Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করব’!‌ শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে মোদিকে ধন্যবাদ প্রহ্লাদ জোশীর

RK NEWZ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশী। গুরুভার কাঁধে ওঠার পর প্রথম বিবৃতি দিলেন নয়া শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর উপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জোশী বললেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানেরও প্রশংসা করেছেন জোশী। কেন্দ্রের উপভোক্তা, খাদ্য ও গণবণ্টন বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন প্রহ্লাদ। শনিবার নয়া শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। এই বিরাট দায়িত্বভার পাওয়ার যোগ্য হিসেবে আমাকে বিবেচনা করায় প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বিগত ১২ বছরে এই সরকারের নেতৃত্বে অনেক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত চার-পাঁচ বছরে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার কৃতিত্ব ধর্মেন্দ্র প্রধানেইর প্রাপ্য। নয়া শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।” ককরোচ জনতা পার্টি তথা জেন জি’র আন্দোলনের চাপে শনিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশাল মিডিয়ায় জানান, ‘দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি।’ তাঁর দাবি, ‘ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।’ পরে এদিন বিকেলে রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফাপত্র পাঠানোর পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ জরুরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেই সম্ভবত প্রধানের উত্তরসূরি কে হবেন, তাই নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীনের সঙ্গেও আলোচনা হয় শাহের। তারপরই ঠিক হয় দলের শীর্ষনেতৃত্বের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন প্রহ্লাদকেই আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হবে। পরে মন্ত্রিসভার রদবদলের সময় স্থায়ী শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করা হবে।

নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর থেকে শিক্ষাব্যবস্থার ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌স্বচ্ছতার উপর জনসাধারণের ভরসা টলমল। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর সেই ভরসা ফিরিয়ে আনা প্রহ্লাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন মোদী। ইতিমধ্যে সেই খসড়া বিল প্রস্তুত। তাতে অনুমোদনও দিয়েছে মোদীর মন্ত্রিসভা। সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভায় পেশ হতে পারে সেই ‘পাবলিক এগ্‌জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ বিলটি। এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি তদারকি করতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে। প্রশ্নফাঁস রোধের বিল সংসদে পাস হলে তার সঠিক বাস্তবায়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব। সবমিলিয়ে টালমাটাল শাস্ত্রী ভবনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রহ্লাদকে বাজি রেখেছেন মোদী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্র জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রহ্লাদ জোশীকে। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার বর্ষীয়ান এই সদস্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রের দু’টি মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন। তিনি উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক সামলাচ্ছেন। তার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রকের মাথায় বসানো হল প্রহ্লাদকে। দায়িত্ব পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাধ্যমতো এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু দু’টি মন্ত্রক থাকা সত্ত্বেও কেন প্রহ্লাদকেই এই দায়িত্বে আনলেন মোদী? মন্ত্রিসভায় মোদীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম প্রহ্লাদ। কঠিন সময়ে বৈতরণী পার করানোর জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদে তাঁর নিয়োগকে সরকারের বিশেষ কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সংসদে এখন বাদল অধিবেশন চলছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রহ্লাদ কেন্দ্রের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক সামলেছেন। সংসদে তাঁর অভিজ্ঞতা, কক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা এখন কাজে লাগতে পারে। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পর প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতে হতে পারে। নতুন করে যাতে সংসদে কোনও হট্টগোল না হয়, বিরোধীরা যাতে এ বিষয়ে আর কোনও গোলমাল করতে না-পারেন, নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তা নিশ্চিত করতে পারবেন প্রহ্লাদ। শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সংসদের বাদল অধিবেশন সামাল দেওয়াই এখন তাঁর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে কাজ করেন প্রহ্লাদ। দক্ষ প্রশাসক হিসাবে জটিল আমলাতান্ত্রিক বিভাগগুলিতেও তিনি স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদের উভয়কক্ষে বিরোধী আক্রমণ সামাল দেওয়ায় মোদী তাঁর অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles