RK NEWZ মালদহের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা! নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারচক্রের তদন্তে নেমে মঙ্গলবাড়িতে অভিযান চালাল পুলিশ। আবারও রাজ্যে বান্ডিল বান্ডিল টাকার পাহাড়! বীরভূমের পর এবার কোটি কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হল মালদহে। গোপন সূত্রের খবর পেয়ে রবিবার রাতে মালদহ থানা এলাকার মঙ্গলবাড়ির একটি ফ্ল্যাটে যৌথ অভিযান চালায় মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। সূত্রের খবর, মালদহের তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকেই এই বিপুল টাকা উদ্ধার হয়েছে। তল্লাশি শুরু হতেই পাওয়া যায় থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। দ্রুত আনা হয় টাকা গোনার যন্ত্র। এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকা মিলেছে বলে খবর। তবে টাকা গোনার কাজ এখনও শেষ হয়নি, ফলে জমানো অর্থের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ১৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ (ফেনসিডিল) বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। সেই কাণ্ডেই গ্রেফতার করা হয় চার অভিযুক্তকে। হেফাজতে নিয়ে ধৃতদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের পর উঠে আসে মালদহের মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটটির নাম। এর পরেই ধৃত চার জনকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার রাত ৮টা নাগাদ ওই ভবনে হানা দেয় তদন্তকারীদের বিশেষ দল।
ফ্ল্যাটের মালিক ও ব্যবসায়ীর যোগসূত্র। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটবাড়ির মালিকের নাম দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন পিন্টু সরকার নামে এক ব্যক্তি। তাঁর নিজস্ব একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে দক্ষিণ দিনাজপুরে উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ও পাচারচক্রের সঙ্গে পিন্টুর কীভাবে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যদিও, এই বিপুল টাকার উৎস কী, তা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। গত সপ্তাহেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মালদহে ফের কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যে সীমান্ত দিয়ে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ বেশ পুরোনো। মাঝেমধ্যেই উদ্ধার হয় ফেনসিডিল, গ্রেফতার হয় পাচারকারীরাও। কিন্তু কাশির সিরাপের চোরাচালানের সূত্রে এক লপ্তে এত টাকা উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে কার্যত নজিরবিহীন। অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মোট টাকার পরিমাণ কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।




