব‌্য রুটও পাঠায়। সেই রুটে রেইকি করা হয়েছিল কি না, সেই তথ‌্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। হামিমের মোবাইল ঘেঁটে এই ব‌্যাপারে গোয়েন্দাদের হাতে তথ‌্য এসেছে। গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই নাশকতার কাজে হামিম মণ্ডল একা নয়, সোশাল মিডিয়ায় আরও কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিল পাকিস্তানের হ‌্যান্ডলার রানা, উজায়ের, আবিদ জাঠ, হমার। তাদের দিয়ে আলাদাভাবেও নাশকতার কাজ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। ইতিমধ্যে অসম, রাজস্থান, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলায় টিটিএইচের একাধিক মডিউল তৈরির ছক কষা হয়। তার জন‌্য হামিম পাকিস্তানের নির্দেশে কয়েকটি জায়গায় বৈঠকও করে। অস্ত্র নিয়ে নাশকতার জন‌্য হামিম কিছু দুষ্কৃতীকেও কাজে লাগানোর ছক কষছিল। তহবিল ও অস্ত্র সংগ্রহের জন‌্য রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় স্লিপার সেলও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles