RK NEWZ ই মামলার শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও অভিযুক্ত পক্ষ হাজিরা দেয়নি, তাই নতুন করে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। তবে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। রাজ্য বিধানসভার নিরাপত্তা বিধি এবং স্পিকারের ভূমিকা ঘিরে দায়ের হওয়া পুরনো আদালত অবমাননার মামলার ইতি টানল কলকাতা হাইকোর্ট। তৎকালীন বিরোধী দলনেতার দায়ের করা আবেদন খারিজ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটালেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। শুনানি চলাকালীন বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “এই মামলা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।” বিধানসভার অন্দরে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী প্রবেশের নিয়মে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেই মূলত এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল। বিধানসভার সচিবের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের প্রবেশের নিয়ম থাকলেও তা সমানভাবে কার্যকর করা হত না বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের সদস্যদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি শিথিল করে তাঁদের নিরাপত্তাকর্মীদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হত। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হত এবং তাঁদের নিরাপত্তারক্ষীদের আটকে দেওয়া হত। এই পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তৎকালীন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে হাইকোর্টের দরজার কড়া নেড়েছিলেন তিনি। সোমবারে এই মামলার শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও অভিযুক্ত পক্ষ হাজিরা দেয়নি, তাই নতুন করে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। তবে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। বিচারপতি অমৃতা সিনহার পর্যবেক্ষণ, মামলার পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিকাঠামোয় বেশ বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। যে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, বর্তমানে তিনি নিজেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিবর্তিত সামাজিক ও রাজনৈতিক পেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়েই বিচারপতি মন্তব্য করেন, “মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।” এর পরেই আদালত অবমাননার আর্জি পুরোপুরি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
কী সেই মামলা?
তৃণমূল আমলে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকত। বিধানসভার ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাকর্মীদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ ছিল, তৃণমূল বিধায়করা পুলিশি নিরাপত্তা নিয়েই বিধানসভায় প্রবেশ করতেন। স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই মামলাই চলছিল এতদিন ধরে।
কী বললেন বিচারপতি?
সোমবারের শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়ে দেন, এই মামলা আর তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না। শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা ওই আদালত অবমাননার আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।”
বিধানসভার সচিব নিরাপত্তারক্ষীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে একই নিয়ম জারি করলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সেটিতে মান্যতা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় রাজ্যের আইনজীবীর অভিযোগ, বারবার নোটিস দেওয়া হলেও অন্য পক্ষ আসেনি। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজ্যের আইনজীবী আর্জি জানান, রুল জারি করা হোক। যদিও বিচারপতি শুধু এই মামলা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না বলে জানিয়ে দেন।
ধর্মতলায় নিট নিয়ে আন্দোলনের প্রতিবাদে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে প্রতিটি হাউসের সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। মারধর-শ্লীলতাহানি করা হয়। ঘটনায় গ্রেফতার মোট ১৬ জন। সোমবার ধৃতদের খালি পায়ে হাঁটানো হয়। তারপর তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। সেখানে সরকারি আইনজীবী জানান কেন খালি পায়ে হাঁটানো হচ্ছে। সোমবার শুনানি চলছিল আদালতের ভিতরে। সেই সময় অভিযুক্তদের তরফে আইনজীবী সওয়াল করেন, অভিযুক্তদের খালি পায়ে ঘোরানো হচ্ছে রাস্তায়। এমনটা করা যায় কি না সন্দেহ প্রকাশ করেন। পাল্টা আদালতে সরকারি আইনজীবীর সওয়াল, খালি পায়ে ঘোরানো হচ্ছে কারণ,ধৃতরা সাংবাদিকদের বিক্ষোভের নামে জুতো ছুড়ে মেরেছিল। যে সংগঠনের তরফে বিক্ষোভ ছিল তাঁদের সদস্য অভিযুক্তরা ছিল না। এই দু’জনকে ৯ তারিখ পর্যন্ত হেফাজতে চাওয়া হয়েছে। নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার বাম ছাত্র-সংগঠন মিছিল করেছিল। অভিযোগ, মিছিলের মাঝেই হঠাৎ উড়ে আসে এলোপাথাড়ি ইট-বোতল-লাঠি,জুতো। আক্রান্ত হন পুলিশ কর্মী। গুরুতর জখম হন বহু সাংবাদিক। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত টিভি-৯ বাংলাও। গুরুতরভাবে জখম চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত ও মাখন পাত্র। আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিক সুমন মহাপাত্রও। আহতদের এসএসকেএমে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। একইসঙ্গে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসও দেন তিনি। এরপরই এক-এক করে গ্রেফতার করা হয় ষোলোজনকে। সেই ঘটনাতেই ধৃতদের আজ তোলা হয় আদালতে। ঘটনার পুনর্নিমাণও করা হয়। তখনই খালি পায়ে হাঁটানো হয় তাঁদের।



