Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

রদ্রিকে সোনার বল পুরস্কার, শুরু হয়েছে বিতর্ক। ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট, পাঁচ বার ম্যাচের সেরা, মেসি পেলেন না সোনার বল!

RK NEWZ চলতি বিশ্বকাপে আটটি গোল করেছেন মেসি। করিয়েছেন চারটি গোল। আট ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে হয়েছেন সেরা। তাই ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পরেও অনেকে ভেবেছিলেন, সোনার বল জিতবেন মেসি। কিন্তু তাঁর বদলে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রিকে সেই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও বিতর্ক থামার নাম নেই। এ বার বিতর্ক শুরু হয়েছে সোনার বল নিয়ে। বিশ্বকাপের সোনার বলের জন্য রদ্রির নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মেসির নামে জয়ধ্বনি শুরু করেন। তা দেখে কেঁদে ফেলেন মেসি। কিন্তু সেই জয়ধ্বনি যে ফিফার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ তা বুঝতে পারা যাচ্ছিল। তা হলে কেন রদ্রিকে সোনার বল দেওয়া হল? ফিফার এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ভুল? ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টিনা দলকে চালিয়েছেন মেসি। ম্যাচের পর ম্যাচ দলকে জিতিয়েছেন। ২০২২ সালেও পাঁচটি ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন। এ বারও পেয়েছেন। ২০২২ সালে সাতটি গোল করেছিলেন তিনি। এ বার করেছেন একটি বেশি। ফলে মেসির জন্য যাঁরা গলা ফাটাচ্ছেন, তাঁদের কথার যুক্তি অবশ্যই রয়েছে। সেই তালিকায় পড়েন দুই প্রাক্তন ফুটবলার জ়্লাটান ইব্রাহিমোভিচ ও আঙ্খেল দি মারিয়া। ইব্রাহিমোভিচ বলেছেন, “সোনার বল জেতার জন্য মেসিকে আর কী করতে হত? আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না, কোন যুক্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হল। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া হারলেও লুকা মদ্রিচ সোনার বল জিতেছিল। তা হলে মেসি কেন পেল না?” আর এক ধাপ উঠে সরাসরি ফিফার দিকে আঙুল তুলেছেন দি মারিয়া। তিনি বলেছেন, “আমি প্রায় দুই দশক ধরে মেসির সঙ্গে সাজঘর ভাগ করে নিয়েছি। আমার বলতে দ্বিধা নেই, ফিফা সবচেয়ে অপমানজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সোনার বল মেসিরই প্রাপ্য।” ইব্রা ও দি মারিয়া মেসির পাশে দাঁড়ালেও রদ্রির পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। স্পেনের বিশ্বজয়ের প্রধান কারিগর রদ্রি। আটটি ম্যাচেই শুরু থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পাস এ বার খেলেছেন রদ্রি। যেমন রক্ষণে সাহায্য করেছেন, তেমনই তাঁর পায়েই তৈরি হয়েছে আক্রমণ। হতে পারে তিনি কোনও গোল করতে পারেনি। অ্যাসিস্টও করেননি। এমনকি, ফাইনালে তিনি উঠে যাওয়ার পরেই দলের জয়সূচক গোল এসেছে। একটি ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেয়েছেন। তাতে কিন্তু রদ্রির কৃতিত্ব কমে যায় না। বিশ্বকাপে যে শুধুমাত্র বেশি গোল ও অ্যাসিস্ট করলেই সোনার বল জেতা যায় তা নয়, ফিফার টেকনিক্যাল কমিটি দেখে, গোটা প্রতিযোগিতায় কে সবচেয়ে ভাল খেলেছেন। সেই কারণেই ২০০২ সালে জার্মানি রানার্স হওয়ার পরেও তাদের গোলরক্ষক অলিভার কান সোনার বল জিতেছিলেন। ২০০৬ সালে জিতেছিলেন ইটালির অধিনায়ক তথা ডিফেন্ডার কানাভারো। অর্থাৎ, এই আগে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকও সোনার বল জিতেছেন। তাই রদ্রির এই পুরস্কার জেতার নেপথ্যে যুক্তি রয়েছে। তার পরেও বিতর্ক থামছে না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সোনার বল মেসিই জিতেছেন। ২০১৪ ও ২০২২ সালে প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হয়েছেন তিনি। এ বার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিততে পারলে হয়তো আরও এক বার সেই পুরস্কার তিনি পেতেন। কিন্তু রদ্রি যে ভাবে গোটা প্রতিযোগিতা ধরে সফল ভাবে একটি চ্যাম্পিয়ন দলকে চালিয়েছেন, সেই দক্ষতার কারণেই তাঁকে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার বেছে নিয়েছে ফিফা।

বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে চুপ মেসি! আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কি শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন লিয়োনেল মেসি? তিনি নিজে এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে মেসিকে নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। কোচের পর লিয়োর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়ে দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থাও। লিয়োনেল মেসি চুপ। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছেন। কাউকে কিছু বলেননি। সাংবাদিক বৈঠকেও যাননি। তিনি কি আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন? এটাই এখন সকলের প্রশ্ন। মেসি নিজে এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তাঁকে নিয়ে মুখ খুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। সমাজমাধ্যমে মেসিকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গলায় রানার্সের পদক ঝুলিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মেসি। তাঁর চোখে জল। ক্যাপশনে তারা লিখেছে, “অধিনায়ক, তোমার কান্না আমাদেরকেও কাঁদায়। তুমি আমাদের জীবনের সেরা আনন্দ দিয়েছ। তোমার নিষ্ঠা, জাদু ও দেশের হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তোমার লড়াইকে সেলাম। তোমাকে সারা জীবন আমরা ভালবাসব লিয়ো। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।” মেসিকে নিয়ে ফুটবল সংস্থার এই পোস্ট থেকে ইঙ্গিত, হয়তো দেশের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন তিনি। চার বছর পর বিশ্বকাপে যে তিনি আর খেলবেন না তা নিশ্চিত। এর পর দেশের খেলা কবে হবে তার অপেক্ষায় হয়তো আর থাকবেন না মেসি। আরও একটি জল্পনা শোনা যাচ্ছে। হতে পারে আর্জেন্টিনার মাটিতে কোনও প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হতে পারে। সেখানে খেলে দেশের মানুষের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন মেসি। তবে সবই এখন জল্পনার স্তরে। সরকারি ভাবে কিছু জানা যায়নি। ফাইনাল হেরে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিয়ানেল স্কালোনি। তিনি বলেন, “এখন ওর ৩৯ বছর বয়স। ও এক কথায় অবিশ্বাস্য। ওর থেকে আমি নতুন কিছু আর বার করতে পারব না। আমি আগেও বলেছিলাম। আজও বলছি। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থ ওর পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত প্রত্যেকে ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles