RK NEWZ দলকে আত্মশুদ্ধির পাঠ দিলেন শমীক। অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রখর ভাষায় তিনি সতর্ক করে দেন যে, তৃণমূলের সংক্রামক অপসংস্কৃতি যদি বিজেপির শরীরেও থাবা বসায়, তবে দলের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। রাজারহাটে আয়োজিত একটি দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাফ জানান, রাজনৈতিক অভ্যাসের বদল ঘটাতেই সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে পুরনো আমলের কুঅভ্যাস ধরে রাখলে তা দল সহ্য করবে না। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু রাজদণ্ড হাতে আসার পরেই নিচুতলার কর্মীদের একাংশের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের মধ্যেই। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের চরম সংযম ও আত্মশুদ্ধির পাঠ দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। সতর্ক করে দেন যে, তৃণমূলের সংক্রামক অপসংস্কৃতি যদি বিজেপির শরীরেও থাবা বসায়, তবে দলের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। রাজারহাটে আয়োজিত একটি দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাফ জানান, রাজনৈতিক অভ্যাসের বদল ঘটাতেই সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে পুরনো আমলের কুঅভ্যাস ধরে রাখলে তা দল সহ্য করবে না। কর্মীদের কাজের শৈলীতে তৈরি হওয়া বিচ্যুতি প্রসঙ্গে সোচ্চার হয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “দু-একটি জায়গায় কর্মীদের কিছু ছোটখাট ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। তবে তাঁরা নিজেরা কথা বলেই সেগুলো শুধরে নেবেন। কারণ বিজেপির তৃণমূলীকরণ হওয়া অসম্ভব। আর যদি তা হয়, তবে সেটা আর যা-ই হোক বিজেপি থাকবে না। সুতরাং, দলীয় সংস্কৃতি নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।”
নাম না করে নিজ দলেরই একটি গোষ্ঠীকে কড়া ভাষায় বিঁধে শমীকবাবু কটাক্ষ করেন, “ইদানিং দেখা যাচ্ছে এলাকাভিত্তিক কেউ কেউ নিজেদের স্বঘোষিত কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।” পাড়ার ছোটখাট অনুষ্ঠান কিংবা রক্তদান শিবিরে মাইক বাজিয়ে সাউন্ড দূষণ করার প্রবণতারও চরম বিরোধিতা করেন তিনি। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “রক্তদান শিবির করা তো অত্যন্ত ভাল কাজ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ৪৪ জন রক্ত দান করছেন, আর সেখানে ৪৪৪টি মাইকের চোঙা লাগানো হয়েছে! এই সস্তা ও বিরক্তিকর সংস্কৃতি থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর এগুলো বদলানোর জন্যই তো সাধারণ মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন।”
তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে স্বীকারোক্তিতে বলেন, কেবল উপদেশ নয়, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাস্তবমুখী স্বীকারোক্তিও ধরা পড়েছে বিজেপির এই নেতার মুখে। তিনি অকপটে মেনে নেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হলেও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা তোলাবাজি বা অনিয়ম পুরোপুরি রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “আমি যদি আজ দলের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করি যে রাজ্যের সর্বত্র তোলাবাজি এক নিমেষে বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তবে সেটা পুরোপুরি ভুল বলা হবে। আসলে কয়েক দশক ধরে মানুষ একটা বিশেষ অনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চালিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের শিকড় গেড়ে বসা সিন্ডিকেট রাজ কেবল শাসনের মুখ বদলালেই নিমেষে উবে যায় না।” কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সতর্ক বার্তা, পরিস্থিতির সার্বিক পরিবর্তন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া সুরেই ‘ডিমথেরাপি’র ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা বেআইনি কাজে জড়ালে কাউকেই রেয়াত করবে না বিজেপি নেতৃত্ব।




