Saturday, August 1, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

যৌনতার ফাঁদে ফেলায় পারদর্শী অর্পিতা গ্রেফতার! হামিমের বান্ধবী ‘হানিট্র্যাপের’ মাধ্যমে প্রভাবশালীদের ফাঁদে ফেলতেন?

RK NEWZ ঝাড়খণ্ড থেকে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা গ্রেফতার! ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে হামিমের বান্ধবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) অভিযানে ধরা পড়েছেন অর্পিতা সরকার। বর্ধমান থেকে জঙ্গি যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারও এ বার পুলিশের জালে। শুক্রবার রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) অভিযানে ধরা পড়েছেন অর্পিতা। অভিযোগ, হামিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তাঁর। এসটিএফের দাবি, হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণ করার ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পেতেন তিনি। তাঁদের কেন্দ্র করে একটি সংগঠিত চক্র একটি গড়ে উঠেছিল। শুক্রবার হামিমকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’ থেকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আইএসআই-এর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফের দাবি। এ বার তাঁর বান্ধবীও পুলিশের জালে। তাঁদের জেরা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। হামিমকে আপাতত ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বর্ধমান থেকে জেরার জন্য তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় শুক্রবারই। এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিমকে জেরা করে অর্পিতার নাম জানা যায়। তিনি কী করতেন, গোটা চক্রে তাঁর কী ভূমিকা ছিল, জানতে পারেন তদন্তকারীরা। তার পর রাতেই ঝাড়খণ্ডে অভিযান চালানো হয় এবং অর্পিতা ধরা পড়েন। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার আদালতে হাজির করানো হবে অর্পিতাকে। বর্ধমান থেকে হামিম গ্রেফতার হওয়ার পর শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হামিমের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামে। হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি রেডিমেড জামাকাপড় তৈরির কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করতেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, আড়ালে নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যোগ ছিল তাঁর। যাতায়াত ছিল নিউটাউনেও। তদন্তকারীদের দাবি, এমনকি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর নিশানায় ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি এবং আরএসএস নেতার খবরাখবর সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল আইএসআই-এর। সেই উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্কও গঠন করা হয়েছিল। তবে আইএসআই-এর পরিকল্পনামাফিক হামিম এই বিষয়ে ঠিক কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা এখনও পুরো স্পষ্ট নয়। তাঁর মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে শুভেন্দু-সহ একাধিক রাজনীতিবিদের গতিবিধির খবরাখবর পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু যে রাস্তা ধরে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ফিরতেন, সেখানে রেকিও করেছিলেন হামিম। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক যোগ মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এসটিএফ তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল-সহ তার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।’’ এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্পিতাকে মূলত ‘ফাঁদ’ হিসাবে ব্যবহার করা হত। তাঁর নিশানা হতেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আমলা এবং আধিকারিকেরা। রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালীদেরও নিশানা করতেন এই মহিলা। যৌনতার ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাতেন। এসটিএফ সূত্রের দাবি, হামিমই এই তথ্য জেরার মুখে স্বীকার করেছেন। অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখবেন তদন্তকারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles