Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আর্জেন্তিনা বনাম স্পেন!‌ লা আলবিসেলেস্তে বনাম লা রোহা! বিশ্বমঞ্চে এবার স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে লা আলবিসেলেস্তেরা

RK NEWZ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্তিনা ও স্পেন। লা আলবিসেলেস্তে বনাম লা রোহা! দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে কে এগিয়ে? ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্তিনা ও স্পেন। মেগা ফাইনালের আগে দেখে নিন দুই দলের হেড-টু-হেড রেকর্ড এবং অতীতের পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা দুই দলের দ্বৈরথ। চিরাচরিত ব্রাজিল বা জার্মানির মতো দীর্ঘকালীন শত্রুতা হয়তো নেই। কিন্তু দুই দেশেরই রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ ফুটবলীয় পরিচিতি। বল দখলের লড়াই, গতি এবং পাসিং ফুটবলের নিরিখে দুই দলই সমান-সমান। ফাইনালের টিকিট পাকা হওয়ার পর থেকেই পারদ চড়তে শুরু করেছে। দুই ভিন্ন মহাদেশের দুই ফুটবলীয় ঘরানার মগজাস্ত্রের লড়াই দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। লাতিন স্কিল নাকি ইউরোপীয় ঘরানার টেকনিক্যাল পাসিং—রবিবারের মেগা ফাইনালে কোন কৌশলের বাজিমাত হয়, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। অতীতের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, মুখোমুখি লড়াইয়ে কেউই খুব একটা পিছিয়ে নেই। দুই দলের দ্বৈরথ বরাবর অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। সেখানে সামান্য এগিয়ে স্পেন। স্প্যানিশদের ৭টি জয়ের উল্টোদিকে আর্জেন্তিনার ৬টি। মাত্র একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, দুই দলের লড়াই কতটা উন্মুক্ত এবং আক্রমণাত্মক। রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে দুই দল বরাবর গোলের সন্ধানে ঝাঁপিয়েছে। স্পেনের ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সোনালি অধ্যায়ে রীতিমতো আধিপত্য দেখিয়েছিল। পালটা প্রত্যাঘাত করেছে আর্জেন্তিনাও, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। ফলে পরিসংখ্যানে কাউকেই পরিষ্কার ফেভারিট বলা কঠিন।

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বারবার দেখা হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এদের লড়াই অত্যন্ত বিরল। শুনলে অবাক হতে হয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দল এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে। তাও সেটি ১৯৬৬ সালের গ্রুপ পর্বে! সেই ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্তিনা। দুই দলই নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলেছে। নকআউট পর্বেও বহুবার পৌঁছেছে। কিন্তু ট্রফির লড়াইয়ে কখনও একে অপরের সামনে পড়েনি। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বিশ্বমঞ্চে একে অপরকে এড়িয়ে গিয়েছে এই দুই শক্তিধর প্রতিনিধি। ফলে এবারের ফাইনাল এক অন্য মাত্রার ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে, তা-ও আবার মেগা ফাইনালে এই প্রথমবার একে অপরের মোকাবিলা করবে দুই দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর দ্বৈরথে দু’দলের পারফরম্যান্সে বেশ রদবদল দেখা গিয়েছে। ২০১৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্তিনাকে ৬-১ ব্যবধানে চূর্ণ করেছিল স্পেন। যা তাদের স্কোয়াডের প্রবল শক্তির প্রমাণ! কিন্তু এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা। কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের পর বিশ্বফুটবলে নিজেদের পুরনো দাপট ফিরিয়ে এনেছে তারা। যার প্রমাণ মেলে ২০২৪ সালের প্রীতি ম্যাচে। সেই খেলায় স্পেনকে ২-১ গোলে হারায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার সামনে সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আর্জেন্তিনা চাইছে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়তে। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয় মুকুটের খোঁজে মরিয়া স্পেন। অতীত পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, রবিবারের মহারণ ফুটবল ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। ম্যাচের দিন স্নায়ুর চাপ যারা সামলাবে, শেষ হাসি তাদেরই।

একনজরে হেড-টু-হেড রেকর্ড ও সাম্প্রতিক ফলাফল:
মোট ম্যাচ: ১৪
স্পেনের জয়: ৭
আর্জেন্তিনার জয়: ৬
ড্র: ১

বিশ্বকাপের একমাত্র মুখোমুখি ফল:
১৯৬৬ (গ্রুপ পর্ব): আর্জেন্তিনা ২-১ স্পেন

উল্লেখযোগ্য প্রীতি ম্যাচ:
২০১০: আর্জেন্তিনা ৪-১ স্পেন
২০১৮: স্পেন ৬-১ আর্জেন্তিনা
২০২৪: আর্জেন্তিনা ২-১ স্পেন

তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন লিয়োনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ২০১৪ সালে না পারলেও ২০২২ সালে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। পর পর দু’বার আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। দলগত এই লক্ষ্যের পাশাপাশি ১৯ জুলাই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে ব্যক্তিগত ভাবে অন্তত ১১টি নজির গড়তে পারেন এলএম টেন।

১) বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন মেসির বয়স হব ৩৯ বছর ২৫ দিন। সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার নজির গড়লেন লিয়ো। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ খেলার নজির রয়েছে ইটালির দিনো জ়ফের। তিনি ১৯৮২ সালের ফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে খেলেছিলেন ৪০ বছর ১৩৩ দিন বয়সে। জ়ফ অবশ্য গোলরক্ষক ছিলেন। গোলরক্ষক বাদে অন্য ফুটবলারদের মধ্যে মেসিই হবেন ফাইনাল খেলে বয়স্কতম ফুটবলার।

২) ১৯ জুলাই মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবল অধিনায়ক হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব অর্জন করবেন মেসি। এমন কৃতিত্ব রয়েছে শুধু ব্রাজ়িলের প্রাক্তন অধিনায়ক কাফুর। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল ব্রাজ়িল।

৩) আর্জেন্টিনার প্রথম অধিনায়ক হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন মেসি। টপকে যাবেন দিয়েগো মারাদোনার নজির। মারাদোনার নেতৃত্বে দু’বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা।

৪) দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে ইটালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজ়িলের (১৯৫৮, ১৯৬২) বেশ কিছু ফুটবলারের। আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল পাসারেলারও এই কৃতিত্ব রয়েছে। তবে এ বার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে মেসি প্রথম অধিনায়ক হিসাবে দু’বার বিশ্বজয় করবেন।

৫) বিশ্বকাপে মেসি এখনও পর্যন্ত আটটি গোল করেছেন। ফাইনালে গোল করতে পারলে আরও একটি নজির গড়বেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালে বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে গোল করার নজির গড়বেন। এখন এই রেকর্ড রয়েছে সুইডেনের নিলস লিডহোমের দখলে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে তিনি ৩৫ বছর ২৬৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।

৬) স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে গোল করতে পারলে আরও একটি রেকর্ড গড়বেন মেসি। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মধ্যে একটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার নজির গড়বেন। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে গিলেরমো স্ট্যাবিল আটটি গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে। ৯৬ বছরের পুরনো সেই নজির টপকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে।

৭) বিশ্বকাপ ফাইনালে দু’টি গোল করতে পারলে আরও একটি নজির গড়বেন। বিশ্বের চতুর্থ এবং ইউরোপের বাইরে প্রথম ফুটবলার হিসাবে একটি বিশ্বকাপে ১০টি বা তার বেশি গোল করার নজির গড়বেন মেসি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফতেঁ ১৩টি গোল করেছিলেন। যা এখনও বিশ্বরেকর্ড। এ ছাড়া ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোসিস ১১টি এবং ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির হয়ে গার্ড মুলার ১০টি গোল করেছিলেন।

৮) ১৯ জুলাই গোল করতে পারলে মেসি হবেন বিশ্বের ষষ্ঠ ফুটবলার, যিনি দু’টি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করবেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দু’টি গোল করেছিলেন মেসি। এমন কৃতিত্ব রয়েছে ব্রাজ়িলের ভাভা, পেলে, জার্মানির পল ব্রেইটনার, ফ্রান্সের জ়িনেদিন জ়িদান এবং কিলিয়ান এমবাপের।

৯) ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারলে মেসি আরও একটি নজির গড়বেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলার হিসাবে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়বেন। এই রেকর্ড রয়েছে ব্রাজ়িলের রোনাল্ডোর দখলে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজ়িল। সে বার রোনাল্ডো আট গোল করেছিলেন।

১০) গত বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির দু’টি গোল রয়েছে। এ বারের ফাইনালে আরও দু’টি গোল করতে পারলে এমবাপের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের মালিক এমবাপে। স্পেনের বিরুদ্ধে বার্সেলোনার প্রাক্তনী হ্যাটট্রিক করতে পারলে গড়বেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর গোল সংখ্যা হয়ে যাবে পাঁচ।

১১) আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসাবে ফুটবলের বিশ্ব খেতাব ধরে রাখবে। পর পর দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে ব্রাজ়িল (১৯৫৮, ১৯৬২) এবং ইটালির (১৯৩৪, ১৯৩৮)। মেসি হবেন বিশ্বের বয়স্কতম ফুটবলার, যিনি টানা দু’বার বিশ্বকাপ জিতবেন। এখন এই রেকর্ড রয়েছে ব্রাজ়িলের নিলটন স্যান্টোসের দখলে। ১৯৬২ সালে ব্রাজ়িলের টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপ জয়ের সময় স্যান্টোসের বয়স ছিল ৩৭ বছর। তিনি ১৯৫৮ সালের চ্যাম্পিয়ন দলেরও সদস্য ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles