RK NEWZ ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখিকা। তসলিমা ও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের পোস্টে সাহিত্যিককে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্যোক্তা সেক্যুলার মিশন, এইচআরবিএফএফ। তাঁদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দু’দশক পর আবারও প্রিয় শহর কলকাতায় তসলিমার আগমন ঘটবে। এমন ঐতিহাসিক ঘটনার অপেক্ষায় বাংলার সাহিত্য মহল। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যর অবদান স্বীকার করতেই হয়। তিনি রাজ্যসভায় প্রথম তসলিমার ‘ফেরা’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশের মৌলবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে তসলিমা বরারব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। তাই বাংলায় সাহিত্যিকের ফিরে আসা জরুরি। কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শমীক। এখন বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই শমীকের সেই ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে। বাম জমানার নিষেধাজ্ঞা উঠছে। বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতে আনন্দের খবর। ২০ বছর পর ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন! আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখিকা। কবিতা পাঠ করার কথা তাঁর। ফেসবুক পোস্টে এই সুখবর জানিয়েছেন তসলিমা নিজেই। ২০০৭ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে তাঁকে কলকাতা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল। সেই ‘লজ্জা’ কাটিয়ে আবারও তিলোত্তমার পথে পা রাখবেন তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে তসলিমা ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর আগুনঝরা কলমের ‘খোঁচা’য় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে তীব্র অশান্ত পরিবেশ হয়ে ওঠে। এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সেসময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর নিজস্ব বৃত্তের অর্থাৎ বামমনস্ক সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তসলিমা নাসরিনের বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে। যে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ বলে গর্ববোধ করে, সেই সরকারের আমলে এমন এক নিদর্শন নিঃসন্দেহে বাংলার সাহিত্য জগতে অন্ধকার অধ্যায়। তবে এবার রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এক আলোকময় ঘটনার সূচনা করতে চলেছে।



