RK NEWZ ভারতীয় সেনার ২০ সদস্য অংশ নিয়েছিলেন কমনওয়েলথে। পদক জিতেছেন ১৫ জন। ভারতীয় সেনা স্রেফ সীমান্ত সামলায় না, দেশের চ্যাম্পিয়ন তৈরিও করে। কমনওয়েলথ গেমসে ৩৯ পদক জিতে চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ এসেছে ‘টিম ইন্ডিয়া’র ঝুলিতে। তবে একইসঙ্গে উঠে আসছে আরেকটি পরিসংখ্যান। ভারত যে ৩৯টি পদক জিতেছে, তার অন্তত অর্ধেকই এসেছে ভারতীয় সেনার হাত ধরে। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় কন্টিনজেন্টে ছিলেন ২০জন সেনাকর্মী। তার মধ্যে ১৬জন ফিরেছন পদক হাতে। এই তালিকায় প্রথমেই আসে নীরজ চোপড়ার নাম। চোট সারিয়ে কামব্যাকের লক্ষ্যে নেমেছিলেন ভারতের সোনার ছেলে। যদিও সোনা জিততে পারেননি। জ্যাভলিন থ্রোয়ে রুপো পেয়েছেন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যাট কর্নেল নীরজ। তবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স সেনাবাহিনীর অন্যান্য অ্যাথলিটদের। নায়েব সুবেদার গুলবীর সিং দৌড়ে জিতেছেন জোড়া পদক। ১০০০০ মিটারে রুপো এবং ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছেন দেশকে। সদ্যসমাপ্ত কমনওয়েলথ গেমসে দাপট দেখিয়েছেন ভারতীয় বক্সাররা। সবমিলিয়ে ১৩টি সোনা এসেছে ভারতীয় অ্যাথলিটদের ঝুলিতে। তার মধ্যে ৭টিই বক্সিং থেকে। আর এই সাত বক্সারের মধ্যে ৬ বক্সারই ভারতীয় সেনায় কর্মরত। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছেন শচীন শিওয়াচ। অন্যদিকে ৮০ কেজি বিভাগ থেকে সোনা ছিনিয়ে এনেছেন অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল। নজির গড়েছেন ভারতীয় সেনার মহিলা বক্সাররা। এবারের কমনওয়েলথে মহিলা বক্সিং দলে ছিলেন ভারতীয় সেনার পাঁচ সদস্য। তাঁরা প্রত্যেকেই দেশে ফিরছেন সোনার পদক নিয়ে। এই সোনালি সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল হাবিলদার সাক্ষী চৌধুরির হাত ধরে। ৫১ কেজি বিভাগে সোনা জেতেন তিনি। সেই ধারা বজায় রাখেন নায়েব সুবেদার প্রীতি পওয়ার, সোনা জেতেন ৫৪ কেজি বিভাগে। ভারতীয় সেনার নারীশক্তির বীরগাথা এগিয়ে নিয়ে যান নায়েব সুবেদার জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়া। ৫৭ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছেন তিনি। এছাড়াও ৭০ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছেন হাবিলদার অরুন্ধতী চৌধুরী। সেনা বাহিনীর পঞ্চম সোনাটি এসেছে ৬০ কেজি বিভাগে প্রিয়া ঘাঙ্গাসের হাত ধরে। মজার ব্যাপার হল সোনাজয়ী সেনা কর্মী প্রিয়া এবং সাক্ষী আবার তুতো বোন। বারের কমনওয়েলথ গেমসে ১২২ সদস্যের দল পাঠিয়েছিল ভারত। তার মধ্যে ছিলেন ২০ জন সেনাকর্মী। হিসাবের নিরিখে, ভারতীয় কন্টিনজেন্ডটের ১৬ শতাংশ ছিলেন সেনাকর্মীরা। কিন্তু পদকের ৪১ শতাংশই এসেছে তাঁদের হাত ধরে। ৩৯টি পদকের মধ্যে ১৬টি জিতেছেন সেনা কর্মীরা। তার মধ্যে ৮ সোনা, ৭ রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। অ্যাথলিটদের এহেন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ভারতীয় সেনাও। কোন মন্ত্রে এমন সাফল্য এল? আসলে মিশন অলিম্পিক নামে একটি প্রকল্প রয়েছে ভারতীয় সেনার। অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, শুটিংয়ের মতো বিভিন্ন খেলায় প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়াই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। সাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে সেনার। পুণের এই স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বেছে নেওয়া অ্যাথলিটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অ্যাথলিটদের যাবতীয় খরচ বহন করে সেনাই। এই প্রকল্পের আওতায় যেসব অ্যাথলিট রয়েছেন, একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সেনাবাহিনীতে পদ দেওয়া হয় তাঁদের। ওই পদের জন্য নির্ধারিত বেতনও পান অ্যাথলিটরা। একেবারে বিনামূল্যে যাবতীয় ট্রেনিং করেন তাঁরা। ফলে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা অ্যাথলিটরাও এগোতে পারেন স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে। এহেন সাফল্য দেখে নেটিজেনরা বলছেন, ভারতীয় সেনা স্রেফ সীমান্ত সামলায় না, দেশের চ্যাম্পিয়ন তৈরিও করে।




