RK NEWZ মঙ্গলবার সকালে বৈঠকে বসে শাসকজোট এনডিএ-র সংসদীয় দল। বৈঠকে প্রথম সারিতেই বসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এক সারিতে জায়গা পেয়েছেন কাকলিও। এনডিএ-র বৈঠকে একেবারে সামনের সারিতে বসানো হল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরা যে সারিতে বসেন, সেই সারিতেই জায়গা পেলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী নেত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-র মুখ্যসচেতককে। রাজনীতির কারবারিদের একাংশ মনে করছেন, এর ফলে রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে দিল্লির শাসকজোটে কাকলিদের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ছবি ফুটে উঠল। মঙ্গলবার সকালে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক বসে। বৈঠকে একেবারে সামনের সারিতে বসেন মোদী, শাহ, রাজনাথ সিংহ, জেপি নড্ডা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই একই সারিতে বসেন কাকলি। মোদীর ডানদিকে পঞ্চম আসনে কাকলির বসার ব্যবস্থা করা হয়।
নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে গত সপ্তাহ থেকে লাগাতার কেন্দ্রকে বিঁধে যাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। সোমবারই প্রশ্নফাঁস রুখতে লোকসভায় ‘কঠোর’ বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে সেই বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করা যায়নি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে শাসকজোটের সংসদীয় দলের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি আসন পুনর্বিন্যাস বিলেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা পুনরায় সংসদে পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। সে দিক থেকেও এনডিএ-র বৈঠক এবং সেখানে কাকলিদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন শুভেন্দু। তবে অন্য কর্মসূচিতে ব্যস্ততার কারণে দিল্লি সফর বাতিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ অবস্থায় আগের রাতেই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সুদীপ। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সময়েই বিদ্রোহীরা ঘোষণা করেছিলেন— তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। সম্প্রতি দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন সুদীপ। ১৯ জুলাই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক শেষে সুদীপ ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, তাঁরা সংসদে এনডিএ-কেই সমর্থন করবেন। পাশাপাশি সুদীপ এ-ও জানান, পশ্চিমবঙ্গে নিজ নিজ এলাকার কোনও সমস্যা নিয়ে দিল্লিতে দরবার না-করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এনসিপিআই সাংসদেরা। ওই সমস্যাগুলি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন। এই আবহে সোমবার শুভেন্দুর সঙ্গে সুদীপের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোটের ওই বৈঠকে কাকলি ছাড়াও ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। মঙ্গলবারের এই বৈঠকে কাকলিদের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে খোঁচা দিতে শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল। মমতা-শিবিরের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “এনসিপিআই-এর সাংসদেরা তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে জিতেছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখিয়ে, বিজেপির বিরোধিতা করে জিতেছেন। তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করে দল ছেড়েছেন। বিজেপির বিরোধিতা করে জেতা সাংসদেরা এখন বিজেপির জোটে যোগ দিচ্ছেন। এমন বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে?”
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁর কক্ষে গিয়ে সোমবার দেখা করলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, প্রায় ২০ মিনিটের বৈঠকশেষে দু’টি দাবি জানিয়ে স্পিকারের হাতে চিঠিও তুলে দিয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের সদস্যপদ দ্রুত খারিজ করা হোক। সম্প্রতি তাঁদের যে আসন বরাদ্দ করা হয়েছে, তা-ও প্রত্যাহার করা হোক। লোকসভায় ২৮ জন সাংসদ যে আসনে বসতেন, তা-ই পুনর্বহাল করা হোক।
সূত্রের খবর, সোমবার প্রায় ২০ মিনিট লোকসভার স্পিকার বিড়লার সঙ্গে বৈঠক হয় অভিষেকের। স্পিকারের কাছে মূলত দু’টি দাবি জানান তিনি। চিঠিও তুলে দেন। অভিষেকের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ দ্রুত খারিজ করা হোক। ১৯৮৫ সালের লোকসভা সদস্য নীতির ৬ নম্বর ধারা অনুসারে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই এক আবেদন জানিয়ে গত ১৯ জুন তিনি পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তার পরে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, হয়নি শুনানিও। সেই নিয়ে সোমবারের চিঠিতে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এই বিষয়ে যখন কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, তখন কী ভাবে ২০ জনের আসন বদল করা হল? লোকসভার স্পিকার ওই ২০ সাংসদের দলবদলকে এখনও স্বীকৃতি দেননি। তবে তাঁদের আসন বদল করা হয়েছে। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে ২০ জন সাংসদ যে ভাবে ভিন্ন দলে শামিল হয়েছেন, তাকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এনে তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবি জানানো হয় কালীঘাট তৃণমূলের তরফে। সেই দাবি জানিয়ে এর আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন অভিষেক, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্র। কিন্তু সে ব্যাপারে লোকসভার স্পিকার এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। অভিষেকের দাবি, এখনই সেই আসনবদলের ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক। সার্কুলার জারির আগে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ২৮ জন সাংসদের জন্য যে আসন বরাদ্দ ছিল, তা অবিলম্বে পুনর্বহাল করা হোক। সূত্রের খবর, স্পিকারের তরফে কোনও ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পরেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা প্রথমেই চেয়েছিলেন— লোকসভায় একটি পৃথক ব্লক এবং নিজস্ব সংসদীয় অফিস। কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শু্ধুমাত্র তাঁদের আসনের নম্বর বদলে প্রথম দিকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে আর আদি তৃণমূলের সাংসদদের পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাকলিরা সে-ই নিয়ে দেখা করেন স্পিকারের সঙ্গে। এ বার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে জোড়া দাবি পেশ করলেন অভিষেক।




