RK NEWZ ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে সফল। সেই সাফল্যে ভর করেই এবার আরও বড় চমক দিতে প্রস্তুত ফিফা। ২০২৬ সালের পর টুর্নামেন্টের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিল বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। দল সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার ভাবনা শুরু হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো স্বয়ং এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, ফুটবলবিশ্বের সব দেশেরই এই মেগা মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। সুইস সম্প্রচারকারী সংস্থা ব্লু স্পোর্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বকাপ আয়োজন করলে তা গোটা দুনিয়ার জন্যই হওয়া উচিত। শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকা নয়!’। ইনফান্তিনোর সাফ কথা, ছোট দেশগুলো সুযোগ না পেলে তাদের উন্নতির তাগিদ কমে যাবে। ৬৪ দলের টুর্নামেন্টের এই ভাবনা প্রথম শোনা যায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন বা কনমেবল ২০৩০ সালের আসরে দল বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। উল্লেখ্য, ২০৩০ সালেই প্রতিযোগিতার শতবর্ষ পূর্ণ হবে। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৩২ দলের ফরম্যাটে টুর্নামেন্টে মোট ৬৪টি ম্যাচ খেলা হত। চলতি বছরের ৪৮ দলের আসরে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টি। ৬৪ টিমের প্রস্তাব ছাড়পত্র পেলে, খেলার সংখ্যা একলাফে দ্বিগুণ হবে। অর্থাৎ, মোট ১২৮টি ম্যাচ। এই প্রস্তাবের বিরোধিতাও রয়েছে। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মনটাগলিয়ানি গত এপ্রিলে ইএসপিএন-কে বলেন, ‘আমি মনে করি না ৬৪ দলের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য বা বৃহত্তর ফুটবল ইকোসিস্টেমের জন্য সঠিক পদক্ষেপ!’ টুর্নামেন্টের আকার বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তা ভারতের মতো দেশগুলোর সামনে একটা বড় সুযোগ। ৪৮ দলের ফরম্যাটে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন AFC থেকে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের কোটা ৪.৫ থেকে বেড়ে ৮.৫ হয়েছে। ফিফা যদি ২০৩০ সালে সত্যিই আরও ১৬টি স্লট বাড়ায়, তবে সেই কোটা বিশ্বজুড়েই ভাগ হবে।
আনুপাতিক হারে হিসেব করলে, সেক্ষেত্রে এশিয়ার ভাগে আরও ৩-৪টি স্লট জুটতে পারে। অর্থাৎ, এএফসি থেকে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১১ বা ১২-তে। ভারত বর্তমানে এশিয়ার সেরা দলগুলোর তালিকায় ১৫ নম্বরের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে স্লট বাড়লেও সরাসরি যোগ্যতা অর্জন সহজ না হলেও একটা ক্ষীণ আশার আলো অন্তত তৈরি হবে। এশিয়ার প্রথম সারিতে থাকা দলগুলির জায়গা কার্যত পাকা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া এবং সৌদি আরবের মতো হেভিওয়েটরা প্রথম পাঁচটি স্লট নিজেদের দখলে রাখবে। এরপরের ধাপেই রয়েছে কাতার, ইরাক, উজবেকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং জর্ডন। তারাও নিজেদের প্রমাণ করেছে। ভারতের সামনে লক্ষ্য ১১ বা ১২ নম্বর স্থানটি দখল করা। কিন্তু তার জন্য ওমান, বাহরিন, সিরিয়া, চিন, ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো দলগুলোকে ধারাবাহিক ভাবে টেক্কা দিতে হবে ব্লু-টাইগার্সদের। বর্তমানে যা বেশ কঠিন। তাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলেও, যোগ্যতা অর্জনের পথ নেহাত মসৃণ নয়। এই মঞ্চে পৌঁছতে গেলে ভারতীয় ফুটবলকে নিজেদের খেলার মান আরও কয়েক গুণ বাড়াতেই হবে।




