RK NEWZ বেলঘরিয়া এক্সপ্রেওয়ের ধার থেকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্তের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক গুলি ঝাঁঝরা করে দিয়েছে তাঁর শরীর। উত্তর দমদমে খুন কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্ত। সোমবার ভোররাতে রক্তক্ষয়ী ‘গ্যাংওয়ার’-এ কেঁপে উঠল উত্তর দমদমের বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকা। খলিসাকোটায় দুই দুষ্কৃতী দলের এই প্রকাশ্য সংঘাতের জেরে প্রাণ হারাল কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্ত। নিজের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়েই তাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই একই ঘটনায় রাজার আরও দুই শাগরেদ গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তারা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খাস কলকাতার উপকণ্ঠে এমন শুটআউটের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই খড়দহ থানার পুলিশ এই কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোররাতে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্ত তার কয়েকজন শাগরেদকে নিয়ে খলিসাকোটা এলাকায় এসেছিল। ঠিক সেই সময়েই সেখানে হাজির হয় অপর একটি বিরোধী দুষ্কৃতী দলের বেশ কিছু সদস্য। জনশূন্য এক্সপ্রেসওয়ের ধারে মুখোমুখি হতেই দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিমেষের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ঝামেলা চলাকালীন আচমকাই রাজার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি কেড়ে নেয় বিপক্ষ দলের দুষ্কৃতীরা। এরপর সেই বন্দুকটি দিয়েই রাজাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো শুরু হয়। গুলির আঘাতে রাজা-সহ তার সঙ্গীরা রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই খড়দহ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী দ্রুত খলিসাকোটায় পৌঁছায়। তবে ততক্ষণে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে হামলাকারী দুষ্কৃতী দলটি। পুলিশ রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা রাজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দুই জখম দুষ্কৃতীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। সোমবার ভোরবেলা বেলঘরিয়া এক্সপ্রেওয়ের ধার থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক গুলি ঝাঁঝরা করে দিয়েছে তাঁর শরীর।

এর আগে বেশ কিছু অপরাধের ঘটনার সঙ্গে রাজার নাম জড়িয়েছিল। পুলিশের খাতায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী বলেই তিনি পরিচিত। রাজার খুনের নেপথ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ (গ্যাংওয়ার) রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। ভোরবেলা বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধার দিয়ে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় কোনও বিরোধী গোষ্ঠীর মুখোমুখি হয়ে থাকতে পারেন, অনুমান পুলিশের। তবে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে বচসা হয়েছিল, এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজার কাছে অস্ত্র ছিল। দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে। কোন রাস্তা দিয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খলিসাকোটার ওই এলাকায় আগে থেকেই দুষ্কৃতীরা উপস্থিত ছিল। তারা রাজার পূর্বপরিচিত বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানেই দুই সঙ্গীকে নিয়ে পৌঁছোন রাজা। তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়েই তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গুলি চলার খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। তারাই রাজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সূত্রের খবর, প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে আরজি করে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানেই চিকিৎসকেরা রাজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত রাজা। পুরনো কোনও বিবাদ থেকে এই সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্যাংওয়ারের নেপথ্যে পুরনো কোনও শত্রুতা নাকি এলাকা দখলের লড়াই রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এক্সপ্রেসওয়ের খলিসাকোটা মোড় এবং সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখেই মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



