Tuesday, July 7, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপে অব্যাহত মেসি মহাকাব্য! ১৩ মিনিটে ৩ গোল!‌ অনবদ্য কামব্যাক! মিশরকে হারিয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা! কাঁদলেন লিয়ো!

আর্জেন্টিনা: ৩ (রোমেরো, মেসি, এনজো) মিশর: ২ (ইব্রাহিম, মোস্তফা)

RK NEWZ সত্যিই মেসি মহাকাব্য। ঈশ্বরের খেয়াল! ৮০ মিনিট অবধিও স্কোর ছিল মিশর ২, আর্জেন্টিনা ০। শেষ ১৫ মিনিটে যে এভাবে আর্জেন্টিনা কামব্যাক করবে, কে ভেবেছিল? কেউই না। আর তাই সোশ্যাল মিডিয়া প্রায় ভরে যাচ্ছিল হতাশায়, কান্নায়। কিন্তু মাঠে যতক্ষণ ভগবান থাকেন, কে তাঁর দলকে আটকাবে? ভগবান তো লীলা দেখবেনই। দেখালেনও। গোল করলেন। ১৩ মিনিটে ৩ গোল করে দুরন্তভাবে ম্যাচে ফিরল আর্জেন্টিনা। শুধু ফিরল না, ম্যাচ জিতে চলে গেল শেষ আটেও। পেনাল্টি মিস করলেও গোল পেলেন লিও মেসি। আটলান্টায় মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে যা ঘটল সেটা কোনও ম্যাজিকের চেয়ে কম কিছু নয়। আসলে লিওনেল মেসি মাঠে থাকলে সবই সম্ভব। হ্যাঁ, দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তন সম্ভব। শেষ বাঁশি না পড়া পর্যন্ত হার না মানা মানসিকতায় লড়াই করে যাওয়া সম্ভব। হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। যেমনটা হল মঙ্গলবার আটলান্টায়। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল আর্জেন্টিনা। একটা সময় ২ গোলে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা সংযুক্ত সময়ে গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল। ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল লিওনেল মেসিকেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খলনায়কের আসনে বসাতে হবে। যেভাবে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পেনাল্টি স্পট থেকে নির্বিষ শটে পত্রপাট মিশরের গোলরক্ষকের হাতে বলটি তুলে দিলেন, তাতে অতি বড় মেসি ভক্তও হতাশ হয়েছেন নিশ্চিত। আর শুধু ওই পেনাল্টি কেন, মেসি এদিন বারবার আটকে যাচ্ছিলেন প্রথমার্ধে। যেমনটা আটকে যাচ্ছিলেন তাঁর সতীর্থ আলভারেজ, এনজো ফার্নান্ডেজরা। উলটো দিকে মেসির প্রতিপক্ষের আসরে এদিন যিনি ছিলেন, সেই মহম্মদ সালাহ-তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য। বারবার প্রতি আক্রমণে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছিলেন। সালাহর তৈরি করা সুযোগে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। প্রথম গোল ১৫ মিনিয়ে রক্ষণভাগের ফুটবলার ইব্রাহিমের। ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল মোস্তাফার। ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল লিওনেল মেসিকেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খলনায়কের আসনে বসাতে হবে। যেভাবে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পেনাল্টি স্পট থেকে নির্বিষ শটে পত্রপাট মিশরের গোলরক্ষকের হাতে বলটি তুলে দিলেন, তাতে অতি বড় মেসি ভক্তও হতাশ হয়েছেন নিশ্চিত। আর শুধু ওই পেনাল্টি কেন, মেসি এদিন বারবার আটকে যাচ্ছিলেন প্রথমার্ধে। যেমনটা আটকে যাচ্ছিলেন তাঁর সতীর্থ আলভারেজ, এনজো ফার্নান্ডেজরা। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরকে যেন অভেদ্য প্রাচীর মনে হচ্ছিল। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে বারবার সালাহদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তিনি। উলটো দিকে মেসির প্রতিপক্ষের আসরে এদিন যিনি ছিলেন, সেই মহম্মদ সালাহ-তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য। বারবার প্রতি আক্রমণে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছিলেন। সালাহর তৈরি করা সুযোগে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। প্রথম গোল ১৫ মিনিটে রক্ষণ ভাগের ফুটবলার ইব্রাহিমের। ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল মোস্তাফার।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে এদিনও মাঠে ছিলেন লিওনেল মেসি নামের এক মহানায়ক। তিনি হাল ছাড়লেন না। বারবার আটকে যাওয়ার পরও বারবার মিশরের পিরামিডে আরোহণ করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন তিনি। প্রথম গোলটা তাঁর পা থেকে এল না ঠিকই। কিন্তু সতীর্থ রোমেরোর হেডারের জন্য বলটা সাজিয়ে দিলেন তিনিই। ততক্ষণে ম্যাচের ৭৯ মিনিট। তখনও এক গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। মুহুর্মুহু আক্রমণে মিশর রক্ষণ তখন ছিন্নভিন্ন। মিনিট চারেক বাদে ফের স্বমহিমায় ধরা দিলেন মেসি। ফের বাঁ-পায়ের চেনা শট জড়িয়ে গেল মিশরের জালে। বিশ্বকাপে তাঁর ২১ তম গোল। চলতি বিশ্বকাপে অষ্টম। দুটোই রেকর্ড। নির্ধারিত সময়ের ৭ মিনিট বাকি থাকতে সমতায় ফিরল আর্জেন্টিনা। অঝোরে কাঁদছেন লিয়োনেল মেসি। একের পর এক সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। চোখের জল থামছেই না। থামবে কী ভাবে। ১৫ মিনিট আগে তাঁর এক বারের জন্য হলেও মনে হয়েছিল, শেষ! সব শেষ! বিশ্বকাপ শেষ! সম্ভবত দেশের হয়ে খেলাও শেষ! কিন্তু তিনি কেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার তা আরও এক বার দেখালেন মেসি। একাই দলকে বাঁচিয়ে রাখলেন বিশ্বকাপে। খেলা শেষে মেসিকে যে ভাবে কাঁধে তুলে লাফালেন সতীর্থেরা, তাতে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি না থাকলে কী হত। সত্যিই, মেসি না থাকলে এই ম্যাচ জিততে পারত না আর্জেন্টিনা। কোনও ভাবেই না। অন্তত ০-২ পিছিয়ে পড়ার তো নয়ই।

দেখে মনে হচ্ছিল, মিশরের পিরামিডের উচ্চতা টপকাতে পারবে না গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। কিন্তু মেসি জানতেন, তিনি পারেন। তিনি পারলেনও। হারের মুখ থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। হেরেও মন জিতে নিল মিশর। মো সালাহ্‌দের খেলা মনে রাখবেন ফুটবল ভক্তেরা। কামব্যাকের গল্পটা লেখা তখনও বাকি ছিল। যে সময় মনে হচ্ছিল দু’গোল পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরালেও ৯০ মিনিটে খেলা শেষ করতে পারবে না আর্জেন্টিনা। ফের খেলা গড়াবে এক্সট্রা টাইমে। যেমনটা হয়েছিল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে। ঠিক সেসময় উদয় এনজো ফার্নান্ডেজের। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে লওটারো মার্টিনেজের ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজের হেডার। আবারও মিশরের জালে বল। ২-০ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটে ৩-২ গোলে জয় লা অলবেসেলেস্তের। রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজানোর পর অঝোরে কাঁদলেন মেসি। সতীর্থদের আলিঙ্গনে সেই কান্না যেন আরও বেড়ে গেল। আসলে তিনিও জানেন, একটুর জন্য তাঁর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়া থেকে বেঁচে গেল। তিনিও জানেন, এই কামব্যাকের কাহিনী রোজ লেখা যায় না। আপাতত আর্জেন্টিনার নজর কোয়ার্টার ফাইনালে। চলতি বিশ্বকাপে জোড়া পেনাল্টি ফস্কালেন মেসি। পেনাল্টি মিস করলেও গোল পেলেন লিও মেসি। এনজো ফার্নান্দেজের দুরন্ত হেডে পিছিয়ে থেকেও এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। ফিনিক্স পাখির মতো কামব্যাক করলেন মেসিরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন‍্যতম সেরা প্রত‍্যাবর্তন! টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয় থেকে আর মাত্র তিন ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles