Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ঘটনাবহুল ফাইনাল!‌ বিদ্রুপের মুখে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট!‌ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ থেকে নামতেই চাইলেন না ট্রাম্প!‌

RK NEWZ বিশ্বকাপ ফাইনালে হাজির ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনিই ট্রফি তুলে দেন স্পেনের অধিনায়কের হাতে। কিন্তু তার পরেও মঞ্চ থেকে তাঁকে সরানো গেল না। বিশ্বকাপ ফাইনালে হাজির ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যত বার তাঁকে দেখানো হল, বিদ্রুপ করলেন দর্শকেরা। খেলা শেষে তো আর এক কাণ্ড। স্পেনের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর মঞ্চ থেকে নামানো গেল না। স্পেনের সঙ্গেই উল্লাস করলেন ট্রাম্প। খেলার শুরুতে ভিআইপি বক্সে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বসেছিলেন সস্ত্রীক ট্রাম্প। তাঁকে দেখা মাত্র গ্যালারি জুড়ে বিদ্রুপ শুরু হয়। শিস্‌ দেন দর্শকদের একাংশ। ট্রাম্প অবশ্য বিশেষ পাত্তা দেননি। খোশগল্পে মেতেছিলেন তিনি। একটা সময় দেখা যায়, বিশ্বকাপের ট্রফি তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি তা কিছু ক্ষণ কোলে রেখে সামনে রেখে দেন। খেলা শেষে ইনফান্তিনোর সঙ্গেই মাঠে এলেন ট্রাম্প। উঠলেন মঞ্চে। ট্রাম্প মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আবার বিদ্রুপ শুরু হল। তার মাঝেই ফুটবলারদের গলায় মেডেল পরিয়ে দিলেন ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো। শেষে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দিলেন ট্রাম্প। প্রথমে ফুটবলারদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ফিফার কয়েক জন কর্তা তাঁকে সরতে বলেন, যাতে স্পেনের ফুটবলারেরা উল্লাস করতে পারেন। ট্রাম্প একটু সরলেন বটে, কিন্তু নামলেন না। ইনফান্তিনো প্রায় তাঁর হাত ধরে তাঁকে মঞ্চ থেকে নামানোর চেষ্টা করলেন। তাতেও তাঁকে নামানো গেল না। ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পও উল্লাসে মাতলেন। ভাবখানা এমন, যেন তিনিই বিশ্বকাপ জিতেছেন। এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের সময়েও একই কাজ করেছিলেন ট্রাম্প। চ্যাম্পিয়ন দল চেলসির সঙ্গে উল্লাস শুরু করেছিলেন। সেই সময় চেলসির অধিনায়ক রিসি জেমস প্রায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে। এ বার অবশ্য স্পেন তেমন কিছু করেনি। বিশ্বকাপের আগে থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশছোঁয়া মূল্য ও আমেরিকার অভিবাসন নীতির কারণে সমালোচনা হচ্ছিল তাঁর। আমেরিকার ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের সাসপেনশন প্রত্যাহারের জন্য ইনফান্তিনোকে তাঁর ফোন সব বিতর্কে ঘি ঢালে। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও ট্রাম্পকে নিয়ে বিতর্ক থামল না। নিজের দেশেই বিদ্রুপের মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কোন যুক্তিতে বাতিল নিকো উইলিয়ামসের গোল? বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। দাপুটে স্পেনের সামনে দিশেহারা দেখিয়েছে লিওনেল মেসিদের। ফলে টানা দু’বার ট্রফি জেতা হল না তাঁর। ১৬ বছর পর বিশ্বজয়ী স্পেন। তবে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে দুর্দান্ত শটে জালে বল জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি উইলিয়ামস। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্তে হতচকিত হয়ে যান সকলে। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার ঠিক আগে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো বলের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডির পায়ে বুট দিয়ে আঘাত করেন। রেফারির মতে, সেটি ফাউল। ফলে সেই আক্রমণ থেকে হওয়া উইলিয়ামসের গোলটি বাতিল করা হয়। রেফারি ভিনচিচ প্রথমে ভিএআর-এর সাহায্য ছাড়াই ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি পর্যালোচনা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক থামেনি। সোশাল মিডিয়ায় অনেকের দাবি, ম্যাচে এর চেয়েও কঠিন কয়েকটি ট্যাকলের ক্ষেত্রে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দিয়েছিলেন। তাই মেরিনোর চ্যালেঞ্জকে ফাউল ধরে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ফাইনালের শেষে হাতাহাতি, স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের গলা টিপে ধরলেন মেসির সতীর্থ, দেখলেন লাল কার্ড। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াইটা ছিল মূলত ফুটবলের। দু-একটি ছোটখাট ঘটনা ছাড়া ম্যাচে দুই দলের ফুটবলাররাই সংযত ছিলেন। রেফারিকেও বেশি কার্ড দেখাতে হয়নি। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মাঠেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে তর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। সেই উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ ফুটবলাররা জয়ের আনন্দে উৎসব শুরু করেন। অন্যদিকে হতাশ আর্জেন্টিনার কয়েকজন মাঠেই বসে বা শুয়ে পড়েন। এরই মধ্যে মাঠের মাঝখানে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে প্রথমে তর্কযুদ্ধ শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের কেন্দ্রে ছিলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ম্যাচে নেমেই অবাঞ্ছিত ট্যাকেলের জন্য তিনি ৫ মিনিটের মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। শেষ বাঁশির পর প্রথমে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। এক পর্যায়ে গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন তিনি। পরে স্পেনের গাভির সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তাঁকে সরাসরি লাল কার্ডও দেখানো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন দুই দলের সাপোর্ট স্টাফ ও কোচিং সদস্যরা। স্কালোনিও নিজের ফুটবলারদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার আগে গার্সিয়ার সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সাধারণত শান্ত স্বভাবের কোচ হিসেবে পরিচিত স্কালোনিকে এমন মেজাজে খুব কমই দেখা গিয়েছে। এদিকে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডির সঙ্গে স্পেন অধিনায়ক রদ্রিরও তর্কাতর্কি হয়। যদিও সেই ঘটনা মৌখিক বাক্‌বিতণ্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। শেষ বাঁশির পরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিও ফাইনালের আবহে কিছুটা হলেও বিতর্কের চোনা ফেলে দিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles